কাজহীন তিন মাস নতুন মেয়রদের

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা
সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০২:১৪,  আপডেট: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১১:১৬

১ ফেব্র্রুয়ারি নির্বাচন হলো, কিন্তু ঢাকার দুই মেয়র এখনই দায়িত্ব নিতে পারছেন না। তাদের অপেক্ষা করতে হবে আরো তিন মাসেরও বেশি সময়। কারণ মেয়র নির্বাচিত হন পাঁচ বছরের জন্য। সেই বিবেচনায় দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনকে তার মেয়াদ পূর্ণ করতে দিতে হবে মে মাস পর্যন্ত। অন্যদিকে উত্তরের মেয়র পদ থেকে পদত্যাগ করে নির্বাচন করেছেন আতিকুল ইসলাম। ফলে উত্তর সিটি কর্পোরেশন কার্যত মাথাবিহীন অবস্থায় আছে।

দুজন মেয়র নির্বাচিত হয়েও জনগণের সেবায় যোগ দিতে পারছেন না। তাহলে প্রশ্ন জাগে নির্বাচন আরো পরে করলেই হতো না? সেই উত্তর নাই বা খুঁজি। নাগরিক সেবাসমূহ পেতে নগরবসীর যেন সমস্যা না হয় সেটি একটি বড় চাওয়া এই সময়টায়। বিশেষ করে অনেক এলাকায় উন্নয়ন কাজ ধীর গতিতে চলায় বড় ভোগান্তি সৃষ্টি হচ্ছে। আনুষ্ঠানিকভাবে মেয়ররা এই বিষয়গুলোতে কিছু করতে না পারলেও তারা হয়তো কিছু কাজ করতে পারেন এখনই। ‘নতুন দুই মেয়র একশ’ দিনের বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করবেন বলে আশা করছি।

 তবে এই যে মাসের বেশি সময় তারা পাচ্ছেন সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজহীন সময়টাতেই কাজের সুযোগ বেশি বলে মনে করছি।’ তারা অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের কাছ থেকে খোঁজ নিতে পারেন কোন অ লে কি ধরনের কাজ হচ্ছে, সেসবের অগ্রগতি কতটুকু। করোনাভাইরাস নিয়ে যে সতর্কতামূলক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, সেখানে তারা নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বিষয়টি জানবেন এবং বোঝার চেষ্টা করবেন। ডেঙ্গুর মৌসুম আবার সমাগত এবং এবার যেন ব্যবস্থাপনা ভালো হয়, তাই এখন থেকেই নিজেদের করণীয় নিয়ে ছক কষতে পারেন দুই মেয়র।

এই শহরের প্রধান দুটি সমস্যার একটি হলো মশার উপদ্রব, আরেকটি হলো অপরিচ্ছন্নতা। এই দুটো কাজে আর যেন কোনো হেলা করা না হয় এবং এ কাজগুলো কিভাবে করা হবে সেই কৌশল বের করার সময় এখনই, দায়িত্ব নেয়ার আগে এই চাপমুক্ত অবস্থায়।

রাজধানী ঢাকার এ মাথা থেকে ও মাথায় চলছে উন্নয়ন যজ্ঞ। এসব কাজ কবে শেষ হবে কেউ জানে না। সরকারি নানা প্রকল্পের পাশাপাশি চলছে বেসরকারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে নানা নির্মাণ। কিন্তু কোনো পক্ষই পরিবেশ সচেতন নয়। এই শহরের বায়ুতে বিষ। আর এর এক অন্যতম উৎসব নির্মাণ সামগ্রী। বায়ু দূষণের পেছনে অন্যতম কারণ যে এই নির্মাণ সামগ্রীর দূষণ, সবাই তা মানলেও কাজ হচ্ছে কম। মানুষ মনে করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন সব জেনেও চোখ বুজে আছে।

আশা করছি নব নির্বাচিত দুই মেয়র বিষয়টি অনুধাবন করে পরিকল্পনা করবেন কিভাবে পরিবেশ অধিদফতরের সাথে সমন্বয় করে এর একটা বিহিত করা যায়। সবাই বলে ৫০টিরও বেশি সরকারের কেন্দ্রীয় সেবা সংস্থার সাথে সমন্বয় করে কাজ করাটা কঠিন হয়ে যায় মেয়রের জন্য। এসবের পরেও মেয়রের অনেক কিছু করার থাকে। ওয়ার্ড পর্যায়ে মানুষের সবচেয়ে কাছের মানুষ কাউন্সিলররা। মেয়র যেহেতু এদের সবার বস, তাই তার একটি কাজ এদের সঠিকভাবে পরিচালিত করা।

অনেক এলাকাতেই মানুষ জানে না তার এলাকার কাউন্সিলর কোথায় বসেন বা থাকেন। প্রতিটি ওয়ার্ডে কাউন্সিলররা একটা দৃশ্যমান এলাকায় বসবেন যেন সবার নজরে এই অফিসটি থাকে এবং এই অফিস ও এর চারপাশ হবে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। এই অফিসকে কেন্দ্র করেই জনগণের সম্পৃক্ততায় পাড়া, মহল্লায় একটা সচেতনতা সৃষ্টি হবে মশক নিধনে, পরিচ্ছন্নতায়, নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণে। মেয়র মাঝে মাঝে যাবেন, দেখবেন ওয়ার্ড কাউন্সিলদের অফিস যেন হয়ে না ওঠে এলাকার মাস্তান ও গুণ্ডাদের আড্ডা কেন্দ্র।

দুই মেয়র এখন থেকেই ভাবতে শুরু করুন কিভাবে গণপরিসর উন্নয়ন ও এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ভালো শহর মানেই গণপরিসরকে ভালোভাবে কাজে লাগানো। এগুলোর নকশা এমনভাবে করা দরকার যেন মানুষ এগুলো স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারে। কারণ মানুষ ঘরের চেয়ে এসব গণপরিসরেই সময় কাটাতে পছন্দ করে মানুষ।

একটা ভালো শহর মানেই এলাকায় এলাকায় ভালো খেলার মাঠ, উদ্যান, লেক, ভালো রাস্তাঘাট এবং ফুটপাত। নগর উন্নয়ন মানে হলো নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা এবং মানুষের সুযোগ-সুবিধার দিকে নজর রেখে ভূমি ব্যবহার করা। এখানে বাসস্থান, পরিবহন থেকে শুরু করে অন্যান্য যে সামাজিক সুযোগ-সুবিধা আছে, সেগুলো যাতে মানুষের চাহিদা মতো তাদের কাছে দেয়া যায়, সে পরিকল্পনা আয়োজনই মেয়রদের কাজ।

নতুন দুই মেয়র একশ’ দিনের বাস্তবায়নযোগ্য কর্মসূচি নিয়ে কাজ শুরু করবেন বলে আশা করছি। তবে এই যে মাসের বেশি সময় তারা পাচ্ছেন সেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজহীন সময়টাতেই কাজের সুযোগ বেশি বলে মনে করছি।

লেখক : সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা- প্রধান সম্পাদক, জিটিভি

মানবকণ্ঠ/ এমএইচ





ads







Loading...