করোনা কী দেবে-সাম্যের পৃথিবী, না চিরকালের বৈষম্য?

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০৬ জুন ২০২০, ০০:২১,  আপডেট: ০৬ জুন ২০২০, ০৯:০২

করোনাকালে আসলে মানুষে মানুষে কোনো পার্থক্য নেই। কে লেখক আর কে পাঠক, কে বিত্তশালী, কে বিত্তহীন- এসব বিবেচনা না করে করোনাভাইরাস সবাইকে আক্রমণ করেছে।

ফলে আমি লেখক হিসেবে আর নিজেকে দেখছি না, একজন উদ্বিগ্ন নাগরিক হিসেবেই বরং দেখছি। চারদিকে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে। মৃত্যু হয়তো কম; কিন্তু মৃত্যু তো আছে। লেখকদের একটা সংবেদনশীলতা চিরকাল থাকেই। কারও বেশি, কারও একটু কম, এই যা- তাদের কাছে মানুষের কষ্টের, দুর্দশার আর বিপর্যয়ের ঘটনাগুলো বড় হয়ে দেখা দেয়, বিশেষ করে চিকিৎসার অভাবে যে মানুষ মারা যাচ্ছে, হাসপাতালে হাসপাতালে ঘুরে অনেকে যে চিকিৎসা পাচ্ছে না এসব কথা।

অন্যদিকে ত্রাণের চাল লুট হচ্ছে, শ্রমিকদের জোর করে কাজে খাটানো হচ্ছে। একটা অদ্ভুত অরাজক সময়ের ভেতরে আমরা বাস করছি। এখন মানুষ এবং লেখক হিসেবে এই বিষয়গুলো আমাকে কষ্ট দেয়। করোনা মহামারির এই সময়ে আমরা ডারউইনের ‘সারভাইবল অব দ্য ফিটেস্ট’ লড়াইটা দেখেছি, যা বৈষম্য হাজার গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাদের হাতে পয়সা আছে তারা পণ করেছে যেভাবেই হোক পয়সাটা ধরে রাখতে হবে। এবং তাতে যদি অন্যায় হয়, গরিবের হকটা মারা হয়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই- নিজেদের বাঁচিয়ে রাখাটাই আসল কথা। এই ভাবনার শ্রেণির মানুষ বাংলাদেশে কম নয়। উল্টো দিকে, মানুষের লোভ এবং লালসার এবং যেভাবেই হোক নিজের পাওয়াটা আদায় করার সংকল্প নিয়ে অনেকের পথে নেমে পড়ার গল্পগুলোও তো কম নয়, এগুলো নিয়েই এখন ভাবি।

বুঝি না কোন দিকে আমাদের নিষ্কৃতি। একটা অমানিশার ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা সবাই! এই সময়ে নিজেকে পড়ার ভেতর রাখতে পারি না, নতুন বই পড়ার সময়ও পাই না। আমি একজন শিক্ষক, একটা প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি, সেখানে অনলাইনে ক্লাস নিতে হয়েছে। এটি করতে গিয়ে জানলাম অনেক ছেলে-মেয়ে গ্রামে চলে গেছে, তারা কষ্টে আছে। তাদের লেখালেখি জমা দিচ্ছে ই-মেইলে।

সেগুলো ঠিকঠাক করে গ্রেড করতে হচ্ছে, এই করে একটা সময় চলে গেছে। আর পড়ার মতো সুস্থিরতা তো নেই এখন, লেখার মতো সুস্থিরতা কিংবা ভাবনার জন্য মানসিক প্রশান্তি- তা কোথায়? তাছাড়া অনেকেরইতো দুর্দশার কথা শুনছি এবং অনেকেই অসুস্থ হয়ে আছেন। জামিলুর রেজা চৌধুরী স্যার আর অধ্যাপক আনিসুজ্জামান মারা গেলেন, আমার বন্ধু মুনতাসীর মামুন হাসপাতালে ছিল- এখন সে ভালো, বাসায় এসেছেন।

