চাই সমাজ ব্যবস্থার ইউ টার্ন!


poisha bazar

  • মেজর আফসারী (অব.)
  • ২৮ নভেম্বর ২০২০, ১০:৩১

শুরু করতে চাই সমস্যা নিয়ে, শেষ করব সমাধান দিয়ে। তবে সমস্যা আলোচনা করার প্রারম্ভে কিছু কথা সমাজ নিয়ে। ব্যক্তি মানুষ থেকে পরিবার। পরিবার থেকে সমাজ। সমাজ এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে একাধিক চরিএ কিছু নিয়ম প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একএে বসবাসের পরিবেশ তৈরি করে। সমাজের সদস্যদের মধ্যে যেমন থাকে পরস্পর সৌহার্দ্য, সহযোগিতা ও মমত্ববোধ আর ভালোবাসা; তেমনি আবার তৈরি হতে পারে ঘৃণা, লোভ-লালসা, হিংসা বিদ্বেষ, বৈরিতা ও জিঘাংসা।

অতএব, সমাজের মধ্যে শৃঙ্খলা ধরে রাখতে, বেশির ভাগ ক্ষেএেই অলিখিতভাবে তৈরি করা হয় কিছু নিয়ম-কানুন ও সংস্কৃতি। অধিকাংশ ক্ষেএেই যার লংঘন চরম অসম্মানজনক এবং সমাজের চোখে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। অতএব, তা নিয়ন্ত্রণে ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সর্বোপরি শাস্তি প্রদানের প্রয়োজনে প্রয়োজন হয়, নিজস্ব স্থানীয় সালিশ ও বিচার কার্যএদ্ধম। সংগত কারণেই আবির্ভূত হয় সমাজপতি, মোড়ল বা মাতব্বর স্থানীয় নেতা বা প্রশাসক হিসেবে। তবে নিঃসন্দেহে বলা যায়, সুন্দর ও সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থার জন্য সৌহার্দ্য, সহযোগিতা, মমত্ববোধ, প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা একান্ত প্রয়োজন।

মানুষ একদা ছিল যাযাবরের মতো। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়াত ও অস্থায়ীভাবে বসবাস করত বিভিন্ন এলাকায়, আর পশু-পাখি শিকার করে করে খেত। এরপর যখন মানুষ কৃষিকাজ করতে শিখল, তখন থেকে তারা এক জায়গায় স্থির হয়ে বসবাস করতে প্রায় বাধ্য হলো; ফসলের যতœ, রক্ষণাবেক্ষণ ও সংগ্রহের প্রয়োজনে। তার মানে; কৃষিকাজ মানুষকে এক জায়গায় বসবাসে ধীরে ধীরে অভ্যস্ত ও বাধ্য করে ফেলল। পরবর্তীতে গোত্র, সম্প্রদায়, অঞ্চল, তালুক, জমিদারি, রাজ্য এবং সর্বশেষ আধুনিক দেশ বা রাষ্ট্র তৈরি করে ফেলল মানুষ। অতএব, বলা যায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র্র সমাজ থেকে সৃষ্ট মানবসমাজ তথা তৈরি হলো ‘মানবজাতি’, যা এখনো শক্তভাবে দানা বাঁধতে পারেনি। কারণ, মানবসমাজ বা বিশ্বসমাজ, কিংবা মানবজাতি, যাই বলি না কেন, তা সবই এখনো পুঁথিগত, বাস্তব রূপ পায়নি।

এটাই এখন বৃহত্তর মানবসমাজের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। কবে ‘মানুষ’ এক হবে! সুশৃঙ্খল হবে! এক পৃথিবী, এক মানবসমাজ, এক ভাষা, একই মূল্যমানের মুদ্রা, অর্জিত হবে সম-অধিকার; তখনই আমরা প্রকৃতপক্ষে বলতে পারব, আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব- ‘মানুষ’। প্রতিটি মানুষেরই রাষ্ট্রের প্রতি যেমন অধিকার আছে, তেমনি অধিকার আছে পৃথিবীর নাগরিক হিসেবেও, যা আজো কাল্পনিক, বাস্তবে ততটা নেই। যাহোক; আজ যা কাল্পনিক কাল তা হতেই পারে বাস্তব। আশা করি একদিন আমরা সবাই পৃথিবীর প্রকৃত নাগরিক হব। হব প্রকৃত সভ্য এক মানবজাতি।

সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারব বিশ্বের প্রতিটি মানুষের, পৃথিবীর অধিকার, হব বিশ্বনাগরিক। এ পর্যায়ে হয়তো অনেকেই বলবেন, না, এটা সম্ভব নয়! তাহলে তো রাষ্ট্রের অস্তিত থাকবে না। অবশ্যই সম্ভব, মানুষ যদি চায়। মানুষ চাইলে পারে না এমনকিছইু পৃথিবীতে নেই। মৃত মানুষকে জীবিত করা ছাড়া বাকি প্রায় সবকিছুই মানুষ করতে সক্ষম। এমনি গুণে গুণান্বিত, শক্তিশালী ও বিচক্ষণ, চৌকস ‘মানুষ’ সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টিকর্তা। সবকিছু ঠিকঠাক রেখেও, এক পৃথিবী সৃষ্টি করা সম্ভব। যাহোক; এ বিষয়ে পৃথকভাবে পরবর্তীতে আলোচনা করা যাবে। ফিরে আসি সমাজে।

পৃথিবীতে বিভিন্ন রকম সমাজ আছে। মানুষ সমাজবদ্ধ হয় ভাষা, সংস্কৃতি, পোশাক-আশাক, আচার-আচরণ, পেশা, অঞ্চল ও ধর্ম ইত্যাদির ভিত্তিতে। আমাদেও ঐতিহ্যবাহী সমাজ, বাঙালি সমাজ বা বঙ্গ সমাজ। বাঙালি সমাজের নামকরণ হয়েছে বাংলাভাষার ওপর ভিত্তি করে। প্রায় পনেরোশ’ বছর আগের আর্য-অনার্য মিশ্রিত প্রাকৃত ভাষা থেকে বিবর্তনের মাধ্যমে আধুনিক বাংলা ভাষা সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীতে একমাত্র ভাষা ‘বাংলা’, যে ভাষার জন্য নিরীহ মানুষ রক্ত দিয়েছেন, তাই ২১ ফেব্রæয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে বিশ্বময় স্বীকৃত।

আমাদের এই বাঙালি সমাজে, কখনো কোন আগন্তুক একটু খাবার পানি চাইলে, তাকে বসতে দেয়া, পানির সাথে একটু নাড়–-মুড়িসহ আপ্পায়ন করা ছিল আমাদের সংস্কৃতি, আমাদের গর্বের বিষয়। মা কখনো কোন কাজে ঘরের বাইরে গেলে পাশের বাড়িতে তার শিশু সন্তানটিকে রেখে যেতেন। রেখে নিশ্চিত নিরাপদও থাকতে পারতেন। আর আজ-কাল ঘুমন্ত মা-বাবার মাঝখান থেকে গভীর রাতে ১৭ দিনের শিশু ছিনিয়ে নিয়ে গলা কেটে হত্যার পর পুকুরে ফেলে দিচ্ছে মানুষ, আমাদেরই এই সমাজে। ভাবা প্রয়োজন নয় কি?

শুধু তাই নয়। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, রাহাজানি, খুন-খারাবি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, শিশু ধর্ষণ, নারী-শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা নির্যাতন, দলবাজি, দলীয় কোন্দল, জ্বালাও-পোড়াও, বাসে আগুন, স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর গায়ে আগুন, স্ত্রী দ্বারা স্বামীকে নির্যাতন, টেন্ডারবাজি, ড্রাগ, নেশা, নিত্যনতুন নির্যাতন পদ্ধতির আবিষ্কার এবং এ নির্যাতন থেকে মুক্ত নয়, আজ প্রতিবন্ধী কিংবা পুষ্পতুল্য নিষ্পাপ শিশুরাও। ইত্যাদি যেন একেবারেই নৈমিত্তিক খবরের বিষয়ে পরিণত হয়েছে ইদানিং।

