‘সময়’ সহজীকরণ এখন সময়ের দাবি!

মেজর আফসারী (অব.)
মেজর আফসারী (অব.) - সংগৃহীত

poisha bazar

  • মেজর আফসারী (অব.)
  • ১৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০:৪০

শুভ নববর্ষ। আরো একটি নতুন বছর এলো আমাদের জীবনে। দুই হাজার বিশ ‘করোনা’ বিষ কাটিয়ে, ২০২১ হোক মহানন্দ ও মধুময়। বছর মানে ছোট-ছোট সময়ের যোগফল। মোটামুটি একটা দীর্ঘ সময়। আজকের বিষয় ‘সময়’। জ্বী, আজ কথা বলব সময় নিয়ে। সময় নিয়ে কথা বলার সময় আপনার আছে তো! তবে, আসুন; শুরুতেই জানতে চাই- সময় কী? কি!ভাবতে শুরু করলেন?

আগে কখনো ভেবেছেন কি? জানতে চেয়েছেন, সময় কাকে বলে? সময় দেখতে কেমন? সময় কি দেখা যায়? গোল? পুরানো ঘড়ির দিকে তাকালে তাই মনে হয়। না কি লম্বা? ডিজিটাল ঘড়ির দিকে তাকালে, লম্বা না হলেও, গোল নয় বোঝা যায়। সময়ের গতি কি আঁকা-বাঁকা, না কি সোজা? সময় কঠিন, না কি সহজ? সময় নিয়ে সময় করে, ভাবা প্রয়োজন নয় কি? এক সময় মানুষকে সময় নিয়ে খুব একটা ভাবতে হতো না।

প্রচুর সময় ছিল হাতে! কি ভুল বল্লাম? না কি তেমন কোন কাজ ছিল না হাতে; সময় ব্যয় করার সুযোগ ছিল কম! সময় কি ব্যয় হয়? নাকি দিন-রাত, প্রতিনিয়ত চলতে থাকে সম্মুখ পানে, বর্তমানকে অুীতে ফেলে আপন গতিতে ভবিষ্যতের দিকে! সময় চিরকালই একই পরিমাণ। সময় বাড়েও না কমেও না। সময়ের মূল্য বাড়ে-কমে, ব্যক্তি ভেদে! মেধার কারণে; ব্যক্তির মানানুযায়ী।

এক সময় মানুষ গাছ কিংবা গুহায় বাস করত। প্রকৃতি থেকে ফল-মূল সংগ্রহ করে খেত। তখনো সমপরিমাণ সময় ছিল, ব্যবহৃত হতো কম। কাজ ও কাজের প্রয়োজন ছিল কম। কাজ না করলেও মানুষের জীবন চলত। ধীরে ধীরে মানুষ সভ্য ও উন্নত হতে থাকল, বাড়তে থাকল কাজ, কাজের চাপ। কাজের সঙ্গে সময়ের একটা নিবিড় সম্পর্ক আছে। একে অন্যের সম্পূরক।

কাজ বেশি তো সময় কম, সময় বেশি মানে, কাজ কম। তাও কিন্তু ঠিক নয়! আসলে কাজই সময়, সময়ই কাজ। কিভাবে? বলছি সে কথা। আসলে সময় দেখা যায় না, ছোঁয়া যায় না, বোঝা যায় না, সময়ের অস্তিত্ব ফিল করা যায় না! অতএব; বলা যায়, একটি কাজ থেকে আর একটি কাজ বা একটি কাজের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কিংবা অবসর থাকার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জার্নিটুকুই হলো সময়।

আর একটু পরিষ্কার করে বলতে গেলে বলতে হয়, অবসর বলতে কিছু আছে কি? ঘুম, বিশ্রাম কি অবসর? না! ওটাও কাজ। ঘুম ও বিশ্রম নেয়াওতো একটা কাজ। কারণ, ঘুম বা বিশ্রাম হলো পরবর্তী কঠিন কোন কাজের প্রস্তুতি। কাজের প্রস্তুতিও তো কাজ। হয়তো বা তাই প্রচলিত আছে, “জ্ঞানীর নিদ্রা, মুর্খের এবাদতের চেয়ে মূল্যবান”। আসলে সময় মানেই কাজ, আর কাজ মানেই সময়! কাজ ছাড়া সময় ও সময় ছাড়া কোন কাজের অস্তিত্ব নেই।