আমার কিছু নিকট বন্ধুও অসুস্থ- একটা উদ্বেগের ভেতর দিয়ে দিন কাটে। লেখাতে বা কোনো কিছুতেই মন বসে না, তেমন পড়াশোনাও করতে পারছি না। একটা বইয়ের ভেতর যে ডুবে যাব, যেমন পারতাম তিন-চার মাস আগে, দুই-তিন দিনেই হয়তো একটা বই শেষ করে ফেলতাম, এখন আর তা হচ্ছে না।

এখন একটা বই হাতে নিয়ে হয়তো ৮-১০ পৃষ্ঠা পড়লাম- রেখে দিলাম, অন্য আরেকটা বই হাতে নিলাম- এভাবে বিক্ষিপ্তভাবে কিছু পড়া হচ্ছে, এই যা। ইন্টারনেটে একটানা বেশিক্ষণ বই পড়তে ভালো লাগে না। যেহেতু বাইরে বের হওয়া যাচ্ছে না- আমার বাড়িতে যে কটা বই আছে, সেগুলোই মাঝে মধ্যে দু-একটা পড়ার চেষ্টা করছি।

ঈদ গেলো কিছুদিন আগে। ঈদের সময় এলে মানুষ আনন্দ নিয়ে বাজার হাট করে, এটাই নিয়ম। একেবারে নি¤œবিত্ত পরিবারও ঈদের জন্য কিছু স য় রাখে; কিন্তু এবার সবই বদলে গেছে। মানুষের হাতে টাকা পয়সা নেই। সন্তানকে একটা কিছু কিনে দেয়ার মতো সামর্থ্য বা অবস্থা অনেকেরই নেই। ভয়ানক কষ্টের একটা বিষয়।

এবারের ঈদটা সবচেয়ে নিরানন্দের হয়েছে । আমি একাত্তরের ঈদ দেখেছি, কিন্তু সেসময় একটা প্রত্যয় ছিল, সংকল্প ছিল, যুদ্ধের একটা উম্মাদনা মানুষের ভেতর ছিল, কাজেই সেই সময় মানুষ ইচ্ছে করেই অনেক কিছু করেনি- ভবিষ্যতে দেশটা স্বাধীন হলে অনেক কিছু পাব, এই আশায়; কিন্তু এখন এক সঙ্গে বহু মানুষ কাজ হারাচ্ছে, কিছু অর্থলোভী মানুষের জন্য অনেকের চাকরি চলে যাচ্ছে। অনেকে দুর্গত হচ্ছে অথচ প্রতিবেশীরা হয়তো অনেক আনন্দে আছে। এরকম একটা অসম্ভব অবস্থার ভেতরে আমরা সকলে আছি।

আমি সবাইকে অনুরোধ করব, আপনারা যেটুকু পারেন বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ান। মানুষের বিপদে মানুষইতে পাশে দাঁড়াবে।এই সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে জানতে পেরেছি। আমি এই ধরনের উদ্যোগের কোনো অর্থ খুঁজে পাই না। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের এক কর্মকর্তার সঙ্গে এক সাংবাদিকের কথা হয়েছিল- তিনি বলেছেন এ পর্যন্ত ক্লাস বেশ কতদিন হারিয়েছে, এটি এমন কোনো বিপর্যয় নয়। একাত্তরে আমরা একটা বছর তো শিক্ষার ধারে কাছে যাইনি।

তাতে কি আমরা পঙ্গু হয়ে পড়েছি? আমার তো দুশ্চিন্তা অন্য জায়গায়- স্কুলগুলো আবার যখন খুলবে তখন প্রাইমারি পর্যায়ে বহু ছাত্র-ছাত্রী, অন্তত ৩০ শতাংশ, হয়তো আর ফিরে আসতে পারবে না, তারা হয়তো ঝরে পড়বে। এদের বাবা-মায়েরা চাকরিহীন হবে, এদের পরিবারের কোনো উপার্জন থাকবে না, অথবা থাকলেও যথেষ্ট থাকবে না।