একটু গভীরভাবে ভাবা প্রয়োজন নয় কি? কেন এমন হলো- আমরা তো এমন ছিলাম না। তবে কি আমরা ধীরে ধীরে পশ্চিমাদের মতো, পরিবার ভেঙে, লিভ-টুগেদার চালু করে, সমাজকে একেবারে ধ্বংস করে অসহায়ের মতো জীবন-যাপন করে, অবশেষে অনেক অনেক বছর পর ভুল বুঝতে পেরে আবার ফিরব সেই সনাতন পুরাতন ঐতিহ্যবাহী সমাজ ব্যবস্থায়! না কি অন্যের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে, সময় থাকতেই সাবধান হব আমরা। খুঁজব সমাধান সূত্র। সমাধান খোঁজার আগে একটু জেনে নেয়ার চেষ্টা করা প্রয়োজন, কেন আজ সমাজের এই অধঃপতন!

নদীর যেমন এ-পাড় ভাঙে ও-পাড় গড়ে, তেমনি সমাজেরও ভাঙা-গড়া আছে। প্রথা ভাঙে, নতুন প্রথা গড়ে ওঠে, এই তো জীবন, এই তো সমাজ। ভাঙা-গড়ার মধ্য দিয়েই সমাজ দৃঢ় হয়, আধুনিক হয়। কিন্তু আমাদের সমাজে কি তা ঘটছে? অমরা ঊর্ধ্বমুখী না কি নি¤œগামী! আমরা কি এগিয়ে যাচ্ছি, না কি পিছিয়ে পড়ছি? ভাবার বোধকরি এখনও সময় আছে।

দেশের বয়স এখন প্রায় পঞ্চাশ। আসছে বছর পালন করব দেশের সুবর্ণজয়ন্তী। প্রায় অর্ধশত বছরে উন্নয়নও তো কম হয়নি। অভাবনীয় অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নে তাক লাগিয়ে দিয়েছি আমরা সমগ্র পৃথিবীকে। হয়েছে কাঠামোগত উন্নয়ন (স্ট্রাকচারাল ডেভেলপমেন্ট)। মানবিক উন্নয়ন আমাদের কতটুকু হয়েছে? ভাবা প্রয়োজন নয় কি? জানা প্রয়োজন নয় কি, মানবিকতার পরিমাণ? মাপা প্রয়োজন নয় কি আমাদের মনুষত্ব? কে ভাববে? কে জানার চেষ্টা করবে? কে, কার এতো সময়? কার মাথাব্যথা এ নিয়ে? কেনই বা করবে? কার একার ক্ষতি? ক্ষতি তো সবার। ক্ষতি তো সমাজের। ক্ষতি তো দেশের। কাউকে না কাউকে এগিয়ে আসতেই হবে, সমাজ পুনর্গঠনে। রাজার স্বপ্নের দুধের পুকুরের মতো, যদি আমরা সবাই পানি ঢালি, পুকুরে দুধ ঢালবে কে? আজ তো আর আমাদের প্রিয় নেতা, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা, বঙ্গবন্ধু, শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের মাঝে বেঁচে নেই। কে বলবে- “তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থাকো”।

আবার যুদ্ধে যেতে হবে, মুক্ত করতে হবে সমাজকে ব্যর্থতার নোংরা বেড়া-জাল থেকে। মুক্ত করতে হবে মানুষকে, মানুষের জন্যে, একটা সুন্দও সমাজকে পুনর্গঠনের জন্যে, বাঙালি সমাজের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্যে।

আজ রাজনীতিবিদরাই রাজনীতিকে ধ্বংস করে ফেলেছেন, নিজেরাই হয়ে পড়েছেন পথহারা। প্রকৃত রাজনীতিবিদরা প্রায় সবাই নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন নিজগৃহে, নীরবে নিরাপদে। আর ব্যবসায়ীসহ অরাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ দখল করে নিয়েছেন রাজনীতির মঞ্চ। ব্যবসায়ীদের রাজনীতি করা কোন দোষের নয়, তবে রাজনীতি নিয়ে ব্যবসায় নয়। কল্যাণকর মানবিক রাজনৈতিক প্রশিক্ষণ নিতে হবে আগে। অনিয়মটার শুরু এখান থেকেই। সমাজ ও সুধী সমাজের ধ্বংস এখান থেকেই। মাছের মতো পচনটা মাথা থেকেই। প্রকৃতপক্ষে প্রকৃত শুদ্ধ রাজনীতির বড়ই অভাব আজ সমগ্র পৃথিবীতে।