অর্থাৎ কাজই সময়, সময়ই কাজ। আমরা প্রতিনিয়ত কাজ ও সময়ের দোলাচলে চলছি। এটাই জীবন। কাজ নেই; সময়ও নেই; অর্থাৎ মৃত্যু। মৃত মানুষের সঙ্গে কাজ ও সময়ের কোনো সম্পর্ক নেই। অতএব; সময় মানে কাজ, সময় মানে অস্তিত্ব, সময় মানে জীবন। তাই আমরা বলি- “লাইফ টাইম” অর্থাৎ “এক জীবন”। জীবন মানে অস্তিত্ব বা অবস্থান, ভূমণ্ডলে অবস্থান বা পৃথিবীতে অবস্থান। স্বর্গে নয়! স্বর্গের কথা, সুযোগ হলে, পৃথকভাবে অন্য সময় আলোচনা করা যাবে। এখন আছি পৃথিবীতে, আসুন ভাবি পৃথিবী নিয়ে।

পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কী? টাকা-পয়সা? ধন-দৌলত? সহায়-সম্পদ? নাকি ক্ষমতা? যার যেটা কম এবং বেশি প্রয়োজন সে হয়তো সেটাই বলবে। উত্তর হয়তো এক হবে না! কিন্তু আমি মনে করি, পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘মানুষ’। অর্থাৎ এক একটি লাইফ টাইম, মানে সময়। তা লিপিবদ্ধ করলে হবে বই, আর অডিও-ভিডিও রেকর্ড করলে হবে চলচ্চিত্র।

মানুষকে হতে হবে মানবিক। অর্থাৎ মানবিক সময়। মানুষের চেয়ে মানবিক মানুষ আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ, আরো উন্নত। মানবিক মানুষ মানে মানবিক সময়, উন্নত সময়। মানুষ মানবিক হয় শিক্ষা ও ধর্ম চর্চার মাধ্যমে। মানুষ মানবিক না হলে, সে একটি প্রাণী মাত্র। মানব প্রাণী। মানুষের জন্ম হয় প্রাণীস্বরূপ। মানুষ মানবিক গুণে গুণান্বিত না হলে সে কিসের মানুষ! মানবতাই যদি না থাকল; তবে মানুষ, মানব হয় কি করে? মানবতাই মানুষের সর্বাপেক্ষা বড় ও মৌলিক গুণ।

মানবতাই মানুষকে মানুষ করে তোলে। অতএব, পৃথিবীতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো- ‘মানুষ’। মানবিক মানুষ। “সবার উপরে মানুষ সত্য, তাহার উপরে নাই”। সৃষ্টি ও সৃষ্টির সব কিছুই মানুষের জন্যে। পৃথিবী মানুষের জন্যে- মানুষ পৃথিবীর জন্যে নয়! মানুষ মানুষের জন্যে। অর্থাৎ মানুষকে প্রয়োজন মানুষের। এমন কি সৃষ্টি কর্তারও প্রয়োজন মানুষ! মানুষবিহীন সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের কথা একবার ভেবে দেখুন!

তবেই বুঝতে পারবেন মানুষের প্রয়োজনীয়তা কতটা গুরুত্বপূর্ণ! মানুষ স্রষ্টার কতটা প্রিয়, তা বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত আছে। এ মূল্যবান ও সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ মানবিক মানুষের প্রয়োজনীয়তাগুলোই পৃথিবী বা সৃষ্টির সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয়তা বা নিডস্ ( Needs) । যে প্রয়োজনীয়তা বা নিডস্ (Needs) গুলো সময়ানুযায়ী অপরিহার্য সেগুলোই (Basic Needs) বেসিক নিডস্ বা মৌলিক চাহিদা।

বেসিক নিডস্ বা মৌলিক চাহিদাগুলো স্থান (কাজ), কাল (সময়), পাত্র (মানুষ) ভেদে পরিবর্তন পরিবর্ধন তো হতেই পারে। জীবনকে আরো সহজ আরো আরামদায়ক ও সুখময় করার জন্যে এবং সর্বোপরি শান্তির জন্যে মানুষ; সময় (কাল), স্থান (কাজ) ও বেসিক নিডস (টাকা) এর বিনিময়ের মাধ্যমে অর্থাৎ অর্থ বা টাকাকে সর্বোৎকৃষ্টভাবে ব্যবহার করতে চায় সর্বদা জীবনের প্রয়োজনে। সুখ ও শান্তি অর্জনের লক্ষ্যে।

