কাব শিশুদের কলকাকলীতে মুখরিত গাজীপুরে মৌচাক আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরী


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১০ অক্টোবর ২০১৯, ১৯:২৪

প্রাকৃতিক পরিবেশ ঘেরা শাল-গজারী বন পরিবেষ্টিত মনোরম পরিবেশ ও ঐতিহ্যবাহী দশর্নীয় স্থান গাজীপুরের মৌচাকে অবস্থিত জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র এখন কাব শিশুদের কলকাকলীতে মুখরিত। ৪র্থ ঢাকা আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরীর মাঠে সকাল থেকে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন স্থান থেকে কাব স্কাউটরা তাদের কাব স্কাউট শিক্ষকদের সাথে আসা শুরু করে। এরপর তারা তাদের জন্য বরাদ্দকৃত তাঁবুটিকে বাসযোগ্য করে প্রস্তুত করে। উল্লেখ্য, স্কাউটিং এর নিয়ম অনুযায়ী ষষ্ঠক পদ্ধতিতে অর্থাৎ ৬ জন করে কাব তাদের কাব শিক্ষকসহ তাবুঁতে বসবাস করবে। এই কাব ক্যাম্পুরীতে ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ ঢাকা বিভাগের ১৪টি জেলার প্রায় ৩,৫০০ জন কাব, কাব লিডার ও কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করবে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটনসহ ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন জেলা থেকে কাব স্কাউট, কাব স্কাউট লিডার ও কর্মকর্তাগণ ক্যাম্পুরী ময়দানে উপস্থিত হয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৪ টায় মুক্তিযুদ্ধ বিষযক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে কাব ক্যাম্পুরীর উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশ স্কাউটস এর সভাপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ অনুষ্ঠানে প্রধান স্কাউট ব্যক্তিত্ব, ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ জয়নুল বারী বিশেষ অতিথি হিসেবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এর চেয়ারম্যান ও সভাপতি বাংলাদেশ স্কাউটস ঢাকা অঞ্চল।

ক্যাম্পুরী হচ্ছে কাব স্কাউটদের বৃহত্তম মিলনমেলা। এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করে কাব স্কাউটরা খেলাচ্ছলে শিক্ষা গ্রহণ করে থাকে। বাংলাদেশ স্কাউটস দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গামী ছয় থেকে এগার বছর বয়সী বালক-বালিকাদের কাব স্কাউটিং এর মাধ্যমে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীল, সেবার মন্ত্রে দীক্ষা, ন্যায়পরায়নতা, মানবতা এবং মূল্যবোধের উন্মেষ ঘটিয়ে সুনাগরিক গড়ার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আর এই কাব ক্যাম্পুরীর মূল প্রতিপাদ্য “আমাদের চেষ্টা, সুন্দর হবে দেশটা” যা অত্যন্ত সময়োপযোগী।

এই মূল প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ক্যাম্পুরীতে অংশগ্রহণকারী কাব স্কাউটদের জন্য ১০টি কার্যক্রমে নিজেদেরকে উপস্থাপন করার সুযোগ পাবে, যা দুরন্ত নামে অভিহিত করা হয়েছে। ‘দূরন্ত’ গুলো হলো-
১. কিচির মিচির (প্রতিদিন সকালে শরীর চর্চা)
২. কাবের বাড়ি (তাঁবু কলা ও তাঁবুর যত্ন)
৩. অদম্য যাত্রা (রোম কর ও আকর্ষণীয় অভিযাত্রা)
৪. রাজার দেশে (কাব কার্নিভাল)
৫. খেলব ঐতিহ্যে (দেশী ও বিদেশী দলীয় খেলা)
৬. মেধার বিকাশ (মৌখিক সংবাদ প্রেরণ ও চিত্রকলা)
৭. আমাদের নৈপুন্য (কাগজ/রঙ/পাতা/কাঠ/বাঁশ/পরিত্যক্ত দ্রব্যাদির মাধ্যমে নতুন উদ্ভাবন)
৮. উদ্যম (নমুনা প্যাক মিটিং)
৯. স্মৃতির পাতায় (সাদা ক্যানভাসে আকেলা তার কাবদের নিয়ে কার্টুন, প্রকৃতি, দেশ ও নকশা ফুটিয়ে তুলবে)
১০. ক্যাম্প ফায়ার (তাঁবু জলসা)।

এই প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে একজন কাব স্কাউট নিজের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা দক্ষতা ও সামর্থ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করতে সক্ষম হবে এবং একই সাথে খেলার ছলে সে জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবে। এগিয়ে যাবে জীবনের বৃহৎ পরিসরে।

আগামী ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ তারিখ, সন্ধ্যা ৭.০০ টায় মহা তাঁবুজলসা ও সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হবে এই মিলনমেলা। মহা তাঁবুজলসা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার (সমাজ উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য) জনাব মো. শাহ কামাল প্রধান অতিথি হিসেবে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের জাতীয় কমিশনার (প্রকল্প) জনাব মো. মোহসীন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকতে সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক, গাজীপুর ও সভাপতি, বাংলাদেশ স্কাউটস, গাজীপুর জেলা জনাব এস এম তরিকুল ইসলাম সভাপতিত্ব করবেন।

আগামী ১৫ অক্টোবর অংশগ্রহণকারী সকলে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র মৌচাক ময়দান ত্যাগ করবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads




Loading...