ভুল রাজনীতিতে সয়লাব, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রাম-বাংলায়। গ্রাম-গঞ্জে, শহরের মহল্লায় সামাজিক আচার-অচরণে একটা মিল ছিল। মুরব্বিদের শ্রদ্ধা, শিশুদের প্রতি ভালোবাসা আর নারীর প্রতি সম্মান ছিল আমাদের বাঙালি সমাজের ঐতিহ্যগত অহংকার। নিজ নিজ এলাকার নিরাপত্তা ও সম্মান রক্ষার ক্ষেত্রেও ছিল এলাকাবাসীর মনোযোগ। এ বিষয়গুলোর অস্তিত্ব ধ্বংস করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি যে বিষয়টি কাজ করেছে তা হলো- ‘লোভ’। মানুষ যেন একটু বেশি লোভায়িত হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন সুযোগ খুব সহজলভ্য ও হাতের কাছে চলে এসেছে। জাস্ট একটু ইচ্ছার প্রয়োজন। ইচ্ছা হলেই যে কেউ খুব সহজেই অসৎ হয়ে পড়তে পারেন। এ সুযোগ আগে খুব সহজ ব্যাপার ছিল না। অসৎ হতে গেলে অনেক খড়-কুটা পোড়াতে হতো। অর্থাৎ অসৎ হবার পথ সহজ আর সহজলভ্যতা সমাজ অবক্ষয়ের একটি অন্যতম বিষয়। আর একটি বিষয় লক্ষণীয়, সেটি হলো ‘লজ্জা’। লজ্জা যেন সমাজ থেকে ধীরে ধীরে নির্বাসনে চলে যাচ্ছে। যেন কোন কাজেই, বিশেষ করে কোন গর্হিত কাজে যেন আর কোন লজ্জা নেই। লজ্জা যেন আর নারীর ভূষণ নয়, বোকার ভূষণ। লজ্জা ত্যাগ যেন বুদ্ধিমানের কাজ। লোভ-লালসা আজ যেন অক্টোপাসের মতো জাপটে ধরেছে মানুষকে। সাদা আজ আর সাদা নয়, কালো যেন নয় কালো। সবই যেন আজ ধূসর। সত্য-মিথ্যার পার্থক্য কমছে আর মিশ্রণ তো কোনো বিষয়ই নয়।

একদা এলাকায় মুরব্বি দেখলেই মানুষ সালাম দিত। পথ ছেড়ে দিত, বয়সের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে। আর আজ মুরব্বিরা সালাম দেয় ছেলের বয়সী এলাকার নেতাদের, দেয় পথ ছেড়ে! কি অভূতপূর্ব, বিস্ময়কর বৈপরীত্য আজ এ সমাজে। তার চেয়েও বড় বিস্ময়, যেন আজ আর কোন কিছুই বিস্ময়কর নয়। কারো যেন চোখেই পড়ে না এসব। প্রতিকার তো দূরের কথা। সবাই এড়িয়ে চলে এসব অনিয়ম। ‘ঘৃণা’ সমাজ নিয়ন্ত্রণে ছিল এক গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। ঘৃণার আঘাতে মানুষ আত্মহননের পথও বেছে নিত।

