নিত্যপণ্যের অস্থির বাজার, হুমকিতে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী

এস এম নাজের হোসাইন
এস এম নাজের হোসাইন - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • এস এম নাজের হোসাইন
  • ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১৬:৫০

বৈশ্বিক করোনা মহামারীতে অনেক মানুষ চাকরি, আয়রোজগার হারিয়ে অনেকে গ্রামে প্রত্যাবর্তন করলেও করোনার প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিত্যপণ্যের বাজারে আগুন হু হু করে বাড়তেই লাগল। একদিকে মানুষের আয় কমেছে, করোনায় সুরক্ষাসহ জীবন-জীবিকা নির্বাহে ব্যয় বৃদ্ধি নাগরিক জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। যদিও সরকারি বিভিন্ন দফতর ও মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিদের এ কথায় সায় নেই।

পেঁয়াজ, চাল, আলু, সবজি, ভোজ্যতেল, চিনি, আটা, ময়দা, মসলা এভাবে চক্রাকারে এক একবার এক একটি পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। করোনার এই মহামারী সংকটে ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ হিসাবে দেখা দিয়েছে প্রান্তিক ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নয়ন ঘটালেও গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ীর কারসাজিতে নিত্যপণ্যের বাজার অস্থিরতায় এই সফলতা ম্লান করে দিচ্ছে। অনেকে আবার নিজেদের অসাধু ব্যবসার সফল সিঁড়ি তৈরি করতে সরকারি দলের নেতার খাতায় নাম লেখাচ্ছেন।

বাংলাদেশের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তায় চাল একটি অন্যতম উপাদান। ভেতো বাঙালির ভাত ছাড়া চলেই না। আর সেই চালের বাজার অস্থির বেশ কয়েক মাস ধরেই। ঊর্ধ্বমূখী চালের অস্থির বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানিতে শুল্ক কমিয়েছে। আর যারা চাল সংকটের সাথে জড়িত সেই মিলমালিকদেরকে বিদেশ থেকে চাল আমদানিতে অনুমতি প্রদান করেছে সরকার।

তারা চাল আমদানি করে তাদের গুদামসহ বিভিন্ন জায়গায় চালগুলো মজুত করে রেখেছেন। আমদানিকৃত চাল বাজারে পর্যাপ্ত সরবরাহ করা না হলে এর প্রভাব ফেলা কঠিন। ফলে বিপুল চাল আমদানির পরেও বাজারে তার প্রভাব দেখা যায়নি। টিসিবির তথ্যমতে, ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি খুচরা বাজারে সরু চালের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫৪ থেকে ৬০ টাকা।

চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি তা বিক্রি হয়েছে ৫৮ থেকে ৬২ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে সরু চালের দাম বেড়েছে ৫.২৬ শতাংশ। ২০২০ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি মাঝারি চাল বিক্রি হয়েছিল ৪৪ থেকে ৫০ টাকায়। ২০২১ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিক্রি হয়েছে ৫২ থেকে ৫৮ টাকায়। বছরের ব্যবধানে দাম বেড়েছে ১৭.০২ শতাংশ। একই সময়ে মোটা চাল বিক্রি হয়েছিল ৩২ থেকে ৩৬ টাকায়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিক্রি হয়েছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৩৫.২৯ শতাংশ।

চাল ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা বলছেন, মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশে আশ্রয় নেবার পর থেকে চালের মজুতে কিছুটা টান পড়েছে। অপর দিকে উত্তরাঞ্চলের কিছু জায়গায় বন্যার কারণে ধান উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হয়েছে। আবার সরকারি উদ্যোগে খাদ্য মুজত বাড়াতে ধান-চাল সংগ্রহ মিল মালিকদের অসহযোগিতার কারণে প্রয়োজনীয় সংখ্যক ধান-চাল সংগ্রহ করা যায়নি।

সরকারি খাদ্য গুদামে চালের মজুত ঘাটতি হওয়ায় মিলমালিকদের কারসাজিতে এই অস্থিরতা। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২ লাখ ১৩ হাজার ৬৭ টন বোরো ধান, ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৭৪৮ টন সিদ্ধ চাল এবং ৮৮ হাজার ৬০৪ টন আতপ চালসহ মোট ৮ লাখ ৮৮ হাজার ৯১৭ টন ধান-চাল সংগ্রহ করা হয়েছে; চালের আকারে যা ৮ লাখ ২৫ হাজার ৮৪৫ টন।

