এবার যুবলীগ সহ-সম্পাদক সোহাগ’র বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ

মানবকণ্ঠ
জমি দখলের অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে - ছবি : প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৫ অক্টোবর ২০১৯, ১৬:৫৭

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আল সাইফুল সোহাগ’র বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের নির্দেশে তদন্তে কেঁচো খুড়তে সাপ বেড়িয়ে পড়ার তথ্য উঠে এসেছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার সোনাপাড়া মৌজার জেএল ৩৮ এর বিএস ৫৩৪৬ ও ৫৩৪২ দাগের সরকারের ১ নং খাস খতিয়ানের তিন একর জমি তিনি দলীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে অন্যায়ভাবে দীর্ঘদিন দখলে রেখে মাছের ঘের করার তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি তহশিলদার মো: কামরুল ইসলাম।

এর আগে যুবলীগ সহ-সম্পাদক সোহাগ’র বিরুদ্ধে প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় ’যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন’র নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন শনিবার বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে। এসময় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এসএম রাকিবুল আহসান, কলাপাড়া ইউএনও মো: মুনিবুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ যুবলীগ নেতা সোহাগ ও ভুক্তভোগী পাঁচ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে কলাপাড়া ভূমি অফিস সূত্র জানায়, উপজেলার সোনাপাড়া মৌজার ৩১৯২ দাগে ১.৫০ একর এবং ৩১৮০ দাগে ০.৩০ একর ও ৩১৯২ দাগে ১.২০ সহ মোট তিন একর জমি বন্দোবস্ত পেতে জেলা প্রশাসকের কাছে যথাক্রমে ৪৭৩-কে/৮৬-৮৭ ও ৪৫২-কে/৮৬-৮৭ কেস মূলে আবেদন করেন স্থানীয় ফিরোজ, পিতা-হোচেন আলী ও নুর উদ্দীন, পিতা-বাদশা মোল্লা। জেলা প্রশাসক কেস দু’টির অনুমোদন দেয়ার পরও বন্দোবস্ত গ্রহীতারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এটি রেজিষ্ট্রী কবুলিয়ত পেতে আবেদন না করায় এটি রেজিষ্ট্রী না হওয়ায় ফিরোজ ও নুর উদ্দীন’র অনুকূলে স্থানীয় ভূমি অফিসে তাদের নামে নতুন খতিয়ান সৃজন না হওয়ায় ওই তিন একর জমি এসএ জরিপে সরকারের খাস খতিয়ানে এবং সর্বশেষ বিএস জরিপেও সরকারের খাস খতিয়ানে রেকর্ড ভুক্ত থাকে। এতে বর্তমানে ওই তিন একর জমির মালিক সরকারের পক্ষে পটুয়াখালী জেলা কালেক্টর বলে জানিয়েছেন উপজেলা ভূমি অফিস সার্ভেয়ার মো: আনিচুর রহমান।

আরো পড়ুন: সোহাগ’র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ। 

কলাপাড়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) অনুপ দাশ বলেন, উপজেলার সোনাপাড়া মৌজায় যুবলীগ নেতা সোহাগ’র নামে লীজ নেয়া জমি পূর্বেই বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তার মাছের ঘেরের অনুকূলে তার কোন মালিকানা স্বত্তেও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে মাছের ওই ঘেরের জলাশয় ও জমির মালিকানা সরকারের। এছাড়া ওখানে সরকার পাঁচ ভূমিহীন পরিবারকে সাড়ে ৭ একর জমি বন্দোবস্ত দিয়েছে। কিছুদিনের মধ্যে তাদের সম্পত্তি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারন করে দেয়া হবে। বিরোধপূর্ণ এজমি নিয়ে যুবলীগ নেতা সোহাগ স্থানীয় ভূমি অফিস তহলিশদার কামরুল সহ বন্দোবস্ত পাওয়া ভূমিহীন পরিবারের নামে তার লোক দিয়ে জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে সি.আর-৭৯৬/২০১৯ মামলা করিয়েছে, যা উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয়ের কাছে তদন্তাধীন আছে।

আরো পড়ুন: সোহাগের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের তদন্ত শুরু। 

কলাপাড়া ইউএনও মো: মুনিবুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশে যুবলীগ নেতার জমি দখলের অভিযোগের তদন্তের জন্য শনিবার বিরোধপূর্ণ জমিতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান মহোদয় ও এসি ল্যান্ড এ সময় উপস্থিত ছিলেন। যুবলীগ নেতা সোহাগ’র ওই জমিতে কোন মালিকানা না থাকায় তাকে ওই জমির দখল ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া এসি ল্যান্ডকে বন্দোবস্ত পাওয়া পাঁচ পরিবারের জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দিতে বলা হয়েছে। ইনাদের বিরুদ্ধে ঢাকা, পটুয়াখালী ও কলাপাড়ায় দায়ের করা ১১টি মামলা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি বিজ্ঞ আদালতের এখতিয়ার।

আরো পড়ুন: দলের নাম ভাঙিয়ে বিত্ত-বৈভবে টৈটম্বুর কেন্দ্রীয় যুবলীগ সহ-সম্পাদক সোহাগ। 

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সম্পাদক এস এম রাকিবুল আহসান বলেন, মাছের ঘেরের ওই জলাশয় জনসাধারণের জন্য উম্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সোহাগকে তার মাছ ধরে নিয়ে ঘেরের সরঞ্জামাদি সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে। এছাড়া জলাশয়ের পাশে কেটে দেয়া বাঁধের ওপর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে একটি কালভার্ট করে দেয়া হবে। ভূমি অফিস ইনারাদের জমি শুস্ক মৌসুম এলে পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণ করে দেবে।

প্রসংগত, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯ কলাপাড়া প্রেসক্লাবে যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামিম আল সাইফুল সোহাগ’র বিরুদ্ধে ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙ্গিয়ে জমি দখলের অভিযোগ এনে ভুক্তভোগী পাঁচ পরিবারের পক্ষে সংবাদ সম্মেলন করেন ইনারা বেগম। বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯ স্মারক নম্বর: ৩১.১০.৭৮০০.০০৯.০৬.০৩০.১৯-১৪১৪ আরডিসি উম্মে হাবিবা মজুমদার স্বাক্ষরিত কলাপাড়া ইউএনওকে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে অবগত করার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads





Loading...