করোনাকালের আত্মোপলব্ধি

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন


poisha bazar

  • ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন
  • ১৩ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩৭,  আপডেট: ১৩ এপ্রিল ২০২১, ২১:২৮

মহান আল্লাহ জগত সৃষ্টি করে সেরা জীব হিসেবে মানুষকে স্বীকৃতি দিলেন। ‘লাকাদ খালাকনাল ইনসানা ফি আহসানি তাকভিম’ অর্থাৎ অবশ্যই আমি মানুষকে সৃষ্টিকুলের সর্বাপেক্ষা অধিক সৌন্দর্য সহকারে সৃষ্টি করেছি। মহান আল্লাহর এ বাণীর নিরিখে বলা যায়, আশরাফুল মাখলুকাত মানুষকে সৃষ্ট-জগতে শুধু শ্রেষ্ঠত্বই দেয়া হয়নি, বরং গঠনাকৃতির দিক থেকেও তাকে সর্বোত্তম অবয়বের নেয়ামত প্রদান করা হয়েছে। মানুষকে মহান আল্লাহ কত অসংখ্য নেয়ামতে ধন্য করেছেন তার সঠিক পরিসংখ্যান ব্যক্ত করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।

‘ওয়া ইন তাউদ্দু নেঅ্মাতাল্লাহি লা তুহ্সুহা’ অর্থাৎ আমি কত নেয়ামত দিয়েছি তা গণনা করে শেষ করা যাবে না। মহান স্রষ্টা প্রদত্ত এই অজস্র নেয়ামত প্রাপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে বান্দাদের জন্য করণীয় হচ্ছে- ‘লাইন শাকারতুম লাআযিদান্নাকুম ওয়ালা ইন কাফারতুম ইন্না আযাবি লাশাদিদ’ অর্থাৎ আমার প্রদত্ত নেয়ামত লাভের পরিপ্রেক্ষিতে যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করো তবে তোমাদের ওপর আমার নেয়ামত আরো বৃদ্ধি করে দেবো আর যদি অকৃতজ্ঞ হয়ে যাও, তবে জেনে রেখো তোমাদের জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করে রাখা হবে- যা তোমাদের মোকাবিলা করতে হবে।

বিশ্বব্যাপী করোনার করাল গ্রাসের এই মহাবিপর্যয়ের সময়ে প্রতিটি মানব-সত্তা পুরো অস্তিত্ব দিয়ে তাদের উপলব্ধির জায়গাটিকে প্রশস্ত ও ক্রমাগত সম্প্রসারণের যথেষ্ট অবকাশ থেকে যায়। আজকে পৃথিবীজুড়ে যে অন্যায়, অনাচার, অত্যাচারের মাধ্যমে মানবতার ভিত্তি-মূলে কুঠারাঘাত করা হচ্ছে, তার কি কোনোই প্রতিকার হবে না!

দুর্বলের ওপর সবলের আঘাত আর মানবতাবিধ্বংসী কার্যকলাপের মধ্য দিয়ে আমরা কি ‘আশরাফুল মাখলুকাত’-এর মর্যাদা ও অবস্থানকে অক্ষুণ্ন রাখতে পেরেছি? মহান আল্লাহ কি বলে দেননি- ‘সুম্মা রাদাদনাহু আসফালা সাফিলিন’ অর্থাৎ মানুষ হিসেবে প্রকৃত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার পরিচয় দিলে তার পরিণামে তাকে নামিয়ে দিই নিচ থেকে অনেক নিচে।

বিশ্বব্যাপী পরিচালিত মানুষ নামের অমানুষদের জঘন্য ও অমানবিক কার্যকলাপের দরুনই মহান আল্লাহ এই মানবসমাজের উপরে মহাবিপর্যয়ের গজব অবতীর্ণ করেন; যুগে যুগে বারংবার একই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। যখনই মানুষ অতি উদ্ধত-অবিনীত, অহঙ্কারী ও অমানবিক হয়ে উঠেছে তখনই নানা ধরনের বিপদাপদ এ পৃথিবীকে গ্রাস করেছে।