গত বোরো মৌসুমে সরকার নির্ধারিত পরিমাণে ধান-চাল সংগ্রহ করতে না পারায় আমন মৌসুমে অভ্যন্তরীণ বাজার থেকে মোট সাড়ে আট লাখ টন খাদ্যশস্য সংগ্রহ করতে চেয়েছিল। এর মধ্যে ২ লাখ টন ধান এবং সাড়ে ৬ লাখ চাল কেনার লক্ষ্য ঠিক করেছিল। খাদ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, ২০১৯ সালের ১ জুলাই সরকারের হাতে খাদ্য মজুদ ছিল ১৬ দশমিক ৭৪ লাখটন।

২০২০ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মজুদ ছিল ১১ দশমিক ৮৮ লাখ টন। তবে বর্তমানে (২৫ জানুয়ারি ২০২১ সাল) পর্যন্ত সরকারি খাদ্যশস্যের মজুদ রয়েছে ৭ দশমিক ৪ লাখ টন। এর মধ্যে চাল রয়েছে ৫ লাখ ৪৮ হাজার টন এবং গমের মজুদ এক লাখ ৫৬ হাজার টন। আমদানির পাশাপাশি সরকার ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমও জোরদার রেখেছে।

চলতি আমন সংগ্রহ (২০২০ সালের ৭ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া) চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি সর্বমোট ৫১ হাজার ২৬ টন ধান-চাল সংগ্রহ হয়েছে। তবে আমন মৌসুমে সরকারের ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ লাখ টন। জানুয়ারির শুরুর দিকে দুই দফায় ১৭৭টি প্রতিষ্ঠানকে ৬ লাখ ৭৬ হাজার টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় খাদ্য মন্ত্রণালয়। কিন্তু গত এক মাসে সরকারি ও বেসরকারিভাবে চাল আমদানি হয়েছে মাত্র ১ লাখ টন। এর মধ্যে বেসরকারিভাবে গত ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চার দফায় দুই হাজার ১৫৩ টন চাল আমদানি হয়।

সাধারণ মানুষের খাদ্য তালিকার অন্যতম অত্যাবশ্যকীয় উপকরণ ভোজ্যতেলের বাজার বেশ কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বগতি। প্রতিবছর শীতকাল আসলেই ভোজ্যতেলের বাজারে সংকট তৈরি হয়। টিসিবির তথ্যমতে, গত ৭ ফেব্রুয়ারি খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে প্রতি লিটার ১১৪ থেকে ১১৮ টাকায়। গত বছরের এই সময়ে বিক্রি হয়েছিল ৮৮ থেকে ৯২ টাকায়। এক বছরের ব্যবধানে এই তেলের দাম বেড়েছে ২৮.৮৯ শতাংশ।

বোতলজাত সয়াবিন তেল (৫ লিটার) গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি বিক্রি হয়েছিল ৪৭০ থেকে ৫২০ টাকায়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিক্রি হয়েছে ৫৭০ থেকে ৬২৯ টাকায়। দাম বেড়েছে ২০.২০ শতাংশ। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছিল ১০৫ থেকে ১১৫ টাকায়। গত ৭ ফেব্রæয়ারি বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়। দাম বেড়েছে ২০.৪৫ শতাংশ।

গত বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি খোলা পাম তেল বিক্রি হয়েছিল লিটার ৭০ থেকে ৮২ টাকায়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিক্রি হয়েছে ৯৭ থেকে ১০০ টাকায়। দাম বেড়েছে ২৯.৬১ শতাংশ। গত বছরের একই তারিখে সুপার পাম অয়েল বিক্রি হয়েছিল ৮২ থেকে ৮৬ টাকায়। গত ৭ ফেব্রুয়ারি বিক্রি হয়েছে ১০২ থেকে ১০৫ টাকায়। দাম বেড়েছে ২৩.২১ শতাংশ। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে লিটার ১২৮ টাকায়। প্যাকেটজাত ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

দেশে বছরে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ১৫ লাখ টন। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ তেল আমদানি করতে হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এর হিসাব অনুসারে, গত বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ১৮ লাখ ২১ হাজার মেট্রিকটন (পরিশোধিত ও অপরিশোধিত) ভোজ্যতেল আমদানি হয়েছে। এর আগে ২০১৯ সালে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৫ লাখ ১৬ হাজার মেট্রিক টন।