তা যদিও গ্রহণযোগ্য নয়। আজ-কাল ঘৃণা করলেও অপরাধীরা হাসে! যেন জামার ধুলা, টোকা দিয়ে ফেলে দেয় মাটিতে। অনেকে এতটুকু গুরুত্ব আর দেয় না আজ ঘৃণাকে। শব্দটি আর ডিকশনারিতে থাকবে কিনা তাও বলা যায় না। এবার আসা যাক দুর্নীতি ও ঘুষ নিয়ে। এ বিষয়ে মনে হয় খুব বেশি কিছু বলার প্রয়োজন নেই। কারণ, সবারই তা জানা। চাকরি পেতে, কাজ পেতে ঘুষ দিতে হয় এটাই যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। বরং ঘুষ ছাড়া এগুলো হতে পারে, এটা আজ ইতিহাস। এ প্রজšে§র মানুষ হয়তো চিন্তাই করতে পারে না, একদা আমাদের এ দেশে কাজ ও চাকরি পেতে কোন ঘুষ দিতে হতো না। যারা ঘুষ খেত, তারা লুকিয়ে থাকত, সমাজে চলাফেরা করতে পারত না।

কেউ সে পরিবারের সাথে বিয়েশাদি বা সম্বন্ধ করত না। এমনকি তাদের সন্তানরাও সমাজে স্থান পেত না। অন্তত ড্রাইভার, পিয়নের চাকরির জন্য কেউ ঘুষ খেতেন না। কারণ ওরা গরিব। আজ তারাই সবচেয়ে বড় ধনী। আজ এ ধরনের চাকরির ডিমান্ডই বেশি। কারণ, বড় সাহেবরা এদের ওপরই বেশি নির্ভরশীল। অবশ্য সবাই এ রকম নয়। ভালো মানুষ, সৎ ও নির্লোভ মানুষ আজো পৃথিবীতে আছে। তাই তো টিকে আছে পৃথিবী। নেশা, জুয়া ক্যাসিনোর কথা আর নাই বললাম। নেশা আর জুয়া আজ আমাদের প্রিয় গ্রামীণ পরিবেশে যেন লুডু আর দাড়িয়া-হাডুডু খেলা। না দেখি না দেখি করে এড়িয়ে চলছে সবাই। অত্যন্ত বিপজ্জনক এ লক্ষণ!

সবচেয়ে বড় যে ক্ষতিটি হয়েছে আমাদের সমাজে, তার উৎস হলো আমাদের সুযোগ্য গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ‘ইলেকশন কমিশন’। তারা স্থানীয় সরকারের নির্বাচন ‘দলীয় প্রতীক’-এ অনুষ্ঠিত করার সিদ্ধান্ত দিয়ে সর্বনাশটি করেছে অনেক আগেই। আমাদের ঐতিহ্যবাহী সরল-সোজা বাঙালি সমাজের কফিনে শেষ পেরেকটি তারা সগৌরবে সাফল্যের সাথে বসিয়ে দিয়েছে। এখন যদি গ্রাম-গঞ্জে, মহল্লায় কোন তরুণ-যুবার প্রফেশন বা পড়া-শোনার স্তর জানতে চান- ‘তুমি কি কর?’ উত্তর আসবে- ‘আমি তো এখন অমুক দল করি, এই পদে আছি’। এমনকি বিয়ে-শাদির সময়ও এ পরিচয় দিতে পছন্দ করে অনেকেই। আবার অনেকে তা লুফেও নেয়।

পরিশেষে এ কথাটি বলে শেষ করতে চাই- সবই সরকার করে দেবে এটাও ভাবা ঠিক নয়। আসুন আমরা আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সাধ্যমতো চেষ্টা করি, সমাজটাকে পুনর্গঠন করতে, অবদান রাখি। “আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম”- এ সত্যকে সামনে রেখে সমাজ ব্যবস্থার ইউ টার্ন নিশ্চিত করতে যা যা করণীয়, তা করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন আজ অনির্বায হয়ে পড়েছে। পরবর্তী প্রজšে§র জন্য বাসযোগ্য একটি সমাজ রেখে যাওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আর তা করতে পারলেই শুধু আমরা সত্যিকার অর্থে বলতে পারব- ‘আমরা ভালোবাসি আমাদের প্রজš§কে, আমাদের সন্তানদের, আমাদের প্রিয় মাতৃতুল্য, দেশটিকে’।

লেখক: নিরাপত্তা বিশ্লেষক






ads