গ্রামের দারিদ্র্য আরও বাড়বে। ফলে পরিবারগুলো সন্তানদের কাজে লাগাবে এবং বাল্যবিবাহও বেড়ে যাবে, যদি সরকার সতর্ক না হয়। এখন আমাদের উচিত কীভাবে এই সন্তানদের স্কুলে রাখা যায় সেই চিন্তা করা, প্রাথমিক শিক্ষাটাকে করোনা-উত্তর সময়ে কীভাবে আরও কার্যকর আর মনোগ্রাহী করা যায়, আরও বেশি শক্তিশালীভাবে এগিয়ে নেয়া যায়- সেই চিন্তা-ভাবনা করা।

যারা অনলাইন অনলাইন করছেন, তারাকি এদেশের আর্থ-সামাজিক অবস্থাটা সম্পর্কে জানেন না? বিশাল বাংলায় কম্পিউটার ইন্টারনেটের অবস্থাটা কি, সে সম্পর্কে কি তাদের ধারণা নেই? অনেক গ্রামে তো এসব নেই। আর গ্রামে যে কৃষকের সন্তান প্রাথমিকে পড়ে তার অ্যান্ড্রয়েড ফোন কোথায়? বিদ্যুৎওতো নাই অনেক গ্রামে। ১০ শতাংশ বাড়িতে তো এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি আমাদের দেশে।

তাহলে এই চিন্তাটা কাদের মাথা থেকে আসে? তাছাড়া ফোনে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে তো মোবাইল কোম্পানিগুলো থেকে তা কিনতে হবে। সে পয়সাটা কে দেবে? যদি এমনই হতো যে বাংলাদেশের কৃষকের বাড়িতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ আছে তাহলে তো তার অবস্থান হতো মধ্য এবং উচ্চ মধ্যবিত্তের। অনলাইন শিক্ষার কথা যারা বলছেন, তাদের উচিত, শিক্ষার উন্নয়ন নিয়ে ভাবা, ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী যারা ঝরে পড়তে পারে তাদের ধরে রাখার উপায় খুঁজে বের করা।

আমি প্রস্তাব করছি, যারা ঝরে যেতে পারে, যে বিপন্ন পরিবারগুলো বিপদে পড়েছে, আয় উপার্জন হারাচ্ছে যে পরিবারগুলো, যারা কর্মহীন হবে, যারা দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাবে, সেসব পরিবারের সন্তানদের একটা ডাটাবেজ তৈরি করা হোক, একটা তথ্যভাণ্ডার তৈরি করা হোক এবং তা এখনই।

স্কুল খুললে তাদের প্রতি মাসে ৩০০-৪০০ টাকা করে বৃত্তি দেয়া হোক, যাতে তারা স্কুলে থাকে, তা না হলে তারা ঝরে পড়বে। ঝরে পড়লে তাদের আমরা আর ফিরে পাব না। আমাদের এক চমৎকার অর্জন হচ্ছে প্রাথমিক পর্যায়ে শিক্ষাটা সর্বজনীন করা এবং মেয়েদের সবাইকে অন্তর্ভুক্ত করা। সেই অর্জনটা আমাদের হাত থেকে ফসকে যাবে, যদি এখনই একটা কার্যকর পরিকল্পনা আমরা না করে রাখি।

তবে সরকারের ভেতরে এই চিন্তাটা কেউ করছেন কি না, আমার সন্দেহ। ভালো পরিকল্পনা করার চাইতে অনলাইন অনলাইন করে কোলাহল করাটা অনেক সহজ। ঝরে যাওয়ার ভয়ে থাকা শিশুদের এই সংখ্যাটা বেশি হতে পারে, আবার কিছু কমও হতে পারে। এদের ধরে রাখার পরিকল্পনায় আরও থাকতে পারে একবেলা তাদের খাবার জোগান দেয়া।