কোম্পানিগুলো অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানি করার পর পরিশোধন করে তা বাজারজাত করেন। আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটাতে প্রধানত পাম অয়েল ও সয়াবিন তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে একদিকে পাম অয়েল পরিশোধিত অবস্থায় বিদেশ থেকে এনে বাজারজাত হচ্ছে। অন্যদিকে সয়াবিন তেল অপরিশোধিত (ক্রুড) অবস্থায় এনে দেশে পরিশোধন করে তারপর বাজারজাত করছেন উদ্যোক্তারা।

দেশীয় সরিষা তেলের বাজার সংকুচিত হবার পর থেকে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হয়ে ওঠা এ ভোজ্যতেলের বাজারে এখন নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশের অন্যতম গুটিকয়েক বৃহৎ ও খ্যাতনামা করপোরেট প্রতিষ্ঠান গ্রুপ। গত এক বছরে ভোজ্যতেল আমদানির ৯০ শতাংশই বৃহৎ চার প্রতিষ্ঠানের অধীনে হয়েছে। তবে সরকারিভাবে দেশে নিত্যপণ্যের প্রকৃত চাহিদা, উৎপাদন, আমদানি ও নিট সরবরাহের প্রকৃত চিত্র না থাকায় বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারি ভ‚মিকাও কাজে আসছে না বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

পাইকারি ভোজ্যতেলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, ২০২০ সালের জুলাই মাসে সয়াবিন তেল বিক্রি হয়েছে প্রতিমণ ৩২০০ টাকায়। গত ২০ দিন আগে তা সাড়ে চার হাজার টাকায় গিয়ে ঠেকে। গত সপ্তাহে তা চার হাজার টাকা নেমে এলেও গতকাল আবারো বেড়ে ৪৪৪০ টাকায় উঠে যায়। গত জুলাইয়ে পাম অয়েলের মণ ছিল ২২৫০ টাকা। ২০ দিন আগে তা ৩৯০০ টাকায় উঠে যায়। গত সপ্তাহে তা ৩৩০০ টাকায় নেমে আসে।

এই সপ্তাহে তা ফের বেড়ে ৩৫৫০ টাকা হয়েছে। গত জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিটন ভোজ্যতেল বিক্রি হয়েছিল ৫২৫ থেকে ৫৩০ ডলারে। এখন তা ১১০০ ডলারের ওপরে উঠেছে, মাঝখানে ১১৯০ ডলারও হয়েছিল। খুচরা ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, ভোজ্যতেলের কারসাজির সঙ্গে মিল মালিকরা জড়িত। কারণ পরিশোধিত ও অপরিশোধিত ভোজ্যতেল আমদানির সঙ্গে হাতে কয়েকটি বৃহৎ আমদানিকারকের হাতে।

তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার যে অজুহাত তারা দিচ্ছেন, তার সাথে বাস্তবতার মিল নেই। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও আমাদের দেশে তার ধাক্কা লাগতে অন্তত তিন মাস লাগার কথা। কারণ এলসি খুলে তেল আমদানি করতে প্রায় তিন মাস লেগে যায়। কিন্তু আমদানিকারক এবং মিল মালিকরা আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এখানে বাড়িয়ে দিয়েছেন।

এদিকে ১৭ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ভোজ্যতেলের দাম নির্ধারণ করে দিলেন। যা বর্তমান বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেকারণে সরকারের দাম বেঁধে দেওয়া দাম ব্যবসায়ীদের অতিরিক্ত মূল্যকে স্বীকৃতি প্রদানের মতো। কারণ তারা অবৈধভাবে দাম যে দাম বাড়িয়ে দিয়েছে তা সরকার অনুমোদন দিয়েছে। সেখানে ভোক্তা স্বার্থ বিবেচনায় নেয়া হয়নি।

নগরে নাগরিক জীবন ও জীবিকায় সংসারে আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো গ্যাস। নাগরিক জীবনের আধুনিকতার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এলপি গ্যাস জ্বালানি নিরাপত্তায় একটি বড় অংশ দখল করে আছে। আর এলপি গ্যাসের বাজারও অস্থির বেশ কয়েক মাস ধরেই। গত ডিসেম্বর মাসেও ১২ কেজি এলপি গ্যাস বিক্রি হয়েছিল ৮৫০ টাকায়। জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ থেকে প্রতি সিলিন্ডারে ২০০ টাকা বেড়ে ১০৫০ টাকা হয়েছে।