অর্থ বা টাকা। অর্থ বা টাকা ছাড়া ফ্রি কোন কাজ হয় না। অর্থাৎ বেসিক নিডস্ এর বিনিময় মাধ্যম হলো টাকা বা অর্থ, যার ত্যাগ/গ্রহণ বা বিনিময় ছাড়া কোন কাজ সম্ভব নয়। বেসিক নিডের হস্তান্তরই কাজের প্রাণশক্তি। সকল কাজের বিনিময় মাধ্যম প্রকৃতপক্ষে “বেসিক নিডস্”। তবে এ বিনিময় হতে হবে সময়ের চাহিদা বা প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী। অসময়ের বিনিময় মূল্যহীন বা অর্থহীন। অতএব; সময় অত্যন্ত মূল্যবান। অর্থের (বেসিক নিডস্) এর মূল্যমান নির্ণায়কই ‘সময়’। সময় প্রভাবিত করে বাজার বা দ্রব্যসামগ্রী কিংবা মৌলিক চাহিদা।

সময়। সময় বা কালের গুরুত্ব এ আধুনিক সময়ে কাউকে আর বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন নেই। তবে, অবশ্যই মানুষকে মনে করিয়ে দিতে হয়, “সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশি”। জীবন মানে মানুষ, মানুষের মূল্যই সবচেয়ে বেশি। অতএব; যথার্থই বলা যায়, সবার ‘উপরে’ মানুষ সত্য। উপরে বলতে এখানে অগ্রাধিকার বোঝানো হয়েছে।

অন্যদিকে; মানুষের অস্তিত্ব মাপার একটি অন্যতম উপায় “সময়” অর্থাৎ কোন মানুষের অস্তিত্ব পৃথিবীতে কত সময়ের জন্য ছিল, থাকবে বা আছে, তাও কম গুরুত্বপূর্ণ নয়। অতএব; মানুষের সঙ্গে সময়ের গুরুত্বও অপরিসীম। মানুষের সবচেয়ে প্রয়োজনীয় মৌলিক চাহিদাগুলোর উৎপাদন, বিতরণ বা বণ্টন, পরিবহন, উন্নয়ন ও সরবরাহ-সহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডগুলোর সঙ্গে ‘সময়’ অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সম্পৃক্ত।

এ সবই হতে হবে সময়-উপযোগী ও সময়মতো। তবে, এ কথা তো সত্যি ও স্পষ্ট যে, মানুষই সর্বাপেক্ষ গুরুত্বপূর্ণ এ সৃষ্টিতে। মানুষের জন্যে প্রয়োজনীয় বেসিক নিডস্ বা মৌলিক চাহিদাগুলো সঙ্গত কারণেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মৌলিক চাহিদার সঙ্গে স্থান (কাজ) ও কাল (সময়) ওতপ্রোতভাবে জড়িত ও সম্পৃক্ত। অতএব; অত্যন্ত স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে বলা যায়, মৌলিক চাহিদার বিনিময় মাধ্যম অর্থ বা টাকা ও বিনিময় স্থান (কাজ) এর সঙ্গে “সময়” এর গুরুত্ব অপরিসীম।

সবই হলো কিন্তু তা সময়মতো হলো না; বা তা সময়মতো পৌঁছল না; তবে সবই অর্থহীন, সবই বৃথা। মৌলিক চাহিদার সঙ্গে সম্পর্কিত সময় ব্যতীত স্থান (কাজ) এবং মৌলিক চাহিদার রূপক বা বিনিময় মাধ্যম, টাকা বা অর্থকে মানুষ অনেক আগেই দশমিকের ছকে ফেলেছেন জীবনকে আরো সহজতর করার সদিচ্ছায়। যেমন পূর্বে টাকার একক ছিল ১ আনা, ৪ আনা, ১২ আনা, ১৬ আনা। ১৬ আনা ছিল সম্পূর্ণ ১ টাকা।

পরবর্তীতে তা হয়েছে ১০০ পয়সা, অর্থাৎ দশমিক পদ্ধতিতে প্রবেশ। এখন তা হয়েছে ১ পয়সা, ১০ পয়সা, ২৫ পয়সা, ৫০ পয়সা, ১০০ পয়সা সমান ১ টাকা। দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে এখন আর পয়সার ব্যবহার তেমন নেই বল্লেই চলে। অদূর ভবিষ্যতে হয়তো পয়সার ব্যবহার শুধু মাত্র অংকের কাজীর কেতাবেই থাকবে, ব্যবহৃত হয়তো হবে না, চলে যাবে জাদুঘরে!

