• বৃহস্পতিবার, ২৮ জানুয়ারি ২০২১
  • ই-পেপার

এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি!

মানবকণ্ঠ
এক স্ত্রীকে নিয়ে দুই স্বামীর টানাটানি! - মানবকণ্ঠ।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১০:২৯

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের যবসেন গ্রামের এনায়েত পাইক (৭০) পঁচিশ বছর দাম্পত্য জীবন কাটানো স্ত্রী মেনোকাকে ফিরে পেতে প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। মেনোকা কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি গ্রামের সোমেদ শেখের মেয়ে।

ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ গতকাল মঙ্গলবার এনায়েত ও তার স্ত্রী দাবিদার মেনোকা ও মেনোকার বর্তমান স্বামী আগৈলঝাড়া উপজেলার গৈলা ইউনিয়নের নগরবাড়ি গ্রামের মৃত তালেব খানের ছেলে হাকিম খানকে (৫৫) থানায় ডেকে আনেন। তাদের উভয় পক্ষকে বিয়ের পক্ষে সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র জমা দেয়ার নির্দেশ দেন এসআই জামাল হোসেন।

মেনোকার প্রথম স্বামী এনায়েত পাইক বলেন, তার প্রথম স্ত্রী মারা যাবার দুই বছর পর স্বামী পরিত্যক্তা মেনোকাকে বিয়ে করেন। ২৫ বছরের দাম্পত্য জীবনে তাদের সংসারে এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। গত তিন বছর পূর্বে মেয়ে বিয়ে দিয়ে ৮/১০ বছরের ছেলে নিয়ে মেনোকা বেকারী ব্যবসায়ী হাকিম খানের সঙ্গে অবৈধভাবে বসবাস করে আসছে। মেনোকা তাকে কোনোরকম তালাক না দিয়ে অন্যজনের সঙ্গে অবৈধভাবে বসবাস করে দেশের প্রচলিত আইন ও শরিয়াবিরোধী কাজ করছে। হাকিম খানের সঙ্গে বসবাস করলেও বাকাল ইউনিয়ন পরিষদের ভিজিডি চাল গ্রহণের সুবিধাভোগীর তালিকায়ও মেনোকার স্বামীর নাম এনায়েত পাইক লেখা নাম রয়েছে বলে তিনি জানান। এনায়েত পাইক বলেন, মেনোকাকে ফিরে পেতে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, থানার ওসি, বাকাল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং গৈলা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানকেও লিখিত দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে হাকিম খান ও মেনোকা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে জানান, ২০১৬ সালের ২ জুন কোটালীপাড়া উপজেলার বান্ধাবাড়ি ইউনিয়নের বিবাহ রেজিস্ট্রার কাজী আব্দুস সামাদ খান মেনোকার বাবা ছোমেদ শেখের উপস্থিতিতে দুই লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করা কাবিনের রেজিস্ট্রারের সত্যায়িত কপি প্রদর্শন করেন। একই বছর ১৫ ফেব্রুয়ারির পূর্বের স্বামী এনায়েত পাইককে মেনোকা তালাক দিয়েছেন বলে জানান। কিন্তু তালাকের পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি মেনোকা।

কোটালীপাড়া বান্ধাবাড়ি ইউনিয়ন নিকাহ্ রেজিস্ট্রার নাছির উদ্দিন খান বলেন, তার বাবা কাজী আব্দুস সামাদ খান ২০১৬ সালে অবসরে যাওয়ায় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে সরকারিভাবে বিয়ে রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে তিনি নিযুক্ত হন। ২০১৬ সালের ২ জুন তার বাবার সঙ্গে তিনিও উপস্থিত থেকে হাকিম খান ও মেনোকার বিবাহ সম্পন্ন করান। রেজিস্ট্রার দেখতে চাইলে নাসির জানান, তার বাবার আমলের সকল ভলিউম গোপালগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে। গোপালগঞ্জ জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের রেকর্ড কিপার নাজমা বেগম জানান, উল্লেখিত তারিখে মেনোকা ও হাকিম খানের বিয়ের কোনো রেকর্ড রেজিস্ট্রার বহিতে নেই। এমনকি ওই সময়ে মেনোকার কোনো তালাকও নেই।

বাকাল ইউপি চেয়ারম্যান বিপুল দাস জানান, তিনি মেনোকাকে ভিজিডি কার্ড দেননি। পূর্ববর্তী ইউএনওর সুপারিশে এনায়েত পাইকের স্ত্রী হিসেবে মেনোকা ভিজিডি কার্ড উত্তোলন করছে। চাল উত্তোলন করে এনায়েতকে অর্ধেক দেয়া হয় আর অর্ধেক মেনোকা নেয় বলে তিনি জানেন। এসআই জামাল হোসেন জানান, উভয় পক্ষকে থানায় বিয়ের সপক্ষে কাগজপত্র নিয়ে আসার জন্য বলা হয়েছে। তাদের কাগজপত্র দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে। আগৈলঝাড়া থানার ওসি আফজাল হোসেন বলেন, এরকম একটি অভিযোগ পেয়ে এসআই জামাল হোসেনকে তদন্তের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্র দাস বলেন, অভিযোগের কপি হাতে পাননি। পেলে আইনি ব্যবস্থা নেবেন।

মানবকণ্ঠ/এইচকে






ads