হাতিরঝিলে নিরাপদ পরিবেশ চাই


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১৮ জুন ২০২২, ১৫:৪১

আনন্দ সেন: রমনা গ্রীনের পরে আধুনিকভাবে গড়ে তোলা রাজধানীর সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন বিনোদন স্পট হাতিরঝিল। এর ব্যাপ্তি শুধমাত্র দিনে বা রাতে নাগরিকদের মুক্ত বাতাসে ঘুরে বেড়ানোর জায়গাই নয়, সেখানকার জলবাগিচার চক্রাকার রাস্তাগুলো এখন ঢাকার কেন্দ্রস্থলের উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ করিডরও হয়ে উঠেছে। ফলে রাজধানীর একটা এলাকার মানুষ এখন ওয়াটার বাসের নিয়মিত সেবা নিচ্ছে। কিন্তু বিনোদনের এই মনোহর জায়গাটি দিনে দিনে হয়ে উঠছে ডেঞ্জার জোন। এখানে  প্রায়ই মিলছে লাশ, চলে অনৈতিক কাজও। দিনভর সেখানে থাকে বিভিন্ন অপরাধী চক্রের আনাগোনা। ছিঁচকে মস্তান ও বখাটেদের উৎপাত অতিষ্ঠ ভ্রমণপিপাসুরা। তাদের অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় দিনে দিনে বিপজ্জনক এলাকায় পরিণত হচ্ছে হাতিরঝিল এলাকা। কিন্তু হাতিরঝিল এলাকার বেশিরভাগ এলাকায় নেই ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা।

লেকের পাশের ছোট সেতুগুলোর বাতি নষ্ট। পুলিশের টহলও পর্যাপ্ত নয়। এই সুযোগে এই স্পট ঘিরে বেপরোয়া হয়ে উঠছে দুর্বৃত্ত, ছিনতাইকারী, বখাটে ও মাদকসেবীসহ নানান অপরাধী চক্র। নিয়মিত বিরতিতে ঘটছে ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। ৩০২ একর জমির এই প্রকল্প ঘিরে ৫টি থানা থাকার পরও সেখানকার নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, প্রত্যেকটি ঘটনার তদন্তসাপেক্ষে রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হাতিরঝিলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গোটা প্রজেক্ট এলাকায় সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজও দ্রুতই শেষ করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ সময়ই পুলিশের টহল রাখার জন্যও সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।  সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর রুটিন মাফিক অভিযান চালানোর পরামর্শ সমাজবিজ্ঞানীদের।

গত ৮ জুন সকালে পুলিশপ্লাজা সংলগ্ন হাতিরঝিল লেকপাড় থেকে বেসরকারি টেলিভিশন ডিবিসি নিউজের কর্মী আব্দুল বারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত ১৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে হাতিরঝিলে রহস্যজনকভাবে প্রাণ হারান দৈনিক সময়ের আলোর সিনিয়র রিপোর্টার হাবীবুর রহমান। কোনো ঘটনারই রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা ঘাতকদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এর আগে গত বছরের ৬ জানুয়ারি হাতিরঝিল লেক এলাকায় এশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মিজানুর রহমানের লাশ পাওয়া যায়। ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে সে প্রাণ হারায় বলে দাবি করে পুলিশ। 

এর আগে গত বছরের ১২ অক্টোবর অজ্ঞাতনামা এক যুবকের অর্ধগলিত লাশ ও তার আগে সিরাজুল ইসলাম নামে ব্র্যাক ব্যাংকের এক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ছিনতাইয়ের ঘটনা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক। এভাবে দৃষ্টিনন্দন হাতিরঝিলে এখন অপরাধীরা যেন বেপরোয়া। এই অবস্থার জরুরি পরিবর্তন না হলে মানুষের যাওয়ার জায়গা থাকবে না। তাই এ ব্যাপারে দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপ নিন।

লেখক: উন্নয়নকর্মী ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/এআই


poisha bazar