এভাবে কি বাঁচতে পারব?

দৈনিক মানবকণ্ঠ
দৈনিক মানবকণ্ঠ - ছবি: সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০৩ জুন ২০২০, ১০:১৬

দুশ্চিন্তা আমাদের বড় একটি রোগ। এই রোগ আমাদের সকলের কম-বেশি রয়েছে। বর্তমানে বৈশ্বিক অবস্থানের দিকে তাকালে সবার জীবনের হালচাল বলে দেয় আমরা কেমন আছি। গত ১ জুন থেকে দেশের অধিকাংশ অফিস এবং দোকান-শপিংমল খোলা হয়েছে। পরিস্থিতির কারণে রাস্তায় নামতে বাধ্য হয়েছে সাধারণ মানুষ।

যে যার মতো করে ছুটছেন চাকুরি বাঁচাতে। ঘরে নিরাপদে বসে থাকার মতো অর্থনীতি আমাদের নেই। তাই অগত্যাই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজে বসতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ থেকে মধ্যবিত্ত সবাই। পেটের তাগিদে সবকিছু উপেক্ষা করেই এ পথে নামা। রাস্তায় গণপরিবহনও নেমেছে, নামতে হয়েছে।

সাধারণ মানুষ নামলে তার পরিবহন নামবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু পরিবহনের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়টির বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটা গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো হয়েছে। এবার আসা যাক মূল বিষয়ে। গণপরিবহণের ভাড়া ৬০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। গণপরিবহনেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা হবে- সরকারি প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।

এসব দিক বিবেচনা করেই ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু প্রথম দিনেই গণপরিবহনে যাত্রীদের যে ঘেঁষাঘেঁষি তা ইতোমধ্যেই অনেকের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রশ্ন হলো গণপরিবহনের মালিকরা ইতিপূর্বে কখনোই তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি, এবারে রক্ষা না করলে বিশাল বিপর্যয় দেখা দেবে।

ফলত দেখা যায়, বাসভাড়া বৃদ্ধি হলো আর মালিকরা সামাজিক দূরত্ব বা সরকারের নির্ধারিত রীতি বজায় রাখলো না তাহলে ভাড়াটাই বাড়লে পক্ষান্তরে মানুষের সংকট রয়েই গেল। তাহলে বিষয়টা দাঁড়াবে কি? আমিও একজন চাকরিজীবী। অফিস করার জন্য রোজ বের হতে হয় আমাকেও।

সড়কে নামলে আগে ভয় থাকত সড়ক দুর্ঘটনার। এখন ভয় দুটো। যার মধ্যে প্রথম ভয় এখন করোনা। প্রথম দিনেই এই ভয় আরো বেড়ে গেল। যার কারণ হচ্ছে যাত্রীরা মানছেন না সামাজিক দূরত্ব। মানছেন না স্বাস্থ্যবিধি। এরমধ্যে ভাড়া হচ্ছে দিগুণ। সরকার যেখানে ৬০ শতাংশ বাড়িয়েছে ড্রইভারগণ সেখানে দিগুন বলবে এটাই তো স্বাভাবিক।

আরও সহজ করে দিলে চট্টগ্রামের একেখান থেকে জিইসি ভাড়া হচ্ছে ১০ টাকা। এখন সেই ভাড়া ২০ টাকা। এই কঠিন সময়ে সাধারণ মানুষের এই কষ্ট কে দেখবে? নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম বাড়তি। বাজারে গেলে শাক-সবজির দাম বাড়তি। বাড়তি মাছ-মাংস থেকে শুরু করে চাল-ডাল সবকিছু। গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বাড়তি।

এভাবে সবকিছু যখন বাড়তি দিতে হচ্ছে তখন করোনার আগে মানুষ সংকট যেভাবে প্রকট হচ্ছে তাতে এসব ব্যাপার রাষ্ট্র না দেখলে অভাব দেখা দিতে পারে। কারন ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বেতনের ৩০/৪০ শতাংশ কেটে রাখার খবর ইতিমধ্যে গণমাদ্যমে প্রকাশ হয়েছে। তাহলে মানুষ বাঁচবে কি করে?

বাঁচা-মরার এই লড়াইটা একটু সহজ হতো যদি সব বাড়তি দিয়েও ভয় দূর হতো। শুধু তা-ই নয়, যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম। কিছু কিছু টেম্পু এবং বাসে নিয়ম মেনে যাত্রী নিতে চাইলেও সেটা পারছে না। ফলে যাত্রীরা নিয়ম না মেনে যেকানভাবে গাড়িতে উঠতে বাধ্য হচ্ছে। এভাবে কি বাঁচতে পারবো?

দিন দিন করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। সাথে মৃত্যুর পাল্লাও ভারি হচ্ছে। সুস্থ হচ্ছে না তা নয়। কিন্তু আক্রন্তের সংখ্যা বেড়ে গেলে সুস্থতার হার কমে যাবে। এবং মৃত্যুর হার বেড়ে যাবে। এটা আমাদের মাথায় রাখা জরুরি। বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি আক্রান্ত আমাদের দেশে। এভাবে আর কিছুদিন অতিক্রম করলে অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

সম্প্রতি পোপ ফ্রান্সিস বলেছেন, অর্থনীতির চেয়ে মানুষের জীবন গুরুত্বপূর্ণ। মানুষ বাঁচলেই অর্থনীতি বাঁচবে। হয়তো আমরা অর্থনীতির চাকা সচল করতে গিয়ে মানুষের চাকা বন্ধ করার রাস্তায় হাটঁছি। এক সময় অর্থ থাকবে মানুষ থাকবে না।

তবুও অনিত্য এই সংসারে আমাদের এগুতে হবে। প্রতিটি মানুষেরই কিছু না কিছু দুঃখ-কষ্ট থাকে। সেসব কষ্টের সাথে করোনার অদৃশ্য ভয়কেও সঙ্গে করে আমাদের চলতে হবে। হুম, চলতেই হবে। কারণ পায়ের তলার মাটি এখন আর পায়ের তলায় নেই। প্রতি মূহুর্তেই মাটি সরে যাচ্ছে পায়ের তলা থেকে। তাই পা বাড়াতেই হবে।

ক্ষুধার সাথে যুদ্ধ করেও পারা যাবে না। সন্তানের অনাহারি মুখ দেখে কষ্ট লুকিয়ে রাখার যুদ্ধেও হেরে যেতে হবে আমাদের। তাঁর চাইতে জীবনকে হাতে নিয়ে না হয় আরও একবার ছুঁটে যাই। হয় জীবন নিয়ে ফিরবো, নয়তো কিছু জীবনকে সঙ্গে নিয়ে চলে যাবো। অফিসে আমাদের যেতেই হবে।

তবে সাবধানতা, সচেতনতা আর জীবনের মায়া যেন থাকে। এখন সময় নিজের মতো করে সমাজের সব মানুষের কথা ভাবা। নিজেকে যেমন বাঁচতে হবে,সমাজের অন্যান্যদেরও বাঁচাতে হবে। তাই নিজের এবং চারপাশের মানুষের সেফটি নিশ্চিত করাই এখন প্রধান কাজ।

আশে পাশের সবাইকে এখন করোনা মনে করে চলতে হবে। এই দুর্দন একদিন কেটে যাবে। চিন্তারা ডানা মেলবে নতুন দিগন্তে, তখন প্রিয়জনদের বুকে জড়িয়ে নিতে পারবেন।

লেখক : আজহার মাহমুদ- প্রাবন্ধিক, কলাম লেখক।




Loading...
ads






Loading...