পবিত্র কোরানে পূর্ববর্তী অনেক জাতি-গোষ্ঠীর ওপর আপতিত বালা-মুসিবতের বিবরণ প্রদত্ত হয়েছে। এসবের প্রধানতম উদ্দেশ্য হলো এই যে, কোরান অবতীর্ণ হওয়ার পরবর্তী সময়ের মানুষদের দ্বারা যেন এমন সব অপরাধ-কর্ম আর সংঘটিত না হয়। আর যদি একই ধরনের অপরাধ-কর্মের মহড়াই চলে তবে তার পরিণতি সম্বন্ধেও যা বলা যায় তা হলো- ‘পবিত্র কোরানের বিবরণ ও নির্দেশনা আমলে না নিয়ে পাপাচার ও সীমা লঙ্ঘন করলে পূর্ববর্তী লোকদের মতোই শাস্তি ভোগ করতে হবে।

আর তা কেবল পরকালীন জীবনেই নয়, বরং ইহজগতেও কঠিন পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে- যার মোকাবিলা করার সাধ্য মানুষের নেই। আমাদের আজকের পরিণতি অনেকটা তাই, পুরো পৃথিবী করোনা নামক অদৃশ্য এই শত্রুর আক্রমণে দিশেহারা; স্বজনের বুক-ভাঙ্গা আর্তনাদ আর প্রতি মুহূর্তে মানুষের মৃত্যুর ফলে মানব-লাশের সারি দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে।

আমাদেরও কোরানে বর্ণিত পূর্ববর্তী যুগের অবাধ্য ও নাফরমানদের ভাগ্য-বরণ করতে হচ্ছে। আধুনিক বিশ্বের যাবতীয় আবিষ্কার, আয়োজন, উদ্ভাবন আর প্রায়োগিক দক্ষতার কোনো কিছুই কাজে আসছে না; পৃথিবীর সকল প্রচেষ্টার আন্তরিক প্রয়োগের পরেও আজ আকাশ-পানে মহান স্রষ্টার কুদরতের দিকেই আত্মসমর্পণ করতে হচ্ছে।

মহাশক্তিধর প্রভুর সাহায্য ব্যতিরেকে আসলে এই মহামারী পৃথিবী থেকে বিদায় নেবে না- এটি বুঝতে আর কারো বাকি নেই। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির উৎকর্ষতার এই যুগে সমরাস্ত্রের বিপুল তাণ্ডবে দাম্ভিক রাষ্ট্রগুলোও আজ তাদের অসহায়ত্ব প্রকাশ করছে; সকলেই আজ বিশ্ব-প্রভুর রহমতের মুখাপেক্ষী হয়ে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে।

করোনা ভাইরাসের করাল গ্রাসে আজ মানুষের ন্যূনতম দায়িত্ববোধেরও বিসর্জন দেখতে পাচ্ছি। শুধু নিজেকে রক্ষা, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার ভয়াল মহড়ায় মানবতা আজ নিদারুণ এক আর্তনাদের প্রতিচ্ছবি। পবিত্র কোরান আর হাদিসের বাণীর আলোকে কেয়ামতের কঠিন দিবসের ভয়াবহতার যেসব চিত্র সম্বন্ধে আমরা ওয়াকিবহাল রয়েছি, দুর্ভাগ্যজনক আজকের করোনা আক্রান্ত সমাজে সেই সব ঘটনার দৃশ্যায়ন প্রত্যক্ষ করছি।

হাশরের ময়দানে মানুষ ‘ইয়া রাব্বি নাফসি’ অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাকে বাঁচাও বলে যে আর্তচিৎকার করতে থাকবে, সে ধরনের বিষয়ই যেন আজ পৃথিবীতে আমাদের খুব পাশাপাশিই নিয়মিত অবলোকন করছি। কেয়ামতের ভয়াবহতায় মানুষ সেদিন প্রিয়জনের কথা ভুলে যাবে, ছেলেমেয়ে তার মাকে ভুলে যাবে, মা তার সন্তানকে হারিয়ে ফেলবে, বাবা বলবে এটা আমার ছেলে নয়, মেয়ে বলবে উনি আমার বাবা নয়, স্ত্রী তার স্বামীকে পরিচয় দেবে না, স্বামী তার স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলবে- এমনই কঠিন হবে সেই কেয়ামত দিবস!

