বন্যার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ান


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৯ জুন ২০২২, ১৬:২১

সুদীপ্ত সিংহ: সিলেটের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। তলিয়ে গেছে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক। বাড়িঘরে ঢুকেছে বন্যার পানি। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র ও বৈদ্যুতিক খুঁটি তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সিলেটেরে বানভাসি মানুষেরা দুঃসময় পার করছেন। একটি বাড়িও আজ আর অবশিষ্ট নেই যেখানে গিয়ে উঠবে মানুষ। সমস্ত রাত পানিতে দাঁড়িয়ে কাটিয়েছে অসহায় হাওরপাড়ের বেশিরভাগ মানুষ। এমন রাত এর আগে দেখেনি কেউ। অনেকের ঘর, গৃহপালিত পশুটি ভেসে গেছে বানের তোড়ে। আশপাশের সবাই যে যেভাবে ছুটছে। বিদ্যুৎ নেই, চুলাও গেছে, নেই খাবার। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন সুনামগঞ্জে এখন কেবলই হাহাকার। সুনামগঞ্জ জেলার প্রায় সব উপজেলার চিত্রই এখন এমন।

খাবার আর বিশুদ্ধ পানির অভাবে দুর্বিষহ জীবন কাটাচ্ছেন গ্রামাঞ্চলের পানিবন্দি মানুষ। নদ-নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। অজানা আতঙ্কে মানুষজন নির্ঘুম রাত পার করছেন। এ অবস্থায় সেসব এলাকায় মানবিক সংকট দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এসব মানুষ বিশুদ্ধ পানি, খাবার, বিদ্যুৎ ও নানামুখী সংকটে দুর্বিষহ সময় কাটাচ্ছেন। বানভাসি মানুষেরা তাদের গবাদিপশু নিয়েও মহাবিপাকে পড়েছেন।  এখন সরকারি সাহায্য দরকার। পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চালানো যাচ্ছে না।

জেলায় মাছ চাষের ক্ষতি  অপূরণীয়। এ ক্ষতির পরিমাণ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। হাওর এলাকায় প্রধান প্রধান দুর্যোগ হল বন্যা, বজ্রপাত, উচ্চ মাত্রার ঢেউ এসব। গত কয়েক বছর ধরে হাওর এলাকায় ঘন ঘন বন্যা হচ্ছে। বন্যা যেহেতু প্রাকৃতিক দুর্যোগ, তাই একে পুরোপুরিভাবে আমরা দমিয়ে ফেলতে বা প্রতিরোধ করতে পারবো না। কিন্তু দুর্যোগ পূর্ববর্তী, দুর্যোগকালীন এবং দুর্যোগ পরবর্তী সঠিক পদক্ষেপ ও সহায়তা এর ক্ষতি অনেকটাই কমিয়ে দিতে পারে। সরকার যে পরিমাণ ত্রাণ দিচ্ছে তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই সামান্য। এ ব্যাপারে সরকারের পাশাপাশি বিত্তবান শ্রেণি ও সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো এগিয়ে না আসলে মানুষের এই সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

মনে রাখা জরুরি- প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। আমাদের দেশের জনগণকে প্রতিবছরই ‘ভাগ্যদেবীর আশীর্বাদস্বরূপ’ যেসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হয়ে নানা সমস্যায় জর্জরিত হতে হয়, বন্যা সেসবের অন্যতম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঠেকানো সম্ভব নয়। তবে আগাম কিছু ব্যবস্থা নিয়ে দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি ও দুর্ভোগ কমিয়ে আনা সম্ভব। আগামী দিনগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাক্রান্ত স্থানগুলো চিহ্নিত করে সঠিক উপায়ে বাঁধ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা প্রয়োজন।

নদী তীরবর্তী এলাকাগুলোয় জিওটিউব ফেলার ব্যবস্থা, নদীর নাব্য বৃদ্ধির ব্যবস্থাসহ এমন সব কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন যেন সহজেই বন্যা মোকাবিলা করা যায়। এ সবকিছু সঠিকভাবে সম্পাদন করা হলে জনগণকে আর বন্যার কারণে চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে না।

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar