• বৃহস্পতিবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

ডিসিসি নির্বাচন ও সমসাময়িক ভাবনা

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ১৯ জানুয়ারি ২০২০, ০১:৪১

নির্বাচন! গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক দেশে নতুন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন সর্বোপরি বাংলাদেশের মতো গণতান্ত্রিক দেশে সরকার প্রধানও নির্বাচিত হয় নির্বাচনের মাধ্যমে। নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান সরকার গঠন করে। আসীন হয় শাসকের চেয়ারে।

নির্বাচন হলো সেই মাধ্যম যার মাধ্যমে একটি দেশের নাগরিক তার রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করে। একটি নাগরিকের তিনটি অধিকার রয়েছে সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। ভোট প্রদান ও নিজেকে নির্বাচনে প্রতিনিধি করার মধ্য দিয়ে নাগরিক সেই রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ বা ভোগ করেন।

কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া রয়েছে। ক্ষমতাসীন দলের নেতা বা কর্মীর কাছে প্রশ্ন করবেন দেশে কেমন নির্বাচন হচ্ছে বা হয়েছে? উত্তর, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়েছে। সবাই নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে গিয়ে ভোট প্রদান করছে। এই প্রশ্নটাই বিএনপির কাছে রাখবেন। উত্তর পাবেন দেশে প্রহসনের নির্বাচন হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন অথর্ব। নির্বাচনের আগের রাতেই ভোট হয়ে গেছে। অথচ তারা কিন্তু পূর্ব থেকেই বলে আসছিল ভোট কেন্দ্র পাহাড়া দেয়া হবে। গণতন্ত্রের বিজয় ছিনিয়ে আনা হবে। এবার প্রশ্ন করুন গণতন্ত্র কেমন চলছে? মুখস্থ উত্তর-দেশে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। ঠিক একই প্রশ্ন করেন বিএনপির নেতা বা কর্মীর কাছে। ঠিক একই রকম মুখস্থ উত্তর দেশে গণতন্ত্রকে কবর দেয়া হয়েছে। এই যে দেশকে একটি বিতর্কের মধ্যে ফেলে দেয়া এর জন্য কারা দায়ী?

সরকারি দলও বলছে গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন করা হবে। বিরোধীপক্ষও বলছে গণতন্ত্রের বাস্তবায়ন করা হবে। আসলে গণতন্ত্র কার? গণতন্ত্রের জন্য দায়ী কে? মনে হওয়া স্বাভাবিক যে সব দায় ক্ষমতার। ক্ষমতার কারণে এমন ভিন্ন উত্তর। যে ক্ষমতায় থাকে তার কাছে সবকিছু বৈধ আর যে ক্ষমতার বাইরে থাকে তার কাছে সবকিছু অবৈধ হয়ে যায়। সেটা এখন নয় অনেক আগে থেকেই। থাক সে কথা চোখ রাখি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের দিকে। আগামী ৩০ জানুয়ারি ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন। এই নিয়ে বিএনপির যেমন অভিযোগের শেষ নেই সে সঙ্গে নতুন একটি ইস্যু যোগ হয়েছে সনাতন সম্প্রদায়ের সরস্বতী পূজা উপলক্ষে নির্বাচন পেছানোর দাবি।

ইতোমধ্যে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ে স্মারকলিপি দিয়েছে সংখ্যালঘু বিভিন্ন সংগঠন। সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ পেছানোর জন্য হাইকোর্টে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অশোক কুমার ঘোষ। ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার তা খারিজ করে দেয়। তারিখ পরিবর্তন না করায় সেদিন থেকে শাহবাগে আন্দোলনে নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী।

প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে মর্মাহত বলে জানান, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত। সরকার সংখ্যালঘুদের ধর্মীয় অনুভ‚তিতে আঘাত হানছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন বিভিন্ন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা। আমি সেদিকে যাব না। সবকিছুতে নিজেদের সংখ্যালঘু হিসেবে দাবি করাটা আমার কাছে সঠিক অধিকার মনে হয় না। কারণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিভিন্ন সময়ে অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সংখ্যালঘু না ভাবার পরামর্শ দিয়েছেন। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ। আমরা সেই দেশের বৈধ নাগরিক। এটাই প্রথম ও শেষ কথা। সবার মতো আমাদেরও মতো প্রকাশের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকার রয়েছে এবং সংবিধান সেটা দিয়েছে। আমার কথা সরকার যদি অন্য ধর্মের জনগোষ্ঠীকে মূল্যবান না মনে করে সেখানে কিসের ধর্মীয় অনূভূতিতে আঘাতের কথা আসবে? আমি মনে করি ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন হওয়াটাই বৈধ কিন্তু সংবিধানে কেন ৪১ ধারায় ধর্মীয় স্বাধীনতা কথাটি উল্লেখ করা হলো? এই কথাটি মুছে দেয়া যায় কি না সংবিধার বিশেষজ্ঞদের খতিয়ে দেখার আবেদন জানাব।

নির্বাচন কমিশনার বলেছেন, নির্বাচন ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান দুটোই পবিত্র কাজ। কথাটা মানলাম। কিন্তু নির্বাচন নিয়ে যত অভিযোগ বা সংঘাত হয়েছে ধর্ম নিয়ে কি তেমনটা করা যায় না সুযোগ রয়েছে? ধর্মটা সম্পূর্ণ অনুভূতির ব্যাপার। ধর্মকে নির্বাচনের সঙ্গে তুলনা করাটা আমি সমীচীন মনে করছি না। আমি ধরে নিলাম সেদিন নির্বাচন হলো সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষ ভোট দিল কিন্তু এই ভোট ও পূজাকে কেন্দ্র করে বিরোধীপক্ষ কি ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে পারে না? নির্বাচনকে কি কেউ প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে না?

বর্তমানে নির্বাচন অর্থই কিন্তু উত্তেজনা। তাহলে সেই উত্তেজনায় সরস্বতী পূজাটা কি সেই মানসিকতায় করা যাবে? যেহেতু সনাতন সম্প্রদায়ও সেখানকার বৈধ্য ভোটার সেখানে তাদের প্রভাবতো পরতেই পারে বা তারাও তো ভোট চাওয়া বা দায়িত্বে থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে আমার মনে যতটা সহজভাবে নির্বাচন কমিশন মন্তব্য করছে ততটা সহজ নয়। যেহেতু আগেই বলেছিলাম নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কের কাদাছোড়া মানসিকতা রয়েছে সেহেতু আমি মনে করি নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তনটা পরিস্থিতি এড়াতে খুবই প্রয়োজন। সে সঙ্গে আমি সন্দীহান এই ভেবে যে, রাজাকারদের তালিকা প্রকাশ করে সরকারকে যেভাবে বিপদে ফেলার একটি মহাপরিকল্পনা হয়েছিল ডিসিসির নির্বাচনে এমন সাম্প্রদায়িক তারিখ এমন কোনো বিপদের পরিকল্পনা হতে পারে কি এটা ভেবে দেখা দরকার। ভেবে দেখা দরকার সরকারের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে। কারণ সরকারের ভেতরে ঘাপটি মেরে আছে এমন কিছু মহাপরিকল্পনাকারী যারা সরকারকে বিপদে ফেলতে চায়। যারা পাঁয়তারা করছে সরকারকে বিতর্কিত করতে। তাই সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে প্রয়োজন শুদ্ধি অভিযান। নির্বাচন কমিশন কি পারে না ৩০ তারিখের আগে একটি তারিখ করতে? তাতে কি অনিয়ম হতো উত্তর জানা আছে কি? যেখানে সরকার অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সেখানে ৩০ তারিখ কি কোনো ডেডলাইন যে তা বাস্তবায়ন করতেই হবে? প্রশ্ন রইল। ভেবে দেখা দরকার। কোন স্