মহামারীর কবলে নিপতিত বনি আদম ইহকালীন জীবনেই কেয়ামতের সেই ভয়াবহতার কিঞ্চিৎ মহড়া দিয়ে যাচ্ছে; শুধুই নিজেকে বাঁচাবার জন্য। করোনাক্রান্ত মা আজ আপন সন্তানদের কাছেও নিরাপদ নন, চিকিৎসার নাম করে মায়ের আবাস থেকে বাহনে করে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসতে গিয়ে পথিমধ্যে গর্ভধারিণী পূজনীয় জননীকে গভীর অরণ্যে ফেলে রেখে সন্তানদের চলে যাওয়ার নির্মম দৃশ্যের মঞ্চায়ন ঘটেছে।

আইসোলেশন বা কোয়ারেন্টাইন পালনের নিষ্ঠুর বাস্তবতায় পরম শ্রদ্ধেয় বাবাকে পাশের রুমে আটকে রেখে দীর্ঘ সময় তার কোনো খোঁজ-খবর না নেয়া, চরম ক্ষুধা-তৃষ্ণার যন্ত্রণা সইতে না পেরে খাবার, খাবার, ক্ষুধা, ক্ষুধা বলে অসহায় পিতার গগনবিদারী আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারি হয়ে গেলেও একই বাসগৃহের ভিন্ন রুমে অবস্থান করা প্রিয়তমা স্ত্রীর কর্নকুহরে নেই পীড়িত স্বামীর আওয়াজ কোনো আবেদনই সৃষ্টি করতে পারেনি; এমনকি যাদের ক্ষুধা-তৃষ্ণা, চাওয়া-পাওয়ার নানাবিধ চাহিদা পূরণের জন্য জীবন-যৌবনের সাধ্য-সামর্থ্যরে সবটুকু ঢেলে দিলেন পাশের কক্ষে থাকা সেই ছেলেমেয়েদের পাষাণ হৃদয়েও সামান্যতম ভাবাবেগ কাজ করেনি।

এভাবেই স্ত্রী, কন্যা আর পুত্রদের নাগালের মধ্যেই যে পিতার মর্মান্তিক দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে ইহধাম ত্যাগ করতে হয়, তাঁর এ নিষ্ঠুর বাস্তবতা থেকে অন্য পিতাদের যে অনেক কিছুই শেখার থেকে যায়! কুষ্টিয়া নিবাসী এক ভাগ্য-বিড়ম্বিত ব্যক্তির কথা জানি, স্ত্রী যাকে নিয়ে ঢাকা শহরের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে শুধু ঘোরাঘুরিই করলেন, কোনো চিকিৎসালয়ের সদর-দ্বারই তার জন্য উন্মোচিত হয়নি; স্বামীর সুচিকিৎসার কোনো ব্যবস্থাই তিনি করতে পারেননি।

অবশেষে অ্যাম্বুলেন্সে অসহায় স্বামী দুর্ভাগা স্ত্রীর কোল-পরশেই শেষ নিঃশ্বাসের মধ্য দিয়ে নিষ্ঠুর পৃথিবীকে চিরবিদায় জানালেন! বর্তমান করোনা বাস্তবতায় এসব আর কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, প্রতিনিয়ত মর্মন্তুদ ও হৃদয়বিদারক ঘটনা একের পর এক ঘটেই চলেছে। করোনা আমাদেরকে অপ্রত্যাশিত এসব ভয়াল দৃশ্য ও নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে সকলের উপলব্ধির জগতকে প্রসারিত করার সুযোগ এনে দিয়েছে। অন্যদিকে প্রিয়জনদের ফেলে যাওয়া করোনা আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসা ও সেবায় মানবতাবাদী কিছু মানুষকেও আমরা দেখতে পাচ্ছি নিজেদের জীবনকে তুচ্ছ-জ্ঞান করে এ মহামারীর মোকাবিলা করছেন।

