সারের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৬:১৬

আদিত্য রহমান: কৃষকরা তাদের চাহিদামতো পাচ্ছেন না ইউরিয়া, পটাশ ও ডিএপি সার। তাদের অভিযোগ, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরির কারণে ডিলারদের কাছে চাহিদামতো সার না পেয়ে বাড়তি দামে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে কিনতে হচ্ছে। সংকটের অজুহাতে ব্যবসায়ীরা বাড়তি দামে সার বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। এমন পরিস্থিতিতে চাহিদা অনুযায়ী সারের দাবিতে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ করেছেন কৃষকরা। যার ধারাবাহিকতায় কয়েক দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সারের দাবিতে চলছে বিক্ষোভ। চাহিদামতো সার না পেয়ে ক্ষোভে ফুঁসছেন সেখানকার কৃষকরা।

ভুক্তভোগী কৃষকরা জানান, সময়মতো ক্ষেতে সার না দিতে পারায় ধানগাছ লালচে হয়ে গেছে। দ্রুত সার দিতে না পারলে ধান নষ্ট হয়ে যাবে বলে শঙ্কা কৃষকদের। একশ ভাগ কৃষকের মধ্যে ৮০ ভাগ কৃষকই সার পাচ্ছে না। এ অবস্থায় সারের ডিলারদের সিন্ডিকেট না ভাঙলে সংকট ক্রমশ ঘনীভূত হবে। যার প্রভাব পড়বে শীতকালীন শস্যে। গত ১ আগস্ট ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ছয় টাকা বাড়ানো হয়। দাম বৃদ্ধির খবরে বাজারে শুরু হয়েছে নৈরাজ্য। কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। আবার কোথাও কোথাও বেশি দামে সার মিলছে না। সরকার শুধু ইউরিয়ার দাম বাড়ালেও অন্যান্য সারের দামও কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় প্রান্তিক কৃষকরা রয়েছেন উদ্বেগ উৎকণ্ঠায়। আমরা দেখেছি দেশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চেয়ে এখানের সিন্ডিকেট শক্তিশালী। ইউরিয়ার দাম বাড়ানোর কারণে ফসলের উৎপাদন খরচ আরও বেড়ে যাবে। এতে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হতে পারে। ভরা আমনের মৌসুমে সারের দামের জন্য কৃষক ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। একথা যেমন ঠিক তেমন এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সংকট বৃদ্ধির হার বাড়িয়ে তোলার একটি মহল মুনাফা লুটবে। সে সুযোগ যাতে না পায় সে বিষয়টি দেখতে হবে।

কৃত্রিম সংকট ইতিমধ্যে মফস্বলের বাজারগুলোতে জায়গা করে নিয়েছে। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার এক কৃষকের বক্তব্যের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে সম্প্রতি প্রকাশ হয়েছে। স্থানীয় বাজারে সার কিনতে গেলে প্রথমে বলা হয় সার নেই, পরে দাম বেশি দিলে সার দেয়া হয়। সরকার শুধু ইউরিয়ার দাম বাড়ালেও অন্যান্য সারের দামও কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে বিক্রি করছেন সারাদেশের ব্যবসায়ীরা। কুষ্টিয়ার শহরতলিতে ১৫ টাকার পটাশ ১৭ টাকায়, এক সপ্তাহ আগে কেনা ১৬ টাকার ইউরিয়া ২০ টাকা ও ১৬ টাকার ফসফেট বা ডিএপি কিনতে হয়েছে ২২ টাকায়। যে সার কিনতে আগে ১ হাজার টাকা লাগত, এখন লাগছে ১ হাজার ৫০০ টাকা। সব ধরনের সারের দাম ডিলার কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা বেশি রেখেছেন। ১০ কেজি সার চাইলে পাওয়া যাচ্ছে ৫ কেজি। তাও ১০ থেকে ১৫ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। বাজারে পটাশ সারের ভয়াবহ সংকট বলে চালানো হলেও বেশি দাম দিলে এটা পাওয়া যাবে এটা নিশ্চিত।

সবজি চাষিদের সঙ্গে কথোপকথনের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে, সরকার বাড়ালো ইউরিয়া সারের দাম। আর ব্যবসায়ী ও ডিলাররা বাড়িয়েছেন সব সারের দাম। ইউরিয়া সারের দাম কেজিতে ৬ টাকা বৃদ্ধির ফলে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে না বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী। আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম কমলে দেশেও সারের দাম কমানো হবে বলেও বলেছেন তিনি। কিন্তু আমাদের বক্তব্য হচ্ছেÑ বিশ্ববাজারে বস্তুর দাম বাড়লে আমাদের দেশেও বাড়বে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারের বস্তুর দাম দেখিয়ে ৩ গুণ দাম বাড়ানো হয়েছে এর আগেও। সারের দাম এর আগে বাড়েনি কিন্তু সবজির দাম কেন বাড়তি? করোনার পরে মানুষের অর্থনীতির বুনিয়াদ আর চাঙ্গা হয়নি শুধুমাত্র অস্থিতিশীল বাজার ব্যবস্থার কারণে। রমজানের ভিতরে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য কমবে বলা হয়েছিল। কিন্তু তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি। এবারে সারের দাম নিয়ন্ত্রণ না করলে ও কৃষকের সার প্রাপ্তি নিশ্চিত না করলে শীতের সবজি চাষ অসম্ভব হয়ে যাবে। তাই কৃষকের সার ন্যায্যমূল্যে পাওয়া নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। এ ব্যাপারে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহল তৎপর হবে- দেশবাসীর সঙ্গে এ প্রত্যাশা আমাদেরও।

লেখক: সংস্কৃতিকর্মী ও কলামিস্ট।


poisha bazar