স্বস্তিতে ক্রেতারা, হতাশ বিক্রেতারা 

- ছবি : প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৯ আগস্ট ২০১৯, ২১:১৯

ঈদুল আযহার বাকী আর মাত্র দুই দিন। এরই মধ্যে গাজীপুরের শ্রীপুরে এবারের ঈদুল আযহায় সরকারী তালিকা মোতাবেক কোরবানী জন্য প্রায় ১২হাজার পশু চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম পশু প্রস্তুত ছিল। তবে বাইরে থেকে ব্যাপারীগণ পশু আমদানি করার কারণে চাহিদা মোতাবেক পশু সরবরাহ্ করা সম্ভব হয়েছে। এতে দাম কিছুটা হাতের নাগালে থাকায় ক্রেতারা স্বস্তিতে থাকলেও বিক্রেতারা রয়েছে হতাশায়।

শ্রীপুর উপজেলায় প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শ্রীপুর উপজেলায় প্রায় ১২ হাজার পশুর চাহিদা রয়েছে। ছোট-বড় ১২০টি গরু মোটাতাজাকরণের খামার ও কৃষক ৪হাজার ২শ ৩৭ জন গরু মোটাতাজাকরণ করে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে ষাঁড় গরু ৩হাজার ৪০টি, বলদ ৩শ ৮০টি, গাভী ৩শ ৪৮, মহিশ ৬৫, ছাগল ৪শ ৫৭, ভেড়া ৩৭টিসহ মোট ৪হাজার ৩শ ২৭টি। কিন্তু স্থানীয়দের ধারণা এই বৎসর শ্রীপুরে প্রায় ৬ হাজারের মত গরু কোরবানীর জন্য প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের এক জরিপে এ চাহিদা বেরিয়ে আসে।

তবে চাহিদার অর্ধেক কোরবানির পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে এ উপজেলার বিভিন্ন ছোট-বড় খামারে। এ অঞ্চলটি শিল্প-কারখানা সমৃদ্ধ হওয়ায় স্থানীয়দের পশুপালনে আগ্রহ কম রয়েছে বলে দাবি প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার। তবে খামারীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, পশু লালন পালনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয় বহিরাগত পশু কারণে প্রকৃত বাজারদর না পাওয়া অনেক কৃষক ও খামারী পশু পালনে আগ্রহ হারাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দেশীয় পশু পাওয়া হয়ে পড়বে বলে জানিয়েছেন উপজেলার বদনী ভাঙ্গা গ্রামের সাইফুল ইসলাম।

তিনি আরও জানান, মোটাতাজাকরণের জন্য কোরবানী পশুকে খাবার হিসেবে সবুজ ঘাস, খড়, ভূষি, খৈল ও খুদ খাওয়ানো হয়ে থাকে। বর্তমানে বাজারে এধরণের খাবারের দাম বৃদ্ধি পাওয়াতে পশু পালনে বেগ পাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছে। ফলেই বিক্রির সময় আশানুরুপ দাম না পাওয়ায় হতাশাগ্রস্থ হয়ে পশু পালন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে কৃষক ও খামারীরা। শুধু বড় বড় খামারীদেরকে ব্যাংক ঋণের সুবিধা দেয়া হয়, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষকদের যদি সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের সুবিধা দেয়া যেত তাহলে দেশের বিদেশী গরু উপর নির্ভরশীলতার অনেকাংশেই কমে আসতো।

টাঙ্গাইল থেকে উপজেলার লোহাই হাটে গরু নিয়ে এসেছেন মোসলেম উদ্দিন নামের এক গরু ব্যবসায়ী। তিনি জানান, টাঙ্গাইলের বিভিন্ন খামার থেকে বিদেশী জাতের ফিজিয়ান, শাহিওয়াল, জার্সি ও সিন্ধি গরু কিনে ওই হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে এসেছেন। দেশী গরুর চাইতে দামে কিছুটা কম হওয়ায় গরুগুলো বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন। তবে লাভে পরিমাণ সংখ্যা খুবই কম। অপর ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ জানান, বিভিন্ন হাট ঘুরে আজ দুটি গরু বিক্রি করেছি। ঈদ খুব কাছে চলে আসায় বেশি লাভের আশা না করে সামান্য লাভেই গরু ছেড়ে দিচ্ছি।

এমসি বাজার এলাকায় ব্যবসায়ী লতিফ হোসেন জানান, কোরবানীর জন্য এবার লাখ টাকায় যে পশু কিনেছেন, যা গতবারের চাইতে অনেক কম।

শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এস এম উকিল উদ্দিন বলেন, এক মাঠ জরিপে জানা গেছে উপজেলায় এ বছর প্রায় এগার হাজার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে। তবে এ অ লে চাহিদার অর্ধেকের কম পশু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। শিল্প অ ল হওয়ায় মানুষ পশু পালনে আগ্রহী কম। উপজেলার খামারী ও কৃষকেরা প্রায় পাঁচ হাজার পশু মোটাতাজাকরণ করে ঈদুল আযহার কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করেছেন। সুস্থ্য সবল পশু চেনার কিছু উপায় ক্রেতাদের বলা হচ্ছে। এছাড়াও প্রত্যেকটি হাটে আমাদের টিম কাজ করছে। তবে পশুর ভাল দাম পাওয়ায় উপজেলায় খামারির সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। আগামীতে কোরানীর পশু চাহিদার পুরোটাই অর্জনে আমরা কাজ করে যাবো।

মানবকণ্ঠ/এইচকে




Loading...
ads






Loading...