বেনাপোল বন্দর গোডাউনে ১০ বছরে ৮ বার অগ্নিকাণ্ড

ফারুক হাসান, বেনাপোল

- প্রতীকী ছবি।

  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৬:১০

মারাত্মক আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল। অধিকাংশ গোডাউন ও ওপেন ইয়ার্ডে নিজস্ব অগ্নি নির্বাপণ সরঞ্জাম থাকলেও তা অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকায় আগুনের ঝুঁকিতে রয়েছে পণ্যাগার। বন্দরে জায়গা সঙ্কটের কারণে আমদানিকৃত অতি দাহ্য পণ্যের সঙ্গে সাধারণ পণ্যও রাখা হচ্ছে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরো বাড়ছে।

বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো বলছে, গত ১০ বছরে বেনাপোল বন্দর গোডাউনে ৮ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না থাকায় প্রতিবারই আগুন নেভাতে ব্যর্থ হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ডাকতে হয়েছে দেশি বিদেশি দমকল বাহিনীকে। অগ্নিকাণ্ডে প্রতিবারই পুড়েছে আমদানিকৃত কোটি কোটি টাকার পণ্য। কিন্তু কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি তারা। আগুন নিয়ন্ত্রণে বন্দরে যেসব সরঞ্জাম আছে সেগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬ আগস্ট বন্দরের ৩৫ নম্বর শেডে আগুন লেগে কোটি টাকার আমদানিকৃত পণ্য পুড়েছে।

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, বেনাপোলে ৩৮টি গোডাউন ও ওপেন ইয়ার্ডে পণ্য ধারণ ক্ষমতা ৪৭ হাজার ৪৪০ মেট্রিক টন। কিন্তু রাখা হচ্ছে প্রায় দেড় লাখ মেট্রিক টন পণ্য। সরোজমিনে বন্দরের ৩৪ নম্বর গোডাউনে গিয়ে দেখা গেছে, ৪০০ মেট্রিকটন ধারণ ক্ষমতার এ গুদামে পণ্য রয়েছে প্রায় ৮শ’ মেট্রিকটন। অতি দাহ্য ও সাধারণ পণ্য একই স্থানে পাশাপাশি রাখা হয়েছে। গোডাউনের এক কোণে পণ্যের নিচে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে সহজে বহনযোগ্য অগ্নি নির্বাপণ যন্ত্র (এক্সটিংগুইসার), যার সবই অকেজো। গাদাগাদি করে পণ্য রাখায় অগ্নি ঝুঁকি আরো প্রকট হয়েছে।
পাশের ৩২ নম্বর গোডাউনের চিত্র একই। আগুন নেভানোর যন্ত্রগুলোও পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। দেখলেই বোঝা যায়, বহুকাল যন্ত্রগুলোতে হাত পড়েনি। ব্যবহারকারীরা জানান, ২০১৬ সালের ২ অক্টোবর বন্দরের ২৩ নম্বর গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন শিল্পের আমদানিকৃত কাপড়, ডাইস (রং), বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক, শিল্পের যন্ত্র ও যন্ত্রাংশ, মোটর গাড়ির যন্ত্রাংশ, ফাইবার, মশা তাড়ানো স্প্রে, তুলা, কাগজসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য পুড়ে যায়। যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। তদন্ত কমিটি গঠন হলেও তিন বছরেও ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি।

বেনাপোল ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরোয়ার্ডিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বন্দরে পণ্য রাখার জায়গা নেই। গোডাউনে অতি দাহ্য পণ্যের সঙ্গে সাধারণ পণ্যও রাখা হচ্ছে। এতে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাচ্ছে। বন্দরে পণ্য রাখার জায়গা বাড়াতে হবে। আগুন নেভানোর জন্য নিজস্ব ব্যবস্থা থাকতে হবে। তাহলেই এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যাবে।

যশোর চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি ও আমদানিকারক মিজানুর রহমান খান জানান, বেনাপোল বন্দর শেডে আগেও কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সর্বস্বান্ত হয়েছেন। বারবার বলার পরও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। গত ১০ বছরে বন্দরে অন্তত ৮ বার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে শত শত কোটি টাকার পণ্য পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ব্যবসায়ীরা কোনো ক্ষতিপূরণ পাননি। ব্যবসায়ীরা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছে। বন্দরের ভাড়া দিচ্ছে। অথচ তাদের আমদানিকৃত পণ্যের নিরাপত্তা দিচ্ছে না। রহস্যজনক কারণে বন্দর কর্তৃপক্ষ এসব পণ্যের বীমাও করেন না। এ ব্যাপারে বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক প্রদোষ কান্তি দাস বলেন, এখন গরমের সময়। তাই যে কোনো সময় আগুন লাগার মতো মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য আমরা সতর্ক আছি। প্রতিটা গোডাউনে ফায়ার হাইডেন পয়েন্ট ও ফায়ার পাম্প রয়েছে। গোডাউনের অগ্নি নির্বাপণ ত্রুটিপূর্ণ যন্ত্র দ্রুত মেরামত করা হবে।

মানবকণ্ঠ/এইচকে



poisha bazar

ads
ads