ঘূর্ণিঝড় বুলবুল

রাস উৎসব বন্ধ, ফিরিয়ে আনা হচ্ছে জেলে-পর্যটকদের

মানবকণ্ঠ
ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় বাগেরহাটে মাইকিং - ছবি: প্রতিনিধি

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৮ নভেম্বর ২০১৯, ১৮:৪২

ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে বাগেরহাটে বৃষ্টির তীব্রতা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বুলবুল এর প্রভাবে সুন্দরবনের শত বছরের ঐতিহ্যবাহী রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সুন্দরবনের দুবলা শুটকি পল্লীর ১৫ হাজার জেলেসহ সুন্দরবনের অবস্থানরত পর্যটকদের ফিরিয়ে আনতে কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। 

সভায় জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জেলার ২৩৪টি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্র, ১০টি মেডিকেল টিম, ১০টি কন্টোল রুম ও জেলার সব সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।এছাড়াও রেড ক্রিসেন্ট, ফায়ার সার্ভিস ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কয়েক শত স্বেচ্ছাসেবকদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় পুলিশ সুপার পংকজ চন্দ্র রায়, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাসহ সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবেলায় জনসাধারণদের সচেতন করতে জেলাব্যাপী মাইকিং শুরু করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল ধেয়ে আসার খরবে বাগেরহাটসহ সুন্দরবন উপকূলীয় এলাকা জুড়ে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।

শুক্রবার সকাল থেকেই উপকূলসহ বাগেরহাটে বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া বইতে শুরু করেছে। ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল হয়ে উঠেছে। আছড়ে পড়ছে বিশাল-বিশাল ঢেউ। বইছে ঝড়ো হাওয়া। ঘূর্ণিঝড়ের আগাম প্রস্তুতি হিসেবে সুন্দরবনের দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পাশাপাশি বনের ভ্রমণে থাকা পর্যটকটের ফিনিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সুন্দরবনে দুবলারচরে শুঁটকি পল্লীতে অবস্থারত ১৫ হাজার জেলেকে ফিরিয়ে আনতে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসন কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সাথে সমন্ময় করে কাজ করছে।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে রাস পূর্ণিমাকে সামনে রেখে ১০ নভেম্বর থেকে সুন্দরবনের আলোরকোলে শুরু হতে যাওয়া তিনদিনব্যাপী রাস উৎসব বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। সুন্দরবন বিভাগের সকল কর্মকর্তা ও বনরক্ষীদের নিরাপদ থেকে বণ্য প্রাণি রক্ষায় কাজ করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

অপরদিকে, ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলায় মোংলা সমুদ্র বন্দরে খোলা হয়েছে তিনটি কন্ট্রোল রুম। বন্দরে এই মুহূর্তে মেশিনারি, ক্লিংকার, সার, জিপসাম, পাথর, সিরামিক ও কয়লাসহ দেশি-বিদেশি মোট ১৪টি বাণিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করছে। এসব জাহাজে পণ্য খালাসে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

পূর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান জানান, ‘ঘূর্ণিঝড়ের অবস্থান পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অবস্থা প্রতিকূল হলে দুবলার চরে জেলেদের মাছ ধরার অনুমতি দেয়া হবে না। এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরবি




Loading...
ads





Loading...