শিক্ষা ও রাজনীতিকে আলাদা করুন

 হাবীব ইমন
হাবীব ইমন - সংগৃহীত

poisha bazar

  • হাবীব ইমন
  • ২৬ অক্টোবর ২০২০, ১১:১৪

আফিমখোর কমলাকান্তের একটি উক্তি মনে আসছে- কুম্ভীরশাবক ডিম্ব ভেদ করিবার মাত্র জলে গিয়া সাঁতার দিয়া থাকে, শিখিতে হয় না। সেই রূপ বিদ্যা বাঙালির স্বতঃসিদ্ধ, তজ্জন্য লেখাপড়া শিখবার প্রয়োজন নেই। কমলাকান্তের সিদ্ধান্ত আজ বেদবাক্যে পরিণত হয়েছে। পার্থক্য একটাই, ‘কুম্ভীরশাবক’ সন্তরণ বিদ্যারপ্ত করলেও ‘বিদ্যধারী’ বাঙালির দৌলতে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কার্যত ডুবতে বসেছে।

বর্তমান বা সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিক যে ঘটনাসমূহ দেখা যাচ্ছে, নিমজ্জমান শিক্ষাব্যবস্থার সেটিরই স্পষ্ট প্রমাণ। এটা সরকার বা সরকারের পক্ষের সমর্থকরা মানুক আর নাই মানুক। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ন্যূনতম শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কারা নেবে? প্রশ্নটি এ সময়ে দাঁড়িয়ে আমার কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

গণমাধ্যমে আমরা যে সংবাদগুলো পাচ্ছি, তার ওপর ভিত্তি করে বলছি, যাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণসহ সমাজের সুনীতি-নৈতিকতার ধস নেমেছে, মাদকসহ বিভিন্ন অবক্ষয়ের প্রশ্রয়-আশ্রয়দাতার অভিযোগ রয়েছে, তাদের হাতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ন্যস্ত থাকবে? প্রশ্নটি এই মুহূর্তে মৌলিক এবং বাস্তবসম্মত।

কেননা সমস্ত রকম শৃঙ্খলাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে কার্যসিদ্ধির প্রবণতা কোনো সুস্থ-সভ্য সমাজ বা রাষ্ট্রের জন্য কাম্য হতে পারে না। শুভকর কিছু হতে পারে না। অতীত থেকেই আমরা দেখে আসছি, আমাদের দেশের জনপ্রতিনিধিরা ক্ষমতা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব নিতে চায়।

অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব জনপ্রতিনিধিরা অথবা তার মনোনীত ব্যক্তিরা নিজেদের জাহির করার নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে তুলছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্ষমতা এবং প্রভাব-প্রতিপত্তি আর নিজেদের পেশিশক্তির বলয় বজায় রাখার জন্য ছাত্র সংগঠনগুলোকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, ওই প্রতিষ্ঠানের মুখোমুুখি করে তোলে।

আর এর পেছনে কয়েকজন গ্রাম্য চতুর, সহজ বাংলায় প্যাঁচানো এবং মামলাবাজ অভিভাবক সদস্যরাও তাতে মদদ দিচ্ছে। আর শিক্ষকদের কথা কী বলব, এক শ্রেণির শিক্ষক রয়েছেন, যাদের মেরুদণ্ড নিয়ে আমার অন্তত প্রশ্ন রয়েছে, তারা নিজেদের সর্বোচ্চ মান-মর্যাদা বিসর্জন দিয়ে তোষামোদিতে এত বেশি এগিয়ে রয়েছে, নিজেদের সম্মান হারাতে তাদের কোনো লজ্জাবোধ হয় না।

