বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে পণ্যমূল্য নির্ধারণ জরুরি


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:২৯

আশিকুর রহমান: দেশের বাজার ব্যবস্থার লাগাম কার হাতে আমরা জানি না। রমজানের আগে থেকে দেখছি বাজারমূল্য বাড়ছেই। সরকার বিভিন্ন সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য টাস্কফোর্স গঠন করলেও বাস্তবে তা কাজে আসেনি। রমজানের সময় বাজারমূল্য বাড়লেও আর কমল না। আবার বিশ্ববাজারে মূল্য বাড়ার অজুহাতে মূল্য বাড়ানো হলো, গাড়ি ভাড়া বাড়ল কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলেও আমাদের দেশে কমল না। বৈশ্বিক বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরেছে।

ডাল, চিনি ও রডের দাম কমেছে। তবে তার প্রভাব দেশের বাজারে নেই। বরং দেশের বাজারে এসব পণ্যের দাম বেড়েছে। এদিকে চাল, গম/আটা ও সিমেন্টের দাম বিশ্ববাজারে যতটা বেড়েছে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে দেশের বাজারে। তবে পেঁয়াজের দাম বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে কম বেড়েছে। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের এক প্রতিবেদনে চলতি বছরের ২৮ আগস্টের সঙ্গে গত বছরের একই দিনের নিত্যপণ্যের দামের তুলনা করা হয়েছে। সেই বিশ্লেষণে এই এক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে চাল, মসুর ডাল, চিনি, আটা, পেঁয়াজ, রড ও সিমেন্টের দামের সঙ্গে দেশের বাজারের দামের এই তুলনা করা হয়েছে।

মসুর ডালের দর প্রায় ১৪ শতাংশ কমেছে; কিন্তু দেশের বাজারে গড় দাম বেড়েছে ৩৮.৭১ শতাংশ। চলতি বছরের ২৮ আগস্ট বিশ্ববাজারে প্রতি টন ডালের মূল্য ছিল ৫০৯ ডলার। ২০২১ সালের একই সময়ে সময়ে ছিল ৫৯০.৬৪ ডলার। গত রবিবার স্থানীয় বাজারে প্রতি কেজি মসুর ডাল বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা। আর গত বছরের এই সময়ে দাম ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। নিত্যপণ্যের দাম না কমার কারণে গত ৩০ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি ৯ নিত্যপণ্যের দাম নির্ধারণ করার ঘোষণা দেন। ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছিলেন, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এটা কার্যকর করা হবে।

অত্যাবশকীয় পণ্য বিপণন এবং কৃষি বিপণন আইন অনুসারে ট্যারিফ কমিশন আমদানিকৃত পণ্যের দাম নির্ধারণ করে দিতে পারে। যদিও গত বছরে আলু ও চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষি বিপণন অধিদপ্তর (ডিএএম) এ দুটি পণ্যের দাম বেঁধে দিয়েছিল। নানা কারণে সেটি কার্যকর করা যায়নি। এই প্রসঙ্গে কনজিউমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, বেঁধে দেয়া দর কার্যকর করতে হলে কৃষি, খাদ্য, শিল্প, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে আন্তঃসমন্বয় করতে হবে। এ ছাড়া মাঠ পর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে হবে। এদিকে এই সময়ে বিশ্ববাজারে চালের দর বেড়েছে ৬.৮৬ থেকে ৭.২১ শতাংশ। অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে চালের দাম বেড়েছে ১৩ থেকে ১৯ শতাংশ। আটার দাম বিশ্ববাজারে বেড়েছে ৮ শতাংশ আর স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৬৭ শতাংশ পর্যন্ত। বিশ্ববাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ২৭.৭১ শতাংশ আর স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৯.২০ শতাংশ (দেশি)। আমদানি করা পেঁয়াজে বেড়েছে ১৩.৩৩ শতাংশ। এ ছাড়া স্থানীয় বাজারে রডের দাম বেড়েছে ১৬ শতাংশ, এই সময়ে বিশ্ববাজারে কমেছে ১৪.২৯ শতাংশ। আর সিমেন্টের দাম স্থানীয় বাজারে বেড়েছে ৩১ শতাংশ; আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে ১৯.৫৭ শতাংশ।

বাজারে যখন অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশলে পণ্যের দাম বাড়িয়ে দেন, তখন অন্যায্য মূল্যবৃদ্ধি ঠেকাতে সরকার দাম নির্ধারণ করে দেয়। এ সময় সরকার সরবরাহ লাইনের পণ্যমূল্য পর্যালোচনা করে দর নির্ধারণ করে। তবে অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজি ভাঙতে নিবিড় পর্যবেক্ষণ দরকার। সেই সক্ষমতা সরকারের বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলোর নেই। বারবার সরকার পণ্যমূল্য বেঁধে দেয় আর তা বারে বারে বিফলে যায়। অর্থাৎ বারবার সিন্ডিকেটের কারসাজির কথা আসলেও তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ হচ্ছে না। কেন হচ্ছে না আমাদের বোধগম্য নয়। করোনার পরে মধ্যবিত্ত থেকে নি¤œ আয়ের মানুষেরা এখনও উঠে দাঁড়াতে পারেনি। অথচ বাজারমূল্য ক্রমশই সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ অবস্থা কোনো যুক্তিতেই গ্রহণযোগ্য নয়। দেশের বাজার একদম নিয়ন্ত্রণহীন। বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলো ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে আছে। যে কারণে মনে হচ্ছে সরকারের দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর চেয়ে সিন্ডিকেটের হাত আরও বড়। আমরা মনে করি, সরকারে সদিচ্ছার কাছে সিন্ডিকেট কোনো বিষয় নয়। এ মুহূর্তে বিশ্ববাজারের সঙ্গে মিল রেখে পণ্যমূল্য নির্ধারণ করা জরুরি।

লেখক: সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যমকর্মী।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar