ইউটিউবে সশস্ত্র জঙ্গিবাদের উস্কানিমূলক বয়ান

ফকির ইলিয়াস
ফকির ইলিয়াস - ছবি : সংগৃহীত

  • ফকির ইলিয়াস
  • ০৩ মে ২০২১, ১৩:১৪,  আপডেট: ০৩ মে ২০২১, ২০:০১

বাংলাদেশে সশস্ত্র জঙ্গিবাদের মাধ্যমে সরকার হটাবার ‘মুজাহিদ’ তৈরির মিশনে নেমেছেন কিছু আলেম নামধারী ব্যক্তি। এরা গণতান্ত্রিক সরকারকে ‘তাগুদি সরকার’ বলে এই সরকারের বিরুদ্ধে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিচ্ছেন! এসব কাজে উদ্বুদ্ধ করার জন্য তারা মনগড়া নানা ফতোয়া দিয়ে বইও লিখছেন।

একশ্রেণির প্রকাশক তা প্রকাশও করছে। কিছু অনলাইন বই ব্যবসায়ী এসব বইকে ‘বেস্ট সেলার’ বলেও প্রচার প্রোপাগান্ডা চালাচ্ছে। এ সব বয়ান কিংবা ওয়াজে ইউটিউব এখন সয়লাব। এরা দল বেঁধে একই মতবাদ প্রচার করছে বাংলাদেশের আনাচে কানাচে। বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবস্থাকে বেশ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের আইটি বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভাগীয় গোয়েন্দারা কি এসব দেখছেন না? তারা কি জানেন না, রীতিমতো বাংলাদেশের সংবিধানকে চ্যালেঞ্জ করে এরা ওয়াজ করছেন। তারা তাদের ভক্তদের সামনে নানা রকম উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েই যাচ্ছেন। এসব বিষয়ে একটু পেছনে ফিরে দেখা যাক।

২০১৯ সালের মার্চ মাসের মাঝামাঝি বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল। ওই বছরের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে তা নিয়ে সংবাদ ছাপা হয়েছিল। তাতে বলা হয়েছিল- ওয়াজ মাহফিলে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য, জঙ্গিবাদে উৎসাহ দেয়া, ধর্মের নামে বিভিন্ন উপদল তৈরি ও বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে কটূক্তি করার অভিযোগে ১৫ জন বক্তাকে চিহ্নিত করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব বক্তার বক্তব্য প্রতিরোধে ছয়টি সুপারিশও করা হয়েছে। ওয়াজ মাহফিলে বক্তাদের বয়ানের বিভিন্ন বিষয় আমলে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একটি প্রতিবেদন তৈরি করেছে।

২০১৯ এর মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখা-২ থেকে তৈরি করা এ প্রতিবেদনে ১৫ জন বক্তার নাম উল্লেখ করে জানানো হয়েছে- ‘এই বক্তারা সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মবিদ্বেষ, নারীবিদ্বেষ, জঙ্গিবাদ, গণতন্ত্রবিরোধী ও দেশীয় সংস্কৃতিবিরোধী বয়ান দেন বলে লক্ষ করা যাচ্ছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রেডিক্যালাইজড হয়ে উগ্রবাদের দিকে ধাবিত হচ্ছে।’

এ ছাড়াও ওয়াজ মাহফিল বিষয়ে কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছিল ওই প্রতিবেদনে। বলা হয়েছিল- ইতিমধ্যে সুপারিশগুলো ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও সব বিভাগীয় কমিশনারের কাছে চিঠি আকারে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশমালার মধ্যে অন্যতম হলো ওয়াজের বক্তাদের করের আওতায় আনা এবং বক্তারা দেশবিরোধী বক্তব্য দিলে আইনের আওতায় আনা।

এ প্রসঙ্গে ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের তৎকালীন মুখপাত্র নূর মোহাম্মদ আলম বলেছিলেন, তারা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশ পেয়েছেন এবং এ নিয়ে আলোচনা করছেন। তালিকাভুক্ত ১৫ জন বক্তা ছিলেন; আবদুর রাজ্জাক বিন ইউসূফ (সালাফি), মাওলানা মুফতি মাহমুদুল হাসান গুনবী, মাওলানা মামুনুল হক (যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মুফতি ইলিয়াছুর রহমান জিহাদী (প্রিন্সিপাল, বাইতুল রসূল ক্যাডেট মাদ্রাসা ও এতিমখানা, ক্যান্টনমেন্ট), মুফতি ফয়জুল করিম (জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির, ইসলামী আন্দোলন), মুজাফফর বিন মুহসিন, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন (যুগ্ম মহাসচিব, ইসলামী ঐক্যজোট), মতিউর রহমান মাদানী, মাওলানা আমির হামজা, মাওলানা সিফাত হাসান, দেওয়ানবাগী পীর, মাওলানা আরিফ বিল্লাহ, হাফেজ মাওলানা ফয়সাল আহমদ হেলাল, মোহাম্মদ রাক্বিব ইবনে সিরাজ।

বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ শোলাকিয়ার ঈদ জামাতের ইমাম ও বাংলাদেশ জমিয়াতুল উলামার চেয়ারম্যান মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ বলেছিলেন- হ্যাঁ এটা ঠিক ওই ১৫ জন মাওলানার ওয়াজে নানা ধরনের উস্কানিমূলক কথা থাকে, যা সাধারণ মানুষের অনুভ‚তিকে নাড়া দিতে পারে এবং অমুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষমূলক কাজে তারা উদ্বুদ্ধ হতে পারে।

ওই সময়ে এটা নিয়ে দেশে- বিদেশ অবস্থানরত বিশিষ্ট হক্কানী আলেমরা তাদের মত জানিয়ে এমন উস্কানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু তা কি বাংলাদেশে বন্ধ হয়েছে? না হয় নি। বরং বহুগুণে বেড়েছে। চলমান সময়ে ইউটিউবে চ্যানেল তৈরি করে তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে দেয়া হচ্ছে প্রায় প্রতিদিন। যে ১৫ জনের তালিকা ছিল, এদেরই একজন মাহমুদুল হাসান গুনবী।

ইউটিউবে তার বয়ান শুনলে রীতিমতো শিউরে উঠতে হয়। তিনি তার বক্তব্যেবলছেন- ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। শান্তি আর শান্তি। কিন্তু ইসলাম যে জিহাদের ধর্ম তা আমরা বলি না। মহানবী (স.) এঁর ১১টি তরবারি ছিল। কেন ছিল সেগুলো? একটি তরবারির নাম ছিল- জুলফিকার! এই গুনবী প্রকাশ্যে বার বার বলছেন- ‘ওয়াজিবুল ক্বতল’।

মানে হত্যা করাটা ওয়াজিব। এসব বয়ানকারী বিভিন্ন পরিভাষা ব্যবহার করেন। সেই পরিভাষার মাধ্যমে তারা তাদের সাগরেদদের তালিম দিয়ে গড়ে তুলছেন। ২০১৮ সালের ২ মার্চ ফেনীতে একটি ওয়াজ মাহফিলে বক্তব্য দেন এই মাহমুদুল হাসান গুনবী। ফেনী সদরের মিজান ময়দান মাঠে হেফাজত ইসলাম আয়োজিত ‘শানে রেসালত সম্মেলন-২০১৮’ অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে গুনবী, ইসলাম বিরোধীদের যেখানে পাওয়া যাবে সেখানেই কুপিয়ে হত্যা করার কথা বলেন। এই হত্যাকাণ্ডকে তিনি জিহাদ হিসেবে মন্তব্য করেছেন। সেই সাথে গণতন্ত্রকে ভিন্ন ধর্ম হিসেবে মন্তব্য করে মুসলিমদেরকে গণতন্ত্র পরিত্যাগ করার আহ্বান জানান।

মাহমুদুল হাসান গুনবী বলেন, ‘যে আল্লাহ রাসুলকে গালি দিবে তার এক মাত্র বিচার তার কল্লা ফেলে দিতে হবে। ঠিক কিনা? তার আগেই তিনি বক্তব্যে বলেন হেফাজত ইসলাম এই দেশে আন্দোলন করে যাচ্ছে। হেফাজত ইসলামের একটি দাবি হলো আল্লাহ রাসুলকে যে গালি দিবে তার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড বাস্তবায়ন করতে হবে। এর পরই আবার বলেন ‘এর আর একমাত্র বিচার হলো আর কোনো বিচার নাই যে গালি দিবে আল্লাহ রাসুলকে, তার কল্লা ফেলে দিতে হবে।’

