খুলনায় ‘জমি আছে, ঘর নেই’ প্রকল্পের ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন ইউপি চেয়ারম্যান


poisha bazar

  • ব্যুরো অফিস, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:৩১

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান ঘর বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে এক ব্যাক্তির কাছ থেকে নেওয়া ঘুষের ১০ হাজার টাকা ফেরত দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে এ টাকা ফেরত দেন তিনি। এর আগে প্রকল্পের নীতিমালা বহির্ভূতভাবে ঘর দেওয়ায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়।

ভুক্তভোগী আলী হাওলাদার অভিযোগ করেন, ফিরোজা নামে একজন ইউপি সদস্য ঘর দেওয়ার আগে চেয়ারম্যানের নাম করে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। ঘর নির্মাণের মালামাল পরিবহনের নামে এ টাকা নেওয়া হয়। ঘর ভেঙে দেওয়ার সময় চেয়ারম্যানের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি পরে দেবেন বলে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ইউএনও’র নির্দেশে টাকা ফেরত দেন তিনি। আলী হাওলাদার বলেন, ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রান তহবিলের ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকার আলী হাওলাদারকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে তার কাছ অগ্রীম ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহন করেন। পরে ওই প্রকল্পের আওতায় তাকে একটি ঘর তৈরী করে দেওয়া হয়। আলী হাওলাদার এ প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরী হয়। এক পর্যায়ে আলী হাওলাদারের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার কথা জানাজানি হয়ে যায়। এ ব্যাপারে আলী হাওলাদার নিজেই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্বীকার করে। অভিযোগ পেয়ে ইউএনও বৃহস্পতিবার ওই ঘরটি ভেঙে দেন এবং ঘুষের টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত লোকজনের সামনে আলী হাওলাদারকে ফেরত দেওয়া হয়।

ইউএনও মোঃ হাফিজ আল আসাদ বলেন, প্রকল্পটি আমার যোগদানের আগেই শুরু হয়েছে। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ি ওই ব্যাক্তি ঘর পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় সেটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ঘুষের টাকা ফেরত প্রসংগে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে স্থানীয় এক মহিলা মেম্বর ওই ব্যাক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। সেই টাকা তাকে ফেরত দেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে ইউপি আনিছুর রহমান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ি ওই ব্যাক্তি ঘর পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত প্রসংগটি তিনি অস্বীকার করে বলেন, ওই সময় আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।

এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত মঙ্গলবার ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পেয়ে তদন্ত করেন এর সত্যতা পান। এছাড়া ওই প্রকল্পের আওতায় ঘর পাইয়ে দেওয়া কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এলাকায় ঝাড়ু মিছিল করে ভুক্তভোগী মানুষ। টাকা দিয়েও ঘর না পেয়ে ওই এলাকার বাসিন্দারা খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে ঘর পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে প্রায় দুই শত লোকের কাছ থেকে মাথা পিছু ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

মানবকণ্ঠ/টিএইচ






ads