আবারও বই উৎসব চালু করা হোক


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:৩০

অভিজিৎ সাহা: গত ২০১০ সাল থেকে উৎসব করে বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে পাঠ্যবই তুলে দেয়ার যে রেওয়াজ শুরু হয়েছিল গত বছর থেকে তাতে ভাটা পড়েছে। গত শিক্ষাবর্ষের শুরুতে বই বিতরণ শুরু করা গেলেও সব শিক্ষার্থীর হাতে সব বই দেয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষা করা যায়নি। এবারও শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো বই পৌঁছাবে না বলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। নতুন বছরের জন্য প্রায় ৩৫ কোটি বই ছাপানো হচ্ছে। এর মধ্যে মাত্র ২ লাখ ৪০ হাজার (ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় রচিত বই) ছাপানোর কার্যাদেশ দেয়া সম্ভব হয়েছে। আবার বই ছাপার কাজ পেতে প্রাক্কলিত দরের চেয়ে গড়ে ২২ থেকে ২৫ শতাংশ কম দাম দিয়েছে মুদ্রণকারীরা।

যদিও কাগজ, কালি ও কাগজ তৈরির মণ্ডের (পাল্প) দাম বাড়তির দিকে। এ দুটি কারণেও মানসম্মত বই ছাপানো নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এনসিটিবির কর্মকর্তা ও মুদ্রণকারী উভয়েরই আশঙ্কা, কার্যাদেশ দিতে বিলম্বসহ তিন কারণে সময়মতো মানসম্মত বই ছাপিয়ে আগামী শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের হাতে বিতরণ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে। অর্থাৎ গত বছরে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছিল তা থেকে জাতীয় শিক্ষা শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) কোনো শিক্ষাই নেয়নি। যে কারণে এবারেও একই সংকট তৈরি হয়েছে। এছাড়াও কার্যাদেশ শুরুর আগেই মুদ্রণকারীদের পক্ষ থেকে দাবি-দাওয়া দেয়া শুরু হয়েছে।

দরপত্র অনুযায়ী মোট সময়ের প্রথম ভাগে ৫০ শতাংশ এবং বাকি ৫০ শতাংশ বই পরের ভাগে দেয়ার কথা থাকলেও এখন মুদ্রণকারী চাইছে এই শর্ত না রাখতে। অতীতেও দেখা গেছে, শেষ সময়ে কিছুসংখ্যক মুদ্রণকারী নানা ফন্দিফিকির করে নি¤œমানের কাগজে বই দেয়। এবারও একই আশঙ্কা করা হচ্ছে। করোনার দুবছর বই উৎসব হয়নি। চলতি শিক্ষাবর্ষে বছরের শুরুতে সব শিক্ষার্থীর হাতে সব পাঠ্যবই তুলে দিতে পারেনি এনসিটিবি। ফেব্রæয়ারি-মার্চেও কোনো কোনো মুদ্রণকারী বই দিয়েছিল। বইয়ের কাগজের মান নিয়েও অভিযোগ উঠেছিল। এবারের পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সাধারণত বছরের মে মাস থেকেই দরপত্রের প্রক্রিয়া শুরু হতো। কিন্তু এ বছর এনসিটিবির চেয়ারম্যান পদ শূন্য থাকা সংক্রান্ত জটিলতার জেরে এ দরপত্রের প্রক্রিয়াটিই শুরু হয় অন্তত তিন মাস পর। এরপর আবার মূল্যায়নসহ আনুষঙ্গিক কাজগুলো শেষ করতেও দেরি হচ্ছে। বিলম্বে কার্যাদেশ ও চুক্তি হলে শেষ সময়ে নিম্নমানের কাগজে বই দেয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়াও ইতিপূর্বে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপার জন্য যাদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ছিল এবং মুদ্রণ শিল্প সমিতি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। ফলে শেষ সময়ে এবার আরও বেশি নিম্নমানের কাগজে বই ছাপানোর আশঙ্কা আছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যানের বক্তব্যের বরাত দিয়ে পত্রিকায় প্রকাশ হয়েছে যে, এটা ঠিক যে তারা সময়ের চেয়ে পিছিয়ে আছেন। এ জন্য কিছুটা আশঙ্কা থাকলেও তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছেন যাতে সময়মতো মানসম্মত বই দেয়া যায়। সবার হাতে বই সময়মতো পৌঁছাক এ প্রত্যাশা সারা দেশের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের।

লেখক: সংস্কৃতিকর্মী ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar