ঈদ শেষে বাড়ি ফেরা হলো না শারমীনের, পুলিশের ধারণা ধর্ষণের পর হত্যা


poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:১৮,  আপডেট: ১৮ আগস্ট ২০১৯, ২০:৩১

ঈদ শেষে গ্রামের বাড়িতে ফেরার পথে হত্যার শিকার হয়ে লাশ হয়ে বাড়ি ফিরলো শারমীন আক্তার (২২) নামে এক নারী পোশাক শ্রমিক। দুই দিনেও পুলিশ হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

নিহত শারমীন আক্তার দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার খাট্টাউছনা গড়িয়াল গ্রামের শাফি আকন্দের মেয়ে। সে ঢাকার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করত এবং ঢাকার গাবতলীতে বসবাস করত।

গত শুক্রবার হাকিমপুর উপজেলার চন্ডীপুর এলাকার বৈগ্রাম সড়কের ব্রিজের নিচে কাঁদার মধ্যে অজ্ঞাত পরিচয়ধারী হিসেবে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় উদ্ধার হওয়ার পর শনিবার তার বাবা শাফি আকন্দ বাদী হয়ে হাকিমপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ ধারনা করছে পোশাক শ্রমিক শারমীন আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় রোববার পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ২ জনকে থানায় নিয়ে গেছে।

হাকিমপুর থানার মামলা সূত্রে জানা যায়, পোশাক শ্রমিক শারমিন আক্তার ঢাকার গাবতলীতে বসবাস করত। গত জুলাই মাস থেকে শারমিন অসুস্থ হয়ে পড়ে। চিকিৎসক শারমিনকে এক মাস বিশ্রামের পরামর্শ দেয়। পরে বাবার অনুরোধে শারমিন গত বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা থেকে এসআই পরিবহনে গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরের হাকিমপুরের (হিলি স্থলবন্দর) উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। শুক্রবার ভোরে শারমিনের ভাই সাজ্জাদ মুঠোফোনে বোনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু মুঠোফোন বন্ধ পায়। সারাদিন শেষে শুক্রবার রাতে সাড়ে ৯ টার দিকে শারমিনের মুঠোফোনটি চালু হয়। এসময় হাকিমপুর থানা পুলিশ শারমিনের পরিবারকে হত্যার খবর জানায়। পরিবার এসে শারমিনের লাশ শনাক্ত করে।

হাকিমপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আনোয়ার হোসেন জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ৯ টার দিকে উপজেলার চন্ডিপুর এলাকার বৈগ্রাম সড়কের ব্রিজের নিচে কাঁদার মধ্যে পুঁতে রাখা অবস্থায় শারমিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ সুরতহালে শারমিনকে গলায় ফাঁস (শ্বাসরোধ) দিয়ে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে। লাশটি পানিতে ভিজে যাওয়ায় ধর্ষণের আলামত এ মুহূর্তে বোঝা যায়নি। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে পারিপার্শ্বিক অবস্থায় শারমিনকে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে বোঝা যাচ্ছে। এ ঘটনায় শারমিনের বাবা শাফি আকন্দ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন।

ওসি আনোয়ার হোসেন আরো জানান, হত্যাকাণ্ডের ক্লু উদ্ধার করে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/এএম

 






ads