খাবারের সঙ্গে ৩০০-৪০০ টাকা করে মাসে বৃত্তি দেয়া গেলে পরিবারগুলো বাচ্চাদের আর কাজে পাঠাবে না, স্কুলেই রাখবে। বাল্যবিবাহ থেকে অনেক কন্যাসন্তান নিষ্কৃতি পাবে। আর ল্যাপটপ- ইন্টারনেট থাকলেও ছাত্রছাত্রী বেশি থাকলে অনলাইন শিক্ষাটা কার্যকর হয় না। এ জন্য আমাদের সিদ্ধান্তগুলো নিতে হবে বাস্তবতার নিরিখে।

জনগণের টাকা খরচ করার আগে ফল নিয়ে ভাবতে হবে। করোনা-পরবর্তী বাংলাদেশে গৌরিসেনের টাকাও গুনে গুনে খরচ করতে হবে। এই সময়ে এমন একটা কাজে যদি আমরা টাকা খরচ করি, যার ফল পাবে ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী, তাহলে তা হবে নতুন বৈষম্য তৈরি, এটি গ্রহণযোগ্য নয়।

মানুষে মানুষে বৈষম্য ঐতিহাসিকভাবে চলে আসা একটি সত্য। আমাদের দেশে আছে, পৃথিবীর সবখানেই আছে। কিছু মানুষের হাতে পয়সা আছে বেশিরভাগ মানুষের হাতে পয়সা নেই। তবে করোনা মহামারির এই সময়ে আমরা ডারউইনের ‘সারভাইবল অব দ্য ফিটেস্ট’ লড়াইটা দেখেছি, যা বৈষম্য হাজার গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

যাদের হাতে পয়সা আছে তারা পণ করেছে যেভাবেই হোক পয়সাটা ধরে রাখতে হবে। এবং তাতে যদি অন্যায় হয়, গরিবের হকটা মারা হয়, তাতেও কোনো অসুবিধা নেই- নিজেদের বাঁচিয়ে রাখাটাই আসল কথা। এই ভাবনার শ্রেণির মানুষ বাংলাদেশে কম নয়। এরা আবার শক্তিবান, অনেক ক্ষমতা রাখে। আর যারা বিত্তহীন, যারা কর্মহীন, যারা দিনে দিনে নিষ্পেষিত হচ্ছে ওদের সংখ্যাটাও বাড়ছে; কিন্তু এতে একটা ভয়ানক মিশ্রণ তৈরি হচ্ছে, যা থেকে একটা বিস্ফোরণ হতে পারে।

তা হলে সমাজ তা সামাল দিতে পারবে না, রাষ্ট্রও না। সেটা কারও জন্য সুস্থ হবে না। আর এখন বিশ্ব যে অবস্থায় আছে, এবং ভবিষ্যতে বহুদিন থাকবে, তাতে চাইলেই চট করে বিমানে উঠে সিঙ্গাপুর, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া চলে যাওয়া সম্ভব হবে না। সবাইকে দেশেই থাকতে হবে। আমি করোনা বালাই শুরু হওয়ার সময় বলেছিলাম, দুই ধরনের বিশ্বের সম্ভাবনা তৈরি করেছে এই মহামারি।

একটা হচ্ছে সাম্যের- যেখানে সবাই সবার জন্য কিছুনা কিছু করবে, কারণ মহামারিতো দেখিয়ে দিল তার কাছে সবাই সমান নানা দেশের মন্ত্রী- প্রধানমন্ত্রী আক্রান্ত হচ্ছেন, ফেরিওয়ালা-মালিও আক্রান্ত হচ্ছেন। এখানে কোনো বাছবিচার নেই। মহামারি তাহলে মানুষকে বুঝিয়ে দেবে, সবাইকে নিয়ে সবার চলতে হবে। ফলে, মানুষের কাছে মানুষের মূল্য বাড়বে।প্রত্যেকে প্রত্যেকের জন্য দাঁড়াবে, কিছু না কিছু করবে, একজন আরেকজনকে সামনে নিয়ে যাবে।