মৃত্যুপথ-যাত্রী মানুষকে বাঁচিয়ে তুলছেন আর যদি বাঁচাতে না পারছেন তবে ঘনিষ্ঠদের চলে যাওয়া সত্তে¡ও তারাই মৃত ব্যক্তির লাশ দাফন করছেন বা সৎকার সম্পন্ন করে চলেছেন। নারায়ণগঞ্জের এক কীর্তিমান ওয়ার্ড কমিশনার এহেন মহতি কার্য দ্বারা তার মানবিকতার স্বর্গদ্বার উন্মোচন করে অনন্য ভ‚মিকা পালনের মাধ্যমে এক অনবদ্য নজির সৃষ্টি করেছেন। চিকিৎসাকর্মী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনিক দায়িত্বশীল লোকজনের মধ্যে অনেকেই এই মহামারীতে মানবতাবাদী চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে নিরলস আত্মনিবেদিত রয়েছেন।

মানুষের নৈতিক শিক্ষা ইহজাগতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক বড় শক্তি। করোনা মহামারী প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণেও যে নৈতিকতার মহান শিক্ষা প্রতিষেধক ভ্যাকসিনের চাইতেও বহুলাংশে অধিক সক্ষম তা নানান দেশে ইতোমধ্যেই প্রমাণিত হয়েছে। অতি সম্প্রতি দুনিয়ার অন্যতম সভ্য ও উন্নত দেশ জাপানের দেশপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিকদের পারিবারিক ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা যে প্রত্যয়দীপ্ত চেতনা, তারই মাধ্যমে মূলত সে দেশে করোনার ভয়াল থাবা মোকাবিলায় তারা অনেকাংশেই সফল হয়েছেন।

যদিও বিশ্বের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞগণ জাপানে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতির আশঙ্কা করেছিলেন, তার বিপরীতে সচেতন জাপানি জাতি তাদের দীর্ঘ লালিত ঐতিহ্য নৈতিক মূল্যবোধের তেজোদীপ্ত শক্তি ও আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হয়ে করোনা প্রতিরোধে বিস্ময়কর সাফল্য অর্জন করেছে। জাপানের অধিবাসীগণ মনে করেন এ সাফল্যের পেছনে তাদের নৈতিক শক্তিই প্রধান নিয়ামক হিসেবে কাজ করেছে।

সারাদেশে লকডাউনের কড়াকড়ি পরিস্থিতি সৃষ্টি না করে এবং জরুরি অবস্থা ঘোষণার প্রয়োজনীয়তাও অবশ্যম্ভাবী না ভেবে প্রজাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের অনুরোধে জনগণ ব্যাপক সাড়া দিয়েছে; সংক্রমণ রোধে তারা অধিকাংশই আর ঘরের বাইরে যায়নি। অপরিহার্য কারণে যারা বের হয়েছেন তারাও স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে যথাযোগ্য পন্থা অবলম্বন করেছেন।

দেশের সরকারের প্রতি প্রজা সাধারণের এই যে আনুগত্যের পরাকাষ্ঠা তারা প্রদর্শন করলেন তার উত্তম ফলাফল আজ গোটা জাপানি জাতি উপভোগ করছেন।

