চার বছরেও ওয়াসার কাছে হস্তান্তর হয়নি কেসিসির অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প

মানবকণ্ঠ
ওয়াসার কাছে হস্তান্তর হয়নি কেসিসির পানি সরবরাহ প্রকল্প - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • আলমগীর হান্নান, খুলনা ব্যুরো
  • ১৪ নভেম্বর ২০১৯, ১২:২৮

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের ৪০ কোটি টাকার অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প গত চার বছরেও খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হয়নি। জেলার ফুলতলা থেকে পাইপ লাইনের মাধ্যমে নগরীর ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড পর্যন্ত এলাকায় পানি সরবরাহ করার জন্য এই প্রকল্প শুরু হয়। কিন্তু মামলা জটিলতায় প্রকল্পটি মাঝ পথে থেমে যায়। এরপর পানি সম্পদ মন্ত্রনালয় থেকে প্রকল্পটি খুলনা ওয়াসাকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হলেও তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

এদিকে দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় নষ্ট হয়েছে প্রকল্পের জন্য ক্রয় করা অনেক সরঞ্জামাদি। স্থাপনাগুলোও অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

তবে খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষ বলছে, মন্ত্রনালয়ের আদেশ বাস্তবায়ন করার জন্য কেসিসির কাছ থেকে অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প বুঝে নেয়ার কাজ শুরু হয়েছে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, নগরীর ১ থেকে ১০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকার জনগণকে সুপেয় পানি সরবরাহ করার জন্য ২০০২ সালে অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পের আওতায় ফুলতলা উপজেলার ভৈরব নদ থেকে পাইপ লাইনে পানি সরবরাহ করার করার কার্যক্রম শুরু হয়। ৪০ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করার জন্য স্থাপন করা হয় পাইপ লাইন। যা নগরীর গোয়ালখালী পর্যন্ত স্থাপন করা হয়। ক্রয় করা হয় ২০ টি পাম্প, জেনারেটর, কন্ট্রোল বোর্ড, বিভিন্ন ব্যাসের পাইপ, নির্মান করা হয় পাম্প হাউজসহ বিভিন্ন স্থাপনা। নগরীর আফিল গেটে স্থাপন করা হয় কন্ট্রোল হাউজ। ২০০৫ সালের মধ্যে প্রকল্প শেষ করার কথা থাকলেও ফুলতলাবাসীর পক্ষ থেকে আদালতে প্রকল্প বন্ধ করার জন্য আদালতে রিট করা হয়। উচ্চাদালতে করা রিটটি পরবর্তীতে খারিজ হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, আদালতে রিট খারিজ হয়ে যাবার পর মন্ত্রনালয় থেকে প্রকল্পটি খুলনা ওয়াসার কাছে হস্তান্তর করার জন্য ২০১৫ সালে নির্দেশ দেয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে গত চার বছরেও প্রকল্পটি খুলনা ওয়াসায় হস্তান্তর করা হয়নি।

কেসিসির একটি সূত্র জানায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়নকালে ব্যাপক অনিয়ম করা হয়। বিশেষ করে জেনারেটর, পাম্প এগুলো ক্রয়েই বেশী অনিয়ম করা হয়। ফলে কেসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রকল্পটি হস্তান্তরে গড়িমসি করেন। প্রকল্পের সব অর্থও সে সময় খরচ করা হয়নি বলেও কেসিসি সূত্র জানায়।

এই প্রকল্পের জন্য স্থাপন করা ২০ টি পাম্প হাউজ পরিণত হয়েছে ভাগাড়ে। সেখানে পানি উত্তোলনের জন্য পাইপও বসানো রয়েছে। হাউজ গুলোর জানালা দরজা খুলে নিয়ে গেছে রাতের আধারে।

সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন প্রকল্পটি খুলনা ওয়াসা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরই সূত্রধরে ওয়াসা কর্তৃপক্ষ ২০ পাম্পের মধ্যে ইতিমধ্যে ৬টি পাম্প পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে। তবে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি বলে সূত্র জানিয়েছে।

একটি পাম্পে ঘন্টায় ৭৫ হাজার লিটার পানি ওঠার কথা থাকলেও বর্তমানে উঠছে ৫০ হাজার লিটার।

এব্যাপারে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের মাঝ পথে আদালতে রিট আবেদন হয় প্রকল্পটি বন্ধ করার জন্য। কিন্তু সেই আবেদন খারিজ হয়ে গেলেও নানা কারনে প্রকল্পটি খুলনা ওয়াসায় হস্তান্তর করা হয়নি। তিনি বলেন, কাজ শেষ না হওয়ায় এখনও কিছু অর্থ আছে। তবে যতটুকু কাজ হয়েছে ততটুকু ভালোবাভেই সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে হস্তান্তরে দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়ে কোন কিছু বলতে চাননি তিনি।

খুলনা ওয়াসার ডিএমডি কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা এখনও প্রকল্প বুঝে নিতে পরিনি। অন্তর্বর্তীকালীন পানি সরবরাহ প্রকল্পের জন্য যে সব স্থাপনা ও বোরিং করা হয়েছিলো তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, কেসিসি ও ওয়াসার কর্তৃপক্ষের বৈঠকের পর এই প্রকল্প হস্তান্তর ও গ্রহণের কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ওয়াসা ওই প্রকল্পের ৬ টি পাম্প পরীক্ষা করেছে। বাকীগুলো পরীক্ষার পর্যায় রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...