যারা আনার হিসাবে অভ্যস্ত ছিলেন, তাদের জন্যে নতুন ও আধুনিক দশমিকের হিসেবে আসতে একটু কষ্ট হয়েছে। কিন্তু একবার অভ্যস্ত হয়ে যাবার পর, দেখা গেল বা মানুষ বুঝতে পারল নতুন এই দশমিক পদ্ধতির ব্যবহার পুরাতন আনা-ষোলো আনার হিসাবের চেয়ে সহজ এবং সুবিধাজনক। কারণ; মানুষ অভ্যাসের দাস। অভ্যস্থতার কারণে কঠিনকে সহজ, সহজকে আরো সহজ মনে হয়। স্থান বা কাজের হিসাবও দশমিক পদ্ধতিতেই চলছে।

কোন বস্তুর সরণই কাজ। সরণ ছাড়া কোনো কাজ হয় না; পদার্থ বিজ্ঞান অনুযায়ী। সরণবিহীন কোন কাজ হয় না, আবার স্থানবিহীন সরণ এবং তার পরিমাপ সম্ভব নয়। স্থান ও সরণ ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত ও পরস্পর সম্পূরক। স্থান বা দূরত্ব মাপার আধুনিক পদ্ধতি দশমিকভিত্তিক। পূর্বে তা ছিল মাইল, একক হিসেবে। বর্তমানে তা কিলোমিটার। কিলো মানে হাজার। দূরত্ব মাপার ক্ষেত্রে দশমিকের ব্যবহার কতটা সহজ ও ভগ্নাংশমুক্ত হয়েছে, তা আজ আর কাউকে বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।

এবার আসা যাক মূল কথায়। সময় ও দশমিকের ব্যবহার প্রসঙ্গে। যে কোনো কাজ বা কর্ম সম্পদনের জন্যে তিনটি বিষয় ওতপ্রোতভাবে সম্পৃক্ত ও জড়িত। যেমন; স্থান (কাজ), কাল (সময়) ও অর্থ(টাকা/ বেসিক নিড)। লক্ষ্য করুন; (স্থান/সরণ) কাজ ত্রবং টাকা (অর্থ/বেসিক নিড) এর একক ও হিসাব দশমিকে করা হয়। এতে করে তা আধুনিক ও সহজতর হয়েছে। কিন্তু সকল কাজের আর ত্রকটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ‘সময়’।

এখনো পুরান নিয়মে চলছে সময়গণনা। এক্ষেত্রে আধুনিকতার ব্যবহার বা সময়গণনা সহজ করার প্রচেষ্টা করতে দেখা যায়নি, এখনো। যদিও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখনো সারা পৃথিবীতে ‘সময়’ মাপা হয় পুরানো নিয়মে। নেই আধুনিকতার ছাপ ও সহজ করার প্রচেষ্টা। ৬০ সেকেন্ডে ১ মিনিট, ৬০ মিনিটে ১ ঘণ্টা, ২৪ ঘন্টায় ১ দিন, ৭ দিনে ১ সপ্তাহ, ১৫ দিনে ১ পক্ষ, ৩০ দিনে ১ মাস, ১২ মাসে বছর, ১২ বছরে ১ যুগ।

দশমিক পদ্ধতিবিহীন ব্যবস্থায় আজও চলছে সময়গণনা। আবার; ১০ বছরে ১ ডিকেট বা ১ দশক, ১০০ বছরে শতাব্দী ও ১০০০ বছরে সহস্রাব্দি। ডিকেট থেকে সহস্রাব্দি পর্যন্ত অংশে হঠাৎ করে বিক্ষিপ্তভাবে দশমিকের ব্যবহার আংশিকভাবে যোগ হয়েছে, যা প্রমাণ করে, সময়গণনা দশমিক পদ্ধতিতে সম্ভব। ভেবে দেখুন, সময়কে যদি সম্পূর্ণভাবে দশমিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়, তবে তা আরো কতটা সহজ হবে।

সময়ের ক্ষেত্রে দশমিকের ব্যবহার, জীবন কতটা সহজ ও টাইম সেভিং হবে তা বোঝা যাবে আর একটু এগোলেই। যেমন, ধরুন; ১০০ সেকেন্ডে ১ মিনিট, ১০০ মিনিটে এক ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টায় দিন, ১০ ঘণ্টায় রাত, (অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার পরিবর্তে) ২০ ঘণ্টায় একটি সম্পূর্ণ দিন, ১০ দিনে ১ সপ্তাহ, ৩০ দিনে বা ৩ সপ্তাহে মাস, ১০ মাসে বছর (এক সময় ১০ মাসে বছর ছিল। ‘ডিসেম’ মানে দশ, এজন্যই ১০ তম মাসের নাম ডিসেম্বর।