ফলে প্রকৃত অর্থে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চ‚ড়ান্তভাবে ধ্বংস করার একটি পরিবেশ তৈরি করতে তারাও অনেকটা দায়ী। অথচ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা রক্ষার পাঠ শিশুকাল থেকে ছেলে-মেয়েরা পেয়ে এসেছে। তাহলে গলদটা কোথায়? আমাদের আজ গভীরে গিয়ে তাও ভাবতে হবে। তবে তা সত্ত্বেও এই যদি হয় তাদের মনোভাব, তাহলে তা দুঃসময় নিকটেই, বিধিনিষেধ না মানার প্রবণতা বৃদ্ধি আরো পেতে থাকবে এবং শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষয় অবশ্যম্ভাবী।

সমস্ত দাম হুহু করে বাড়ছে, আলুর দামও এখন চড়া, সেখানে মানুষের দাম যেমন কমছে, তেমনি আমাদের শিক্ষারও। একবার ভাবুন আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে। কেবলমাত্র বছর শেষে জিপিএ-৫ এর মাধ্যমে শিক্ষার মানদণ্ড নির্ণয় করা সম্ভব নয়। করা যাবেও না। আর যাই হোক সোনার ছেলে যে তৈরি হচ্ছে না, পরবর্তী সময়ে একেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে তাদের কাণ্ডকীর্তি আমাদের তা মনে হয় না।

পথে নেমে চরম অভদ্রতা স্বীকৃতি পেয়েছে আইনের বাইরে গজিয়ে ওঠা অন্য বাহিনীর আইনে। এখানে রাষ্ট্রকে সতর্ক হতে হবে। না হলে নিজেদের ক্ষমতা ওই হীরক রাজার দেশের মতোই হবে। ‘দড়ি মারো টান, রাজা হবে খান খান’। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার এমন পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে, পথে-পাড়া-মহল্লায় কিশোর গ্যাংস্টারের আধিপত্য চরম আকারে বেড়ে চলেছে।

নানা মাত্রা অন্যায়-অপরাধের মাত্রা এদের মাধ্যমে বৃদ্ধি পেয়েছে, তাতে অনেকে বলেছেন মধ্যযুগের বর্বরতার কথা, ‘আইয়ামে জাহেলিয়াতের’ যুগ বোধহয় পুনরায় ফিরে এসেছে, এ বদ্ধমূল ধারণা তাদের ভেতরে তৈরি হয়েছে। আসুন শেকসপিয়ারের কথায়, সিভ ডগ এ ব্যাড নেম অ্যান্ড হ্যাঙ্গ হিম। যা হয় একটা ছুতো করে মানুষকে পিটিয়ে, খুঁচিয়ে, পুড়িয়ে মেরে ফেল।

নিরস্ত্র এক মানব, সশস্ত্র একটি দল, বড় অসহায় একটি চিত্র আমাদের দেশে আজ। এর পেছনে কি রয়েছে প্রশাসনের ব্যর্থতা, নাকি রাজনৈতিক সূ² হিসেবে-নিকেশ? দুই. আমার নানা দীর্ঘ ৩৭ বছর সরকারি কলেজে অধ্যাপনা শেষে অবসরে যান। তিনি একজন বিখ্যাত শিক্ষাবিদ ছিলেন। ১২ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি একটি সরকারি কলেজে সুনামের সঙ্গে অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করেন।

তার অবসর পূর্ব সময়ে একজন জেলা প্রশাসক স্থানীয় একটি বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নিতে বলেন। গাড়িসহ আরো অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দেবেন বলে জানান। কিন্তু তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি সোজা-সাপটা জানিয়ে দেন, আমাকে কী কলেজ নিয়ে গভর্নিং বডির সদস্য পান দোকানদার-চা দোকানদের সঙ্গে মিটিং করতে হবে, ওদের কথামতো চলতে হবে? তাদের অন্যায় আবদার আমাকে মেনে নিতে হবে? আসলে বেসরকারি শিক্ষকদের বাস্তব অবস্থা হচ্ছে তাই।