২০২০ সালের এপ্রিল মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজি (সিলিন্ডার) গ্যাস এর আন্তর্জাতিক দর ছিল প্রতি টন ২৩৭ ডলার। গত জানুয়ারি মাসে তা বিক্রি হয়েছে ৫৩৬ ডলারে। এপ্রিল থেকে জানুয়ারি প্রতিমাসেই এই গ্যাসের দাম বেড়েছে। বেসরকারি এলপিজি ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের মতে, এলপি গ্যাস সিলিন্ডার গ্যাসের দাম আন্তর্জাতিক বাজারে ওঠানামা করে। বিশেষ করে শীতকালে দাম বেড়ে যায়। আবার গরমকালে দাম নামতে থাকে। আন্তর্জাতিক বাজারে এই গ্যাসের দাম এখন সর্বোচ্চ দাম চলছে। তবে তারা সিলিন্ডারের দাম বাড়ায়নি। আর এ সুযোগে খুচরা পর্যায়ে অনেক সময় দাম কিছুটা বেড়ে যায়।

মানুষকে জিম্মি করে পকেট কাটা ও অর্থ আহরণই তাদের একমাত্র চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও আদর্শ। অসাধু ব্যবসায়ীদের ন্যূনতম দেশাত্মবোধ ও মানবিকতা বলতে কিছুই নাই। ধর্মীয় নীতিবাক্য ও উপদেশ দিয়ে তাদের চরিত্র বদল সম্ভব নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, চাল, ভোজ্যতেল ও এলপিজির বাজারে চলমান অস্থিরতা দূর করতে সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

বাজারে ন্যায্য ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। আবার ব্যবসাবাণিজ্যে সুষ্ঠু প্রতিযোগিতা ও সুস্থ পরিবেশ তৈরি করার জন্য প্রতিযোগিতা কমিশন প্রতিষ্ঠা করলেও ২/৪টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্যদেরকে বাজারে প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। গুটিকয়েক অসাধু ব্যবসায়ী যেন পুরো নিত্যপণ্যের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে তার জন্য প্রতিযোগিতা কমিশনকে সক্রিয় হতে হবে।

নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি ও অস্থিরতা রোধে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর মতে, ভোজ্যতেল ও চালের বাজার কয়েক মাস ধরেই অস্থির। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে এলপি গ্যাস। সংকটকালীন খাদ্য বিভাগের আওতায় ওএমএস চালু করা, টিসিবির মাধ্যমে চাল ও ভোজ্যতেল বিক্রির দাবি করা হলেও সংকটকালীন টিসিবি নিষ্ক্রিয়, তাদের পণ্যতালিকায় আর চাল ও ভোজ্যতেল নেই।

আছে পচা পেঁয়াজ। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জেলা পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা দিয়ে নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি সম্ভব নয়। লোকবল ও লজিস্টিক সুবিধা বাড়াতে হবে। সরকারের অন্যান্য প্রশাসনিক অঙ্গকে সমানভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়াও বিদেশ থেকে আমদানিকৃত খাদ্য-পণ্য কি পরিমাণ ও কারা আমদানি করছেন তাদের বিতরণ ব্যবস্থাও পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

ভোক্তাদের শিক্ষা ও সচেতনতায় আরো বেশি জোর দিতে হবে। ভোক্তারা সচেতন হলেই ব্যবসায়ীদের কৃত্রিম সংকট ও কূটকৌশল বুঝতে পারবে। নিত্যপণ্যের বাজার তদারকি জোরদার, বাজার ব্যবস্থাপনায় ব্যবসায়ীদের একচেটিয়া আধিপত্য রোধ করে ভোক্তা প্রতিনিধি অন্তর্ভুক্ত করা, তদারকিতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার লোকজন, ভোক্তা ও গণমাধ্যম প্রতিনিধি সমন্বয়ে সমন্বিত বাজার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদার, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কার্যসূচিতে নিত্যপণ্যের বাজার তদারকিকে অগ্রাধিকার কর্মসূচি হিসেবে যুক্ত করা গেলে কিছুটা সুফল মিলতে পারে।

লেখক: ভাইস প্রেসিডেন্ট, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।






ads
ads