অথবা, দ্বিতীয় সম্ভাবনা- পৃথিবীটা শ্বাপদ সংকুল হবে, যেখানে ‘সারভাইবল অব দ্য ফিটেস্ট’, যে সবচেয়ে বেশি যোগ্য তারই বেঁচে থাকার অধিকার হবে টিকে থাকার মন্ত্র। আমার মনে হয় এই দিকেই পৃথিবীটা যাচ্ছে। এটা শুধু আমাদের দেশের চিত্র নয়, বেশির ভাগ দেশের চিত্র। তাতে যে সামাজিক বিপর্যয় ঘটবে তাকে সামাল দেয়ার মতো শক্তি কোনো রাষ্ট্রেরই (যদি না রাষ্ট্রটি ভয়ানক দানব হয়; ধনীদের নিয়ে, ধনীদের দিয়ে এবং ধনীদের জন্যই শুধু হয়) থাকবে না।

এ থেকে নিষ্কৃতি পেতে শুধু নিজের স্বার্থের কথাটা না ভেবে অন্যের চিন্তাটাও করতে হবে। প্রত্যেক পরিবারকে ভাবতে হবে, সে বেঁচে থাকবে যদি অন্য সবাই বেঁচে থাকে। প্রত্যেকে আমরা প্রত্যেকের সঙ্গে সম্পর্কে যুক্ত। ধরুন, যারা জরুরি সেবা দিচ্ছেন, তারা যদি পানি, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেন, তা হলে বড় বড় হাইরাইজ দালানগুলোর বাসিন্দারা ক’দিন এসব দালানে থাকতে পারবে?

যদি ডারউইনের তত্ত্ব খাটতে থাকে, তাহলে যে অরাজক পরিস্থিতি হবে, তখন যদি ঢাকার কোনো এলাকায় ১০ দিন পানি না থাকে, তখন বড় বড় বাবুদের বালতি হাতে পানির খোঁজে নামতে হবে। ছবিটা আরও করুণ হতে পারে, তবে সেরকম ভাবাটা ঠিক নয়। আমরা আশা করি বাঙালিরা, যারা একাত্তরে গ্রামের মানুষের করুণায় ভালোবাসায় বেঁচে ছিলাম, যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছি, তারা ডারউইনের তত্তকে এদেশে ফলতে দেবেন না।

মনে রাখতে হবে যে, আমরা বেঁচে আছি আমাদের শ্রমিক এবং কৃষকের কৃপায়। তারা কৃপা করছেন বলে আমরা টিকে আছি। করোনার সময়ে একজন নার্স কৃপা করছেন বলে সেবা পাচ্ছি। সে জন্য এই পৃথিবীটাকে আরও মানবিক করতে হবে। এটিই আমি মনে করি সবচেয়ে বড় কর্তব্য।

বৈষম্যের এই প্রশ্নটা খুব বড় হয়ে দেখা দিয়েছে, এর উত্তর খুঁজতে হবে সবাইকে- অর্থনীতি, সমাজ তত্ব¡, স্বাস্থ্য এসব ব্যাপারে যারা তাত্তি¡ক ও বিশেষজ্ঞ, তাদের সবাইকেই। একজন সাহিত্যের অধ্যাপক বা একজন লেখক হিসেবে আমার যা মনে হচ্ছে, এখন সময় এসেছে দেশের ও মানুষের প্রতি আমাদের ঋণ শোধ করার এবং আমি যে অন্যের কৃপায় বেঁচে আছি এটা বোঝার। যদি আমরা ব্যর্থ হই তাহলে বুঝতে হবে আমাদের এ পৃথিবী ও প্রকৃতি আর গ্রহণ করবে না। আমরা ডাইনোসরদের মতো বিলুপ্ত হয়ে যাব।

লেখক: সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম- শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক।

মানবকণ্ঠ/এমএইচ





ads







Loading...