তিন. প্রতিষ্ঠাতাদের বিষয়টি বিশেষ বিবেচ্য হলেও অন্যক্ষেত্রে মাস্টার্স ডিগ্রি ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্য হওয়ার সুযোগ থাকাটা কাম্য ও যুক্তিসঙ্গত নয়। কেননা শিক্ষার হার বেড়ে যাওয়াতে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী লোকের অভাব দেশে মোটেও নেই। একজন বা একাধিক কম শিক্ষিত ব্যক্তি উচ্চশিক্ষিত শিক্ষকদের ওপর ছড়ি ঘোড়াবে, তা বোধহয় একটি দেশের জন্য, একটি রাষ্ট্রের জন্য খুবই বেদনা এবং লজ্জাজনক।

আগেই বলেছি একশ্রেণি শিক্ষক রয়েছেন, যারা নিজেদের মর্যাদা আর পেশাদারিত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে ওইসব মানুষের কাছে বিকিয়ে দিয়েছে। যাদের মূলত এ সমাজে পরিচিতি। অবশ্য এ ব্যাপারে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী তার আগের আমলে বলেছিলেন, ডিগ্রিধারী মানেই শিক্ষিত নয়- একজন স্বশিক্ষিত ব্যক্তি কম জ্ঞানী নয়। অর্থাৎ তিনি কবিগুরুর মতো স্বশিক্ষিত ব্যক্তিদের কথা বলেছেন।

তর্কের খাতিরে শিক্ষামন্ত্রীর কথা মেনে নিলে তো রাষ্ট্রের বিভিন্ন দফতরে নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়ের সনদের কোনো প্রয়োজনই পড়ে না। বরং তথাকথিত স্বশিক্ষিতদেরই দায়িত্বশীল চেয়ারে বসা উচিত। সম্ভবত এরই নাম রাজনীতি! রাজনৈতিক তত্ত¡! তবে হ্যাঁ, রবীন্দ্রনাথের মতো, নজরুলের মতো আর আরজ আলী মাতুব্বরের মতো স্বশিক্ষিত ব্যক্তি পাওয়া গেলে শিক্ষামন্ত্রীর যুক্তি মেনে নিতে অসুবিধা কোথায়? একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালিত হয় বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয়/ মন্ত্রণালয়ের বিধি-বিধান দ্বারা।

কাজেই গভর্নিং বডির সভাপতিসহ সদস্যদের এসব আইন-কানুন সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা আবশ্যক। অন্যথায় তারা ভুল সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারেন। বাস্তবে তা হচ্ছে, কোনোকিছুর তোয়াক্কা না করে। এবং এর ফলাফল পুরো জাতিকে আজ খেসারত দিতে হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা এবং শিক্ষার গুণগতমান রক্ষা করা।

কিন্তু‘ এসব গুরুত্বপূর্ণ কাজ গভর্নিং বডি কি সুচারুভাবে সম্পন্ন করছে? বা করতে পারছে? গর্ভিনিং বডির সাথে শিক্ষকদের এক ধরনের মানসিক দূরত্ব বেড়েই চলছে। আর তোষামোদ শিক্ষকদের কথা আর নাইবা বললাম। তাদের মূল্যবোধের অভাব, স্বকীয়তার অভাব, সেতো চিরকালই। এছাড়াও কলেজ পর্যায়ে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, এদের পদোন্নতির সুপারিশ করা, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রদানের ব্যবস্থা করা, প্রশিক্ষণে পাঠানো, শিক্ষা ও দীর্ঘ চিকিৎসা ছুটি মঞ্জুর করা, কলেজের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যকার বিরোধ মীমাংসা ও ক্ষেত্রে বিশেষে শাস্তি প্রদান এবং আইন-শৃঙ্খলাসহ কলেজের সার্বিক পরিস্থিতি নজরে রাখা ও যথাসময়ে যথাযথ ইতিবাচক ব্যবস্থা গ্রহণ করা গভর্নিং বডির অন্যতম দায়িত্ব।