কোভিড-১৯ প্রতিরোধে জাপানি জাতির এই সাফল্যের পেছনে সরকারের সঠিক নীতি, বহুপক্ষীয় নিরলস প্রচেষ্টা, পারস্পরিক প্রত্যাশিত সহযোগিতা, স্বাস্থ্যকর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রম, স্বাস্থ্যবিষয়ক জনসচেতনতা ইত্যাদি নানাবিধ কারণ থাকলেও মূল যে বিষয়টি দুর্ভোগ দূরীকরণে অবদান রেখেছে তা হলো নাগরিকদের অমূল্য নৈতিক শক্তি এবং সেই শক্তির যথাযথ প্রায়োগিক চর্চা।

আর এ বিষয়টিই টোকিও মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল ইউনিভার্সিটি হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মি. রিউজি কোইকের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে পরিস্ফুট হয়ে ওঠে। সর্বোচ্চ গড় আয়ুর মানুষের এই দেশটিতে করোনা প্রতিরোধের কার্যকর বিষয়াবলির ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না সরকারের নীতির কারণে সংক্রমণ কমেছে। দেখে মনে হচ্ছে জাপান ভালোই করছে।

আর সেজন্য ধন্যবাদ এমন কিছু জিনিসকে যা আসলে পরিমাপ করা যায় না; যেমন জাপানিদের দৈনন্দিন জীবনাভ্যাস ও আচরণ’। জাপানি জাতির মধ্যে ‘অন্যকে সমস্যায় ফেলা উচিত নয়’ এবং অন্যকে বিরক্ত করা উচিত নয়’- এই নৈতিক শিক্ষা ও নাগরিক জীবনে তার চর্চা আশৈশব শুরু হয় বলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক ড. মো. মনির উদ্দিন তাঁর প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছেন। জাপানিদের এই নৈতিক শিক্ষার শক্তি কি আমাদের ভাবনার জগতকে নতুন করে তাড়না দেয় না?

বিশ্বব্যাপী চলমান করোনা মহামারীর ভয়ানক পরিস্থিতি আমাদেরকে প্রতিনিয়ত ভিন্ন, ব্যতিক্রমী ও বৈচিত্র্যময় ভাবনাসমূহের সলিল-গহীনে অবগাহনের সুযোগ সৃষ্টি করে চলেছে। আমাদের চিন্তা, বিবেক ও চৈতন্যবোধের চরম দারিদ্র্য অবস্থাও নির্মম বাস্তবতার দর্পণে নিত্যদিন ফুটে উঠছে; এসবের মাধ্যমে করোনাকালের আত্মোপলব্ধির জায়গাটিও ক্রমান্বয়ে প্রসারিত হয়ে সংবেদনশীলতার রূপ পরিগ্রহ করছে।

এমতাবস্থায় পৃথিবীর মহান স্রষ্টা তাঁর মহানুভবতার স্বর্গীয় দ্বার উন্মোচন করে আমাদেরকে বারবার ডাকছেন- ‘তুবু ইলাল্লাহে তাওবাতান্নাসুহা’ অর্থাৎ তোমরা ফিরে আসো অনুতাপ-অনুশোচনা সহকারে, একনিষ্ঠ চিত্তে তওবা করো। আর মহামারীর এই মহাদুর্যোগেও তোমাদের পরম রবের অনুগ্রহের ব্যাপারে আশান্বিত থাকো।

‘লা তাকনাতু র্মিরাহমাতিল্লাহ’ অর্থাৎ কখনোই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হবে না। করোনার অবসান ঘটাতে গোটা পৃথিবীর তাবত আয়োজনই যখন ব্যর্থতায় পর্যবসিত, আমরা তখন মহান আল্লাহর রহমতের প্রত্যাশায় তাঁরই নিকট মস্তকাবনত হই; তাঁরই প্রদর্শিত পথে আত্মোৎসর্গ করি। এতেই হয়তো বিপর্যস্ত বিশ্বমানবের ওপর খোদায়ী রহমতের ফল্গুধারা প্রবহমান থাকবে।

লেখক : চেয়ারম্যান, ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

মানবকণ্ঠ/এসকে






ads
ads