গুনবী বলেন, ‘অস্ত্র সন্ত্রাস অথবা তথ্য সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সশস্ত্র জিহাদ করে। এই জিহাদকে বলি দেবার কারণে আজকে মুসলমানদের এই দুরবস্থা। আল্লাহ বলছে এই ফিতনা দূর হওয়ার একমাত্র রাস্তা যেখানে পাবি সেখানে ওদেরকে কোপা। ঠিক কিনা? এদেরকে কোপাইতে হবে। আল্লাহ রসুলকে গালি দিবি তোরে কোপামু।

ঠিক কি না? ইসলামের বিরুদ্ধে আইন করবি তোর কপালে কোপ কোপানি আছে। হেই মুসলমান প্রস্তুতি গ্রহণ করো। আর কিছু না পারো দোয়া করো। গণতন্ত্র থেকে বের হইয়ে আসো। গণতন্ত্র ইসলামে নাই।’ এই বক্তা আল্লাহর রাসুল মানুষ হত্যা করেছেন মন্তব্য করে বলেন, ‘তিনি (রাসুল) ২৩টি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তার সাহাবিদেরকে তিনি যুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, ‘এই আওয়ামী লীগ করেন আর বিএনপি করেন সাবধান। আমরা আওয়ামী লীগও করি না বিএনপিও করি না। আমরা আল্লাহর দল করি। সাবধান মুসলমান। গণতন্ত্র ইসলামে নাই। গণতন্ত্র একটি আলাদা ধর্ম।’ প্রশ্ন হচ্ছে, এমন কথাবার্তার পরও বাংলাদেশের সরকার তার বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নিয়েছে? এটা তো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে, রাষ্ট্রতন্ত্রের বিরুদ্ধে হুমকি। সরকার কি এসব হুমকি বিবেচনায় আনছে না? কেন আনছে না? বাংলাদেশে জিহাদের প্রবক্তা এই গুনবী বার বার বলছেন- জিহাদ ফরজ। এই বিষয়ে অন্যান্য হক্কানী আলেম সমাজই বা কি ভূমিকা রাখছেন?

এই সময়ে সশস্ত্র জঙ্গিবাদী সন্ত্রাস উসকে দেয়ার পেছনে আরেকজন তরুণ মওলানার বয়ান ইউটিউবে প্রচার পাচ্ছে দেদারসে। তার নাম আলী হাসান উসামা। তিনি বলছেন, মাদ্রাসা- মুজাহিদ নির্মাণের স্থল হতে হবে। আফগানী মোল্লা ওমরের ভাবাদর্শ তিনি বার বারই বয়ান করেন তার ওয়াজে।

এই আলী হাসান উসামা সম্পর্কে বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ শায়খ আবুবকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া বলেন, ‘ইনি মূলত খারেজি। তিনি ছদ্মনাম ব্যবহার করছেন বিভিন্নভাবে। খারেজিরা হানাহানি পছন্দ করে। এরা ইসলামের অপব্যাখ্যা করে নিজেদের প্রয়োজনে। তাই আমি মনে করি আলী হাসান ওসামা’র বই পড়া থেকে প্রজন্মকে দূরে থাকা উচিৎ।’

এখানে উল্লেখ করা দরকার, আলী হাসান উসামার লেখা বেশ কিছু বই রয়েছে। আছে তার বেশ কিছু ফেসবুক পেজ। ওয়ার্ডপ্রেস ওয়েবসাইট। এর মাঝে কিছু বই আছে অনুবাদ। ধর্মীয় জঙ্গিবাদ উসকে দিতে সাহায্যকারী এসব বই উসামা অনুবাদ করেছেন নিজের মতো করে। এগুলো যারা প্রকাশ করেছে- তাদের পরিচয়ও সর্বসাধারণের জানা দরকার।

দেশের বিভিন্ন জেলায় এসব প্রকাশনা অবস্থিত। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- কালান্তর প্রকাশনী (সিলেট), মাকতাবাতুল বায়ান রকমারি কালেকশন, মাকতাবাতুল হাসান, রুহামা পাবলিকেশন, শব্দতরু, সমর্পণ প্রকাশন, প্রত্যয়, মাকতাবাতুল আসলাফ, মাকতাবাতুল হাকীম, মাকতাবাতুশ শামস ইত্যাদি। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ এসব প্রকাশনা সংস্থা কি ধরনের বই ছাপা, বিপণন করে তা খতিয়ে দেখা।