সভাপতি সংশ্লিষ্ট গভর্নিং বডির সর্বোচ্চ কর্মকর্তা। কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদও গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে পারে। সেখানে আবার রাজনৈতিক নেতাদের নির্দেশনা ছাড়া এপাও এগুতে পারে না। যদি সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্তভাবে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা দায়িত্ব পেতেন, তাহলে এদেশের শিক্ষার সর্বোচ্চ উন্নয়ন হতো, পাল্টে যেতো দেশের অবস্থা।

তাতে আমার মতো অনেকেরই কোনো সন্দেহ নেই। অথচ এমন উদাহরণ এখন একেবারেই কম। শিক্ষার মান উন্নয়ন তথা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গভর্নিং বডির সদস্যরা নির্বাচিত হলেও রাজনীতির অপছায়া সব কিছুকেই এলোমেলো করে দেয়। নিজেদের পছন্দমতো আর স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করে সবসময়।

ফলে ভেস্তে যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সব পরিকল্পনা-গভর্নিং বডির প্রকৃত কাজ। আসল হয়ে ওঠে গৌণ কাজ। প্রাধান্য পায় ব্যক্তি ও দলীয় স্বার্থ। উপেক্ষিত হয় সংশ্লিষ্ট ক্যাচমেন্ট এরিয়ার শিক্ষাবিদ, অভিভাবক ও সচেতন জনগণের মতামত এবং পরামর্শ। চরমভাবে অগ্রাহ্য হয় বোর্ড/বিশ্ববিদ্যালয় বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা। এতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মুখোমুখি অবস্থা চলতে থাকে।

প্রকাশ্য রূপ পায় ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদলীয় শিক্ষক গ্রুপ। ক্ষমতার ও নৈতিকতার লড়াই চলে। ফরিদপুরের সংসদ সদস্য নিক্সন চৌধুরী একজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফোনালাপে যেভাবে কথা বলেছেন, যে বাক্যচয়নে কথা বলেছেন, এটাই দেশের অধিকাংশ সংসদ সদস্যদের চরিত্র। এটা হরহামেশাই শিক্ষকদের সাথে সংসদ সদস্যরা গভর্নিং বডির সভাপতি হয়ে কথা বলে থাকেন।

শিক্ষকদের কোনো মর্যাদা তারা রাখেন না। ২০১৮ সালে কক্সবাজার সদর আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমলের হাতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন রামুর এক প্রবীণ শিক্ষক। ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে অতিথি দাওয়াত দেয়াকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের ছেলের সঙ্গে মতবিরোধের জের ধরে জনসম্মুখেই ন্যাক্কারজনক এ ঘটনাটি ঘটান আওয়ামী লীগের এ সংসদ সদস্য।

লাঞ্ছনার শিকার শিক্ষক সুনীল কুমার শর্মা সংসদ সদস্য কমলকে শিশুকালে পড়িয়েছেন। ২০১৬ সালের কথা। নারায়ণগঞ্জে একজন শিক্ষককে সংসদ সদস্যের হাতে লাঞ্চিত হতে হয়েছে, সে খবর নিশ্চয় আমরা ভুলে যাইনি। শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্তকে চড় মেরে কানধরে ওঠবস করিয়ে নারায়ণগঞ্জের এমপি সেলিম ওসমান সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেছেন, তিনি ওই শিক্ষককে কানধরে ওঠবস করাননি! সে একজন (শ্যামল কান্তি ভক্ত) তার ছেঁড়া মাস্টার, নিজে নিজেই সে কান ধরে ওঠবস করেছে!

