কী হতে যাচ্ছে আমাদের দেশে?

কী হতে যাচ্ছে আমাদের দেশে? - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ২৭ মার্চ ২০২০, ০০:২৯,  আপডেট: ২৭ মার্চ ২০২০, ১০:০৯

মনের ভেতরে জমানো আবেগগুলো ডুকরে ডুকরে কাঁদে। অন্তিম প্রত্যাশাগুলো হারিয়ে যেতে চায় নিজের আগোচরে। হয়তো সাজানো গোছানো এই রঙিন ভুবন ছেড়ে যেতে হবে। মানবতাও আজ নিজের মতো করে লুকিয়ে পড়েছে তাদের নিজস্ব নীড়ে। হেড়ে যেতে বসেছে মানুষের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। আমরা আজ বাধ্য নিজেকে রক্ষা করার প্রতিজ্ঞায়। ভয়ানক এক থাবা কেড়ে নিচ্ছে হাজার হাজার মানুষের তাজা প্রাণ। পড়ে আছে নিষ্প্রাণ দেহ। ব্যর্থ হচ্ছে পরিবার ও সরকার।

সব কিছু পরাজিত হচ্ছে ভয়ানক এই ভাইরাসের কাছে। এখন একমাত্র ভরসা মহান সৃষ্টিকর্তা সর্ব শক্তিমান আল্লাহ তাআলার ওপর। ভয়ানক এই ভাইরাসের নাম করোনা। যার পোশাকি নাম কোভিড-১৯। ভাইরাসের আরেকটি নাম হচ্ছে ২০১৯ এনসিওভি বা নোভেল করোনা ভাইরাস। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ধারণা, কোনো প্রাণী থেকে ভাইরাসটির উৎপত্তি হয়।

চীনের হুবেই প্রদেশের রাজধানী উহান থেকে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর অন্যান্য দেশে। গত বছরের শেষের দিকে শুরু হয় এই ভাইরাসের প্রকোপ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই রোগটিকে বিশ্ব মহামারী ঘোষণা করেছেন। করোনা ভাইরাস একটি সংক্রমণ ভাইরাস। যা আগে কখনো মানুষের মাঝে ছড়ায়নি। বিশ্বের প্রায় ১৯৫টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস। এর মাধ্যমে ১৬ হাজার ৫শ’ ১৪ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮৮১ জন মানুষ। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯০ হাজার।

প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল চীনে ৮১ হাজার ৮ জন ব্যক্তি আক্রান্ত হলেও এখন ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব কমে যাচ্ছে। যেখানে মৃত্যু হয়েছে ৩ হাজার ২শ’ ৫৫ জনের। তবে মৃতের হিসাবে চীনকেও ছাড়িয়ে গেছে ইতালি। দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি। যেখানে আক্রান্ত হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫শ’ ৭৮ জন। ভাইরাসটির সংক্রমণ শুরুর পর একদিনে ৭৯৩ জনের মৃত্যুর মাধ্যমে সর্বোচ্চ মৃত্যু রেকর্ড করেছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত হয়েছে ৪৩ হাজার ৭শ’ ৩৪ জন মানুষ। যেখানে ৫শ’ ৫৩ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। স্পেনে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৫ হাজার ১৩৬ জন। যেখানে মারা গেছে ২ হাজার ৩শ’ ১১ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছে ২৯ হাজার ৫৬। যেখানে মারা গেছেন ১২৩ জন। পাকিস্তানে আক্রান্ত হয়েছে ৭৩৪ জন।

তার মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। ভারতে আক্রান্ত হয়েছে ৩৩২। যেখানে প্রাণ হারিয়েছে ৫ জন। রোগতত্ত¡, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) এর তথ্যমতে, আমাদের দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ এ দাঁড়িয়েছে। প্রাণ হারিয়েছে ৩ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ জন।

আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ পুরুষ, এক-তৃতীয়াংশ নারী। আক্রান্ত ৩৩ জনের মধ্যে ১৫ জনই ঢাকা শহরের, মাদারীপুরে ১০ জন, নারায়ণগঞ্জের ২ জন, গাইবান্ধায় ২ জন, কুমিল্লার ১ জন, গাজীপুরের ১ জন এবং চুয়াডাঙ্গায় ১ জন। সারাদেশে হোম কোয়ারান্টাইনসহ হাসপাতাল ও অন্যান্য কোয়ারেন্টাইনে আছেন ২৪ হাজার ৭০৮ জন।

রবিবার কোয়ারেন্টাইনে ছিলেন ২৩ হাজার ৬৮৪ জন। শনিবার ছিল ১৫ হাজার ১৭২ জন। শুক্রবার ছিল ১৪ হাজার ২৬৪ জন। প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনের জন্য ২৯০টি প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে সেবা দেয়া যাবে ১৬ হাজার ৭৪১ জনকে। আইসোলেশনের জন্য ৪ হাজার ৫১৫টি শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে।

দেশে প্রতিদিনই নতুন নতুন আক্রান্তের খবর পাওয়া যাচ্ছে। বাড়ছে মৃত্যুও। একই সঙ্গে বাড়ছে মানুষের মাঝে আতঙ্ক। সংক্রমণের মাত্রা অনেক বেশি বাড়তে পারে বলে শঙ্কার কথা জানালেন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ)। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে গণপরিবহন লকডাউন করা হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ছুটি দীর্ঘ করার কথা ভাবছে সরকার। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধের কার্যক্রমে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। মঙ্গলবার থেকে সশস্ত্রবাহিনী মাঠপর্যায়ের প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছেন। এ অবস্থায় দেশের সব গণমাধ্যম, সাধারণ জনগণ, রাজনৈতিক শক্তি, প্রশাসনের সব পর্যায়ের কর্মীদের, বিশেষ করে স্বাস্থ্যকর্মীদের সাহসের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে।

আমরা নিজেরাই বুঝতে পারছি পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে। সরকার তার সামর্থ্য অনুসারে অবশ্যই আমাদের সহায্য করবে কিন্তু আমাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে সবাইকে সচেতন হতে হবে। গ্রামের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ এখনো সচেতন হয়নি। নিজে সচেতন হওয়ার মাধ্যমে অন্যদের সচেতন করতে হবে। সরকারের নির্দেশনা মেনে সতর্কতার সঙ্গে চলতে হবে। আল্লাহ অবশ্যই আমাদের সাহায্য করবেন, ইনশাআল্লাহ।

লেখক: শামীম শিকদার- সাংবাদিক ও সাহিত্যিক

মানবকণ্ঠ/এমএইচ




Loading...
ads






Loading...