আলী হাসান উসামার পক্ষে কাজ করছেন আরেকজন মওলানা হারুন ইজহার। গাজওয়াতুল হিন্দের জ্বিহাদের জন্য প্রস্তুত থাকার তাগিদ দিয়ে যাচ্ছেন, এই হারুন ইৎহার, যা ইউটিউবে খুঁজলেই পাওয়া যাবে। এরা মনে করছে, আগের হরকতুল জিহাদ, জেএমবিসহ অন্যান্য উগ্র দলগুলো ব্যর্থ হয়েছে কারণ তারা উগ্রতাকে আক্বিদাহ হিসেবে সাধারণ মানুষর কাছে পৌঁছাতে পারেনি।

তারা সেটা পারার জন্যেই এগোচ্ছে চরম পথে। এদের আরেকজন লেখক-বক্তা আছেন মুফতি তারেকুজ্জামান। ইনিও বেশ কিছু বই লিখেছেন, অনুবাদ করেছেন। অনুবাদের সুবিধা হলো- ইচ্ছে মতো নিজের মতবাদ চাপিয়ে দেয়া যায়। কারণ বাংলাদেশের মতো দেশের পাঠকরা মূল বই না ঘেঁটেই তাদের শায়খের কথা বিশ্বাস করে। আর আগে যদি ব্রেন ওয়াশ করাই যায়, তাহলে তো কোনো কথাই নেই!

এই সময়ে আরও বেশ কিছু নাম আছে, যারা বাংলাদেশে সশস্ত্র জঙ্গিবাদী-ধর্মীয় উস্কানি দিচ্ছে। কাদিয়ানি ঠেকাও আওয়াজ তুলে এর সাথে অন্যান্য ধর্মের মানুষকে মুশরিক, কাফের, মুরতাদ বলছে অহরহ। বাংলাদেশের প্রশাসনকে এসব খতিয়ে দেখা দরকার। কারণ অনলাইন, ইউটিউবে কিছুই আজকাল তো আর লুক্কায়িত নেই।

এই কট্টরপন্থি প্রবক্তাদের একটি গ্রুপই হেফাজতের দায়িত্ব নিতে চেয়েছে। মওলানা শফি (র.) এর মৃত্যুর পর এই গ্রুপটি সরাসরি জিহাদি হুংকার দিয়ে গণতন্ত্রের পুরো বিপক্ষে দাঁড়াতে চেয়েছে। বিএনপির মতো দল এদের সমর্থন দিয়ে ঘাড়ে সওয়ার হয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। অথচ এই চরমবাদীরা মূলত গণতন্ত্রকেই অস্বীকার করছে- তা মীর্জা ফখরুলরা বুঝছেন না!

অথবা বুঝেও বর্তমান সরকারকে হটাতে এদের কাজে লাগাতে চাইছেন! মওলানা মামুনুল হক পাকিস্তানে ৪০ দিনের বেশি সময় ছিলেন। তা এখন বেরিয়ে এসেছে। এই গ্রুপটি বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী কায়দায় ‘বাংলা হবে আফগান’ মতবাদী বানাতে চাইছে। তারা প্রতিদিন এই লক্ষ্যে কাজ করছে।

এটা ঠেকাতে সরকারকে যেমন কঠোর হতে হবে- তেমনি প্রকৃত শান্তিকামী ইসলামি ওলামা মাশায়েখদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কারণ বাংলা ভাই- শায়খ রহমানের মতো যাতে তারা ব্যর্থ না হয়- সেই লক্ষ্যেই অগ্রসর হচ্ছে এই গ্রুপটি। যা গোটা দেশবাসীকে ভাবা উচিৎ। মনে রাখতে হবে, মরলে শহীদ আর বাঁচলে গাজী বলে বাংলায় এর আগেও যারা হুংকার দিয়েছে, তারা নিজেরা কেউই রক্ত দেয়নি।

রক্ত দিয়েছে দেশের মেহনতি মানুষের সন্তানেরা। গেল ২৬-২৮ মার্চে যে ১৭ জন প্রাণ দিয়েছেন, আজ কি তাদের কেউ স্মরণ করছে? হেফাজতীরা নিজের চেয়ার নিয়ে ব্যস্ত। যারা প্রাণ দিলেন- তারাও তো এই দেশে সুখে শান্তিতে পারিবারিক জীবন নিয়ে থাকতে পারতেন।

বাংলাদেশে ইউটিউবে জঙ্গিবাদী হুংকারকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। দেশে এবং বিদেশে এদের বিরুদ্ধে জনমত, আন্তর্জাতিক মত গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে, ৩০ লাখ শহীদের রক্তের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

লেখক: কবি ও প্রাবন্ধিক।


poisha bazar

ads
ads