মহামারীতেও বদলায়নি মানুষের বদাভ্যাস!

দৈনিক মানবকণ্ঠ
দৈনিক মানবকণ্ঠ - সংগৃহীত

poisha bazar

  • জুবাইয়া ঝুমা
  • ২৯ জুন ২০২০, ১০:৪৩

সকালে ঘুম থেকে উঠে সংবাদপত্রে চোখ বুলালেই বুকের বাঁ পাশে সজোরে ধাক্কা খায়। নিত্যদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। মহামারী করোনার তাণ্ডবে গোটাবিশ্ব স্থবির। বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও একই অবস্থা। মহামারী সুযোগে গাড়ির বেপরোয়া গতি, লাইসেন্সবিহীন চালক, ওভারটেকিং, ওভার লোডিং, আনফিট গাড়ি চলাচল- বন্ধ নেই কোনোটিই।

মহামারী করোনার কারণেও মানুষের মাঝে আসেনি সচেতনতার পরশ। ফুট ওভারব্রিজ রেখে বাতাসের গতিতে অনিশ্চয়তার মাঝে জীবনকে বাজি রেখে দৌড় দেয়ার চিত্র আছে আগের মতোই। আর রাস্তা পার হওয়ার সময় ফোনে কথা কথা বলার চিত্রেরও বদল হয়নি। করোনার আঘাতে ক্ষত-বিক্ষত বিশ্বে মানুষের জীবনযাত্রায় নতুন মাত্রার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে বলে অনেকের মতো। অনেক ক্ষেত্রে বদল ঘটলেও নৈতিকতার বদল হয়নি তেমন।

পিপিই পরিধান করে, চায়ের দোকানে বসে টক শোয়ের দেখা মেলে। সাথে ধূমপান আর মাস্কের মিশেলে এক পরিবর্তনের নতুন রঙিন চিত্র। এক হাতে সিগারেট আর অপর হাতে মাস্ক, ধূমপান শেষে মাস্ক পরার কারণে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে বলে অনেকের মতবাদ। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ময়লা-আবর্জনা নিতে আসা লোকজনের জীবন অধিক ঝুঁকিপূর্ণ।

একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী জানান, মাস্কের কারণে করোনা থেকে রক্ষা পেলেও নানাবিধ রোগ হওয়ার আতঙ্কে আছি? কারণ এক মাস্ক পরে প্রতিদিনই কাজ করি। প্রতিনিয়ত মাস্ক কেনার সামর্থ্য নেই। ফলে অনেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীই নানাবিধ রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছে। মানা হয় না সামাজিক দূরত্ব, নেই সচেতনতার বলাই! এখনো মানুষ যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ দূষণ করার পাল্লায় নিমজ্জিত।

চারপাশে অনিয়ম, অসতর্কতা হু-হু করে বাড়ছে। সরকার যত চেষ্টাই করুক জনজীবনকে বিপর্যস্ত হাত থেকে রক্ষা করবে কিন্তু মানুষ যতদিন সচেতন না হবে ততদিন কোনো সমস্যাদ্বয়ের সমাধান মিলবে না। সরকারি হিসাবে বাংলাদেশের করোনা ভাইরাসে মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। বর্তমানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৫০২ জন।

একই সময় আরো ৩ হাজার ৪৮০ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ৭৮৬ জন, যার মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৬ হাজার ৭৫৫ জন মা অতিনগণ্য বললেই চলে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা কিন্তু টনক নড়ছে না আমজনতার, হায় রে বাঙালি!

সিনিয়র নিউজ রুম এডিটর ও প্রেজেন্টার, রেডিও টুডের আবিদ আজম জানান, জীবন ও জীবিকা একটি অপরটির সাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জর্জরিত। জীবিকা ছাড়া জীবন অসাড়। জনবহুল দেশ বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা ঘনবসতিপূর্ণ বললেই চলে। সকালে প্রতিনিয়ত মানুষের বেঁচে থাকার জন্য জীবিকা নির্বাহের লড়াইয়ে সবাই যোদ্ধা।

জীবিকা না থাকলে করোনার করাল থাবার আগেই জীবনের গতি চিরতরে থেমে যাবে। তাই আজ বেশিরভাগ অসচেতনতার মূল শিকড় হলো জীবিকা। তারপর একটি কথা না বললেই নয়, বাঁকা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী হাসান তামিম জানান, দেশের সার্বিক ব্যবস্থাপনা যতই সমৃদ্ধ আর সুদৃঢ় হোক আপামর জনতা যদি সচেতন না হয়, তবে সমস্ত প্রক্রিয়াটি হযবরল হয়ে পড়ে।

মানুষের অসাবধানতার পরিণতি কতটা ভয়াবহ অবস্থা সৃষ্টি করেছে তা নিশ্চয়ই নতুন করে বর্ণনা করতে হবে না। এখনো সময় আছে মৃত্যুর মিছিলের আয়োজন টেনে ধরার। উদ্ভ‚ত করোনা পরিস্থিতিতে সচেতনতা আর সাবধানতার কোনো বিকল্প নেই। এক শ্রেণির মানুষ অনেকেই খেয়ালের বশে অসচেতন।

তাদের ভাব হলো, যা হওয়ার হবে। ফলে এ কারণে তিনি নিজে বাইরে গিয়ে সংক্রমিত হওয়ার পর তার পরিবারও তার মাধ্যমে করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। এক্ষেত্রেও সচেতনতার অভাব পরিলক্ষিত। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মৌসুমি জানান, মহামারী করোনা ছাড়াও সব সমস্যা সমাধানের প্রধান ওষুধ হলো জনসচেতনতা। জনসচেতনতার অভাব থাকলে সেই রাষ্ট্রের কোনো সমস্যা থেকে জনগণ পরিত্রাণ পাবে না।

সবার কাছেই মনে হয় সচেতনতা ছাড়া কোনো সমাধান ফলপ্রসূ হবে না। তাই সচেতনতার আলোয় আলোকিত হতে পারলে মানুষের জীবনের সুস্থতা নিশ্চিত হবে। নতুন ভোরের আলোয় উদ্ভাসিত হবে গোটা বাংলাদেশের মানুষ, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে অচিরেই পৌঁছে যাবে বলে আশাবাদী।

বিশ্ববাসীর সীমালঙ্ঘনের পরিণাম এই অদৃশ্য ঘাতক? তাই করোনা থেকে মুক্ত থাকতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পাশাপাশি আত্মশুদ্ধি, ধর্মীয় অনুশাসন ও প্রার্থনা করাও গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ যেন করুণা করে এই মহামারী থেকে সবাইকে মুক্তি দেন, এই হোক প্রার্থনা- পরিশেষে, একটাই প্রত্যাশা সচেতনতার আলোয় আলোকিত হোক মানুষ এটাই হোক মহামারী করোনার মাঝে মানুষের অঙ্গীকার।

লেখক: কলামিস্ট

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads






Loading...