গণপরিবহনের ভাড়া বাড়লে আর কমে না কেন


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:৪৬

আজহার মাহমুদ: করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় সাধারণ মানুষের যে ক্ষতিটা হয়েছে সেটা কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারছে না। সবকিছুতেই যেন আগুন। করোনার আগে একজন মানুষের জীবিকা নির্বাহ করতে যে খরচ হতো এখন তার দ্বিগুণ খরচেও হচ্ছে না। কিন্তু করোনা এখন নিয়ন্ত্রণে। অজুহাত তাহলে কি দেওয়া যায়? অজুহাত একটা কিন্তু আছে। যুক্তরাষ্ট্র আর ইউক্রেন যুদ্ধ। আবার কখনও তেলের দাম বাড়ার অজুহাতেও সবকিছুতে আকাশ ছোঁয়া দাম বেড়ে যায়।

সাধারণ মানুষের দুঃখটা সেখানে না। সাধারণ মানুষের দুঃখ হচ্ছে দাম বাড়লে সেটা আর কমে না কেন? বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে, বাংলাদেশেও বেড়েছে। সবকিছুরই দাম বেড়েছে। কিন্তু বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে আর দাম কমে না। একই দূরত্বের ভাড়া করোনার আগে ছিলো ৫ টাকা। এরপর করোনায় হয়েছে ৭ টাকা। আর এখন ১০ টাকা। এইযে বাড়ছে এটা বাড়তেই থাকে। করোনার আগ পর্যন্ত চট্টগ্রামে টেম্পোতে ওঠানামা ছিলো ৫ টাকা। এরপর সেটা করেছে ৮ টাকা, আর এখন ১০ টাকা। ১০ টাকার ভাড়া হয়েছে ১২ এরপর ১৫। যেভাবে গণপরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, সেভাবে কি সাধারণ মানুষের আয় বৃদ্ধি হচ্ছে?

মাস শেষে বেতন-বোনাসের পরিমাণ সেই আগের অবস্থায় রয়েছে। অথচ দেশের সবকিছুতেই দাম এখন দিগুণ। আয় তো বাড়েনি, অনেক কোম্পানিতে উল্টো বেতন কমিয়েছে। অনেকের আবার কর্মসংস্থানও নেই। এতোকিছু মধ্যেও গণপরিবহনের ভাড়া বাড়ার প্রতিযোগিতা। অফিসে যাওয়া-আসা, স্কুলে যাওয়া-আসা, বাজারে যাওয়া-আসাতেই বেতনের অর্ধেক চলে যায়। একজন দিনমজুর বলেন, বাজারে যাওয়া-আসার ভাড়াতেই বাজারের টাকা শেষ হয়ে যায় আমাদের। এভাবে গণপরিবহনের ভাড়া থাকলে সাধারণ মানুষের জীবিকা নির্বাহ করা অধিক কষ্ট হয়ে যাবে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন জনতার অন্যতম দাবি গণপরিবহনের দ্বিগুণ ভাড়া প্রত্যাহার করা। সবার একটাই কথা, যেভাবে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে সেভাবে তো বেতন বৃদ্ধি করা হয়নি। এ বিষয়ে বিআরটিএ, সড়কমন্ত্রী কারও কোনো মাথাব্যথা নেই। এভাবে দিন চলতে থাকলে সাধারণ মানুষ ধৈর্য হারিয়ে ফেলবে। প্রশাসনের টনক না নড়লে এই সেক্টরের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা দিন দিন বেড়েই যাবে।

আমরা আসলে পরিবহন শ্রমিকদের নিকট একপ্রকার জিম্মি। আমাদের অফিসে যেতে হবেই। নয়তো পরিবার, সংসার চলবে না। অফিসও এতোকিছু বুঝবে না। অফিসে না গেলে চাকরিটাই চলে যাবে। তাই কোনো উপায় নেই। বাধ্য হয়ে সব মেনে নিতে হচ্ছে। আমরা সবাই জেনে-বুঝে এই অনিয়মের মধ্যেই জীবন-যাপন করছি। যতদিন সরকারের এই বিষয় নিয়ে টনক নড়বে না ততদিন এমন ভোগান্তি আর দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল করতে হবে।

পরিশেষে বলতে চাই, সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষদের একটাই চাওয়া গণপরিবহনের ভাড়া আগের মতো করা হোক। তারা পারছে না দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে চলাচল করতে। এই দ্বিগুণ ভাড়া প্রত্যাহার করে জনমনে একটু স্বস্তি এনে দেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar