সিডিএ চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে কোটিপতি যুবলীগ নেতা

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সিডিএ চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে কোটিপতি যুবলীগ নেতা
সিডিএ চেয়ারম্যানের নাম ভাঙিয়ে কোটিপতি যুবলীগ নেতা - ফাইল ছবি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৯ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪৪

কিছুই ছিল না তার। নুন আনতে পানতা ফুরায় অবস্থা। নিজেকে পরিচয় দিতেন ছাত্রনেতা হিসেবে। কিন্তু কোনো পদ-পদবি ছিল না। বর্তমানে নিজেকে যুবলীগ নেতা পরিচয় দিলেও এখনো নেই কোনো পদ-পদবি। তবে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সঙ্গে পরিচয়ের পর খুলে যায় তার কপাল। যেন হাতে আসে আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ। কয়েক বছরেই বনে যান কোটি টাকার মালিক!

যার কথা বলা হচ্ছে তার নাম মো. জসিম উদ্দিন। থাকেন চট্টগ্রাম নগরের মোহরা ওয়ার্ডের সিএন্ডবি এলাকায়। বর্তমানে তিনি চান্দগাঁও মাঝির পাড়ায় অবস্থিত শাপলা ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক। যে ক্লাবটিতে প্রায়ই জুয়ার আসর বসে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, জসিম এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা হলেও সম্পত্তি বলতে তেমন কিছুই ছিল না। অতীতে সে নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা দাবি করত। কিন্তু মহানগর কিংবা ওয়ার্ড ছাত্রলীগে তার কোনো পদ ছিল না। একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা হওয়ায় সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল। ২০০৯ সালের ২৩ এপ্রিল প্রথমবারের মতো সিডিএর চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব নেন আবদুচ ছালাম। মূলত তখন থেকেই এলাকায় বাড়তে থাকে জসিমের প্রভাব। ছালামের নাম ভাঙিয়ে একের পর এক অপকর্ম শুরু করেন। ছালামের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এলাকাবাসীও তার বিরুদ্ধে কিছু বলত না। ছালামের প্রভাব খাটিয়ে থানা পুলিশকেও ম্যানেজ করে রেখেছিল জসিম।

জানা যায়, আবদুচ ছালাম সিডিএ চেয়ারম্যান হওয়ার পর এলাকায় জমি দখল, পতিতা ও মাদক ব্যবসাসহ সব ধরনের অপকর্মের শিরোমনিতে পরিণত হন জসিম। সিডিএর নাম ভাঙিয়ে চান্দগাঁও মাঝির পাড়া, সিএন্ডবি ও বাহির সিগন্যাল এলাকায় তিনটি প্লট দখল করে নেন। এ প্লটগুলোতে ছোট ছোট ঘর ও দোকান তুলে গড়ে তোলেন কলোনি। যেগুলোর ভাড়া থেকে মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা আসে তার পকেটে। জমি দখলের পাশাপাশি জুয়া আর মদের ব্যবসাও আছে জসিমের। শাপলা ক্লাবে প্রতিনিয়তই বসে জুয়া ও মদের আসর। সরকারের ক্যাসিনো ও জুয়া বিরোধী অভিযানের পরও ক্লাবটিতে জুয়া ও মদের আসর বসছে প্রায়ই। এ জুয়া থেকেও জসিমের প্রচুর আয় হয়। এ জুয়ার টাকা দিয়েই সিএন্ডবি এলাকায় পাঁচ তলা একটি ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু করেছেন জসিম। যেটি নির্মাণে প্রায় কোটি টাকা খরচ হচ্ছে বলে জানা গেছে। এদিকে খবর নিয়ে জানা যায়, জসিমের ছোট ভাই সাইফুদ্দিন সাইফু ওয়ার্ড জামায়াত নেতা। তার বিরুদ্ধে চান্দগাঁও থানায় ৩টি নাশকতার মামলা রয়েছে। ২০১৫ সালে হরতালে বোমা মারতে গিয়ে পুলিশের কাছে ধরা পড়েন সাইফু। নিজের ও ভাইয়ের এসব অপকর্ম ঢাকার জন্য জসিম ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন আবদুচ ছালামকে। যে কোনো অনুষ্ঠানে ছালামের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে ছবি তুলে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড দেন। এলাকাবাসীকে সেগুলো দেখিয়ে নিজেকে ছালামের ঘনিষ্ঠ মানুষ হিসেবে পরিচয় দেন। সাধারণ মানুষও ভয়ে আর কিছু বলার সাহস পায় না।

সিএন্ডবি এলাকার চায়ের দোকানদার সুমন মিয়া মানবকণ্ঠকে বলেন, জসিমের লোকজন প্রতিদিন এসে আমার কাছ থেকে ৫০ টাকা চাঁদা নিয়ে যায়। চাঁদা না দিলে এখানে ব্যবসা করতে দেবে না বলে হুমকি দেয়। জসিম যেহেতু ছালাম সাহেবের লোক তাই তাকে চাঁদা দিয়েই এখানে ব্যবসা করছি। এতসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জসিম উদ্দিন মানবকণ্ঠকে বলেন, ছালাম সাহেব আমার নেতা সেটা ঠিক আছে। কিন্তু তার নাম ভাঙিয়ে আমি কিছু করিনি। আমার ব্যবসা আছে। আমি কোনো অনিয়মের সঙ্গে নেই। শাপলা ক্লাবে জুয়ার আসর সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখানে জুয়া খেলার প্রশ্নই আসে না। এটি একটি সামাজিক ক্লাব।

জসিমের নানা অপকর্মের বিষয়ে সিডিএর সাবেক চেয়ারম্যান আবদুচ ছালামকে মুঠোফোনে অনেকবার ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মানবকণ্ঠ/এআইএস




Loading...
ads





Loading...