সংসদ সদস্য তথা জনপ্রতিনিধিদের কাছে আমাদের শিক্ষকদের কী সম্মান! দলীয় ক্ষমতাসীনরা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সময়-সুযোগমতো মারণাস্ত্র প্রয়োগ করেন। নানা অপকৌশল গ্রহণ করে। অতিউৎসাহীরা প্রতিপক্ষ শিক্ষকদের অপদস্থ করতে তাদের চরিত্রে নোংরা রাজনীতি লেপিয়ে দিতে কার্পন্য করে না। এক্ষেত্রে ক্ষমতাসীন উচ্ছৃৃঙ্খল ছাত্রদের ব্যবহার করে।

তাতে রাজনৈতিক সুবিধাবাদী শিক্ষকরাও সহযোগিতা করে। নিরপেক্ষ শিক্ষকরা বার বারই হেনস্তা হন। দলীয় সভাপতি, দলীয় অধ্যক্ষ এবং দলীয় সদস্যদের আশীর্বাদে দলীয় শিক্ষকদের অনেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রভাবশালী হয়ে উঠেন। নিরীহ এবং শান্ত শিক্ষকদের ওপর তারা নানাভাবে নিপীড়ন চালান। বিবেকবান শিক্ষকরা ভেতরে ভেতরে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। দিন যায়। মাস যায়।

কিন্তু কী করবে? হতাশার অক্টোপাস আষ্টেপৃষ্টে ধরে তাদের। দলীয় শিক্ষকদের কেউ কেউ শুধুমাত্র গলাবাজি করে সারাবছর বেতন তুলেন, পদোন্নতি পান, নানা সুযোগ-সুবিধা নেন। আর দলীয় বলয়ের বাইরে যারা, কোনো কিছুর সাথে-পাছে নাই, সেইসব শিক্ষকদের চুন থেকে নুন খসলে শোকজ খেতে হয়! অপমানিত হতে হয়! লঘু পাপে গুরু দণ্ড পেতে হয়! নিরব ধ্বংসযজ্ঞ চলছে জাতির! শিক্ষা নিয়ে কত হৈচৈ!

শিক্ষাক্ষেত্রে অর্জন নিয়ে আমাদের আত্মতৃৃপ্তির কমতি নেই। কিন্তু‘ দেশের বেশিরভাগ কলেজের পরিচালনার ক্ষেত্রে যে অসঙ্গতি চলছে তা দূর করা গেলে আমাদের অর্জন হতো আরো বেশি এবং মানসম্পন্ন। সংখ্যা দিয়ে বিচার না করে মান দিয়ে বিচার করাটাই শ্রেয়। আর শিক্ষার মান উন্নয়ন ও ধরে রাখার দায়িত্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা পরিষদের।

পাবলিক পরীক্ষার কৃতিত্বের দাবিদার গভর্নিং বডি হলেও বিপর্যয়ের দায় কখনো এর উপরে বর্তাতে দেখা যায় না। তারা সেটা নিতে চায় না। শিক্ষার মান নিয়ে আপস করা হবে চরম আহাম্মকি। বরং আরো অনেক আগে মানের ব্যাপারে সচেতন হলে সোনার বাংলা গড়ার স্বপ্ন অনেকটাই সফল হতো। এখনও সময় আছে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় দলীয় নেতা-কর্মীদের বাইরে নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদদের প্যানেল প্রস্থত করতে পারে।

সেখান থেকে গভর্নিং বডির সভাপতি মনোন্নয়ন দেয়া যেতে পারে। কোনোভাবে সংসদ সদস্যদের গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়া উচিত না। কেননা, শিক্ষা ও রাজনীতি এক সঙ্গে চলতে পারে না। তা নাহলে ধর্ষণসহ নানা অবক্ষয়ের চাষ এখানে বাড়তেই থাকবে। তৃণমূলের এসব খবর হয়তো আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছেই না।

এসব প্রধানমন্ত্রীর জানা দরকার। আমরা জানি প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের সম্মান দেন। অথচ দেশের আনাচে-কানাচে তার দলীয় জনপ্রতিনিধিদের এ কী অবস্থা! জনপ্রতিনিধিদের প্রতি আস্থা কোথায় যেন দুমড়ে মুচড়ে যাচ্ছে!

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন, ঢাকা মহান






ads