কলাপাড়ায় জিরো টলারেন্স অভিযান নিয়ে আতঙ্ক

মো. গোফরান পলাশ, কলাপাড়া

মানবকণ্ঠ
কলাপাড়ায় জিরো টলারেন্স অভিযান নিয়ে আতঙ্ক - ছবি : প্রতিবেদক।

  • ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১২:০৮

ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা পদ-পদবীর প্রভাব খাঁটিয়ে অনিয়ম-দুর্নীতি করা এবং আখের গোছানোর বিরুদ্ধে সরকারের চলমান ‘জিরো টলারেন্স’ অভিযান আতঙ্কে রয়েছেন অপরাধী ও দুর্নীতিবাজ লোকজন। দক্ষিণাঞ্চলের পর্যটন এলাকা কুয়াকাটা, কলাপাড়া, মহিপুর ও পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকায় দলের নাম ভাঙিয়ে চলা অপরাধী ও দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মী এবং চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ, অস্ত্রবাজ, ভ‚মিদস্যু, দলে অনুপ্রবেশকারী হয়ে স্বার্থ হাসিলে ব্যস্ত নেতাসহ দলের প্রভাবশালীদের মদদে গড়ে ওঠা একাধিক কিশোর গ্যাং গ্রুপও আতঙ্কে রয়েছেন। কার ওপর কখন খড়গ নেমে আসে এ ভয়ে ভীত হয়ে পড়েছেন তারা। দলের ক্লিন ইমেজ রক্ষায় শুদ্ধি অভিযান সফল করতে শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে ইতোমধ্যে সারাদেশে একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে তালিকা তৈরিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাধীনতার পর থেকে পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনে নির্বাচনী এলাকার মানুষ শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীককে বারবার নির্বাচিত করছে। তাই সরকার প্রধান হিসেবে শপথ নেয়ার পর থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নে দেশের তৃতীয় সমুদ্র বন্দর পায়রা, শের-ই-বাংলা নৌ-ঘাঁটি, কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন এলাকা, একাধিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল সেতু, লেবুখালী সেতু, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সেতু, টিয়াখালী সেতু, দক্ষিণাঞ্চলে বুলেট ট্রেন সার্ভিস, বিমানবন্দর স্থাপনসহ কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু করে দেশের তথা দক্ষিণ এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

দলের নাম ভাঙিয়ে আখের গোছানোদের নামের তালিকা দলের তৃণমূলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মুখে শোনা যাচ্ছে। এর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমান, বোন জামাই মজিবর, ভাগ্নে রুহুল আমিন, ভাগ্নে জামাই আবু সালেহ, সালেহর ছোট ভাই ইউসুফ ও বোন জামাই অধ্যক্ষ আবু সাইদ, নাতিন জামাই প্রভাষক লাল বাচ্চু, ভাই ঝি জামাই কবির, মাহবুব অনুসারী ধূলাসার আওয়ামী লীগ নেতা জলিল মাস্টার, ভ‚মিদস্যু রিপন, জামাল মেম্বার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি ফিরোজ সিকদার, মহিপুর থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি হারুন তালুকদার, রাঙ্গাবালী যুবলীগ সভাপতি হুমায়ুন তালুকদার, কলাপাড়া শহর যুবলীগ সভাপতি জাকি হাসান জুকু, তার ছোট ভাই শহর ছাত্রলীগ সভাপতি খায়রুল হাসনাত খালিদ, উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুজন মোল্লা, তার মেজ ভাই জামাল মোল্লা, ছোট ভাই সোহাগ মোল্লা, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক প্রভাষক ইউসুফ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মাহবুবুর রহমানের এপিএস শামিম আল সাইফুল সোহাগ, পিও সজল, শামিমুজ্জামান কাশেম, দলে অনুপ্রবেশকারী মাওলানা হাবিবুর রহমান, কুদ্দুস সার্ভেয়ার, নিজাম ঠিকাদার, বাচ্চু গাজী প্রমুখ।

দলে ফের অনুপ্রবেশ ঘটেছে আনোয়ার হাওলাদার, বাচ্চু মীরা, মকবুল দফাদার, প্রভাষক শাহালম, টেনু মৃধা, দেলোয়ার মেম্বর, মাসুদ নিজামীদের। স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এদের জনপ্রিয়তা না থাকলেও এরা অলৌকিকভাবে দিন দিন আরো প্রভাবশালী নেতা হয়ে উঠছেন।

কলাপাড়ায় দলের অপরাধী, দুর্নীতিবাজ, টেন্ডারবাজ, জুয়াড়ি, সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু, মাদক কানেকশনে থাকা নেতাকর্মী, ক্যাডার, দলের নাম ভাঙিয়ে রাতারাতি কোটিপতি বনে যাওয়া ব্যক্তিসহ দলে অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সাধারণ জনগণের দাবি।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads