রিফাত হত্যা

খুনের ভিডিও ভাইরাল, আঙুল উঠেছে 'বিচারহীনতা' ও নাগরিকের ক্লীবত্বের দিকে


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৭ জুন ২০১৯, ১৩:৫৫,  আপডেট: ২৭ জুন ২০১৯, ১৮:৫৫

প্রকাশ্য সড়কে স্ত্রীর সামনে রিফাতকে কুপিয়ে হত্যার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, রিফাত শরীফকে বাঁচাতে তার নববধূ আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নি বারবার আক্রমণকারীদেরকে ঠেকাতে চেষ্টা করছেন। হামলাকারীদের সঙ্গে তার বারবার ধস্তাধস্তি হয়। পাশেই অনেকে এই নৃশংস ঘটনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছেন। কিন্তু কেউ রিফাতকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। হামলাকারীরা রিফাতকে কুপিয়ে জখম করে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে বীরদর্পে চলে যায়। যেন ঢাকাই সিনেমার নিছক ভালগার দৃশ্য দেখছেন এমন ভাবেই তখন দাঁড়িয়ে থাকেন উপস্থিত লোকেরা! এই খুনের ভিডিওটি এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল। ভিডিও দেখে অনেকেই আঙুল তুলছেন রাষ্ট্রের 'বিচারহীনতা', নাগরিকের প্রতিবাদহীনতা ও ক্লীবত্বের দিকে।

ভিডিওটিতে দেখা যায়, সন্ত্রাসী দুই যুবক ধারালো দা দিয়ে একের পর এক কোপাতে থাকে শরীফকে। এ সময় শরিফের স্ত্রী মিন্নি দুই অস্ত্রধারীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। এ ঘটনাটি পুলিশের ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরার আওতায় ছিল। সেখানে এই চিত্র ধরা পড়ে।

বরগুনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবীর হোসেন মাহমুদ জানান, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে খুনিদের শনাক্ত করা গেছে। শিগগিরই সব আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হবে পুলিশ।

নিহত রিফাত শরীফের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের বড় লবণগোলা গ্রামে। তাঁর বাবার নাম আবদুল হালিম দুলাল শরিফ। বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে রিফাত।

ভিডিওচিত্র এবং প্রত্যক্ষদর্শীসূত্রে জানা গেছে, ভিডিওচিত্রে যে দুই সন্ত্রাসীকে কুপিয়ে জখম করতে দেখা গেছে তাদের একজনের নাম নয়ন বন্ড এবং অন্যজন রিফাত ফরাজী। তারা উভয়েই স্থানীয়ভাবে ছিনতাই ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এসব ঘটনায় তারা একাধিকবার পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে।

নিহতের পরিবার জানায়, রিফাতের সঙ্গে দু' মাস আগে পুলিশলাইন সড়কের আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির বিয়ে হয়। বিয়ের পর নয়ন মিন্নিকে তার প্রেমিকা দাবি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিতে থাকে।

রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বলেন, নয়ন প্রতিনিয়ত আমার পুত্রবধূকে উত্ত্যক্ত করত এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট দিত। এর প্রতিবাদ করায় আমার ছেলেকে নয়ন তার দলবল নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে। আমার একমাত্র ছেলেকে যারা দিনে-দুপুরে কুপিয়ে হত্যা করেছে, তাদের বিচার চাই।

স্থানীয়রা জানান, রিফাত বুধবার সকালে তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে বরগুনা সরকারি কলেজে নিয়ে যান। পরে কলেজ থেকে ফেরার পথে মূল ফটকে নয়নসহ কয়েকজন রিফাতের ওপর হামলা চালায়। হামলার পর গুরুতর অবস্থায় রিফাতকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে তাকে বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মানবকণ্ঠ/এইচকে

 

 




Loading...
ads





Loading...