পরবর্তীতে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি যোগ হয়েছে। ১০ বছরে ডিকেট, ১০০ বছরে শতাব্দী এবং হাজার বছরে সহস্রাব্দ। অনেকেই হয়তো বলেন, না তা হবে না, ‘সময়’ দশমিকে আনা সম্ভব নয়! তাদের জন্যে বলছি- পৃথিবীতে মৃতকে জীবিত করা ছাড়া, বাকি সবই প্রায় সম্ভব। কিছু দিন পূর্বে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বাংলাদেশের ঘড়ি ২ ঘণ্টা পিছিয়ে দিয়েছিলেন, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্যে।

আবার প্রয়োজন ফুরিয়ে যাবার পর, আগের সময়ে ফিরে গেলেন। প্রকৃতপক্ষে; সময় গড গিফটেড বা সৃষ্টিকর্তা প্রদত্ত, কিন্তু; সময় মাপার মাপকাঠি বা স্কেল, ম্যান-মেড বা মানুষের তৈরি। এটা বাইবেল নয়! মানুষের প্রয়োজনে, মানুষের চাহিদা ও সুবিধানুযায়ী যে কোন কিছুকে প্রয়োজন ও চাহিদানুযায়ী সংস্কার করে ব্যবহার করা, মানুষের জন্মগত অধিকার।

সময়ের সাথে সূর্য্য ও চাঁদের সম্পর্ক, সময় মাপর যন্ত্র ঘড়ি। ছায়া ঘড়ি, বালির ঘড়ি, কাঁটার ঘড়ি, ইলেক্ট্রনিক ও ডিজিটাল ঘড়ি ইত্যাদি সবই মানুষের তৈরি। এসব বিষয় ও ‘সময়’ সম্পর্কে আরো কত কথা বলা যেতো, সময়কে আরো স্পষ্ট আরো পরিষ্কার ও নিবিড় করে জানতে, সময়ের প্রয়োজনে। কিন্তু সময়ের স্বল্পতার কারণে, আজ শেষ করতে চাই। ভবিষ্যতে সময় করে, সময় নিয়ে আরো অনেক কথা বলা যাবে।

পরিশেষে বলতে চাই- মৌলিক চাহিদা (অর্থ/টাকা) ও তার (উৎপাদন/বিতরণ অর্থাৎ স্থান/কাজ) তথাসময়কে যদি একই ভাবে, দশমিক পদ্ধতিতে মাপা বা নির্ধারন করা হয়, তবে জীবনসহ, সময় সম্পর্কিত সব কিছুই হবে আরো সহজ আরো আধুনিক। সময়বিহীন কোন বিষয় মানব জীবনে আছে কি? এ সংস্কার করা গেলে, সকল হিসাব সম্পন্ন করা যাবে আরো সহজে ও দ্রুত।

বাঁচবে সময়, বাড়বে সময়। সময় বাঁচানো বা বাড়ানো আজ সারা পৃথিবীতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ; টাইম ইজ মানি। সময়ই টাকা, অতএব; সময়ই মৌলিক চাহিদা। অর্থাৎ যে যত বেশি সময় বাঁচাতে পারবে, বাড়াতে পারবে, পারবে কাজে লাগাতে, সে তত বেশি মৌলিক চাহিদা মেটাতে বা অর্জন করতে সক্ষম।

দশমিকে সময় মাপা হলে তা কতটা সহজ হবে, একটি উদাহরণ দিয়ে শেষ করছি- ধরুন, একটি গাড়ি ১০০ কিলোমিটার, ১০০ মিনিটে, ১০০ টাকায় যায়; তবে ১ টাকায়, ১ কিলো, ১ মিনিটে অতিক্রম করল; তা বুঝতে অংকের প্রয়োজন নেই। এবার একটু ভেবে দেখুন; বর্তমান কিলোমিটারের (দশমিকের) রাস্তায়, (দশমিকের) টাকায় এবং (দশমিকের) সময় সংযুক্ত করে, যদি গাড়ির মিটার তৈরি করা হয়, তবে তা কত সহজে, প্রতি মুহূর্তে যাত্রী মিটারে চোখ রেখে বুঝতে পারবেন, কোনরূপ অংক ও হিসাব ছাড়াই। আর তা হবে কতটা সহজ, দশমিকের ম্যাজিকে।

যাহোক; স্থান ও টাকার একক যেহেতু দশমিকে প্রচলিত আছে এবং সময় উক্ত বিষয় দুটির সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত সেহেতু, সময়ের এককও দশমিকে হওয়াই সময়োপযোগী এবং সময়ের পূর্ণাঙ্গ আধুনিকায়ন ও সহজতর করা এখন সময়ের দাবি। সময় নিয়ে কথা বলতে সময় দেয়ায় জন্যে আপনাকে ধন্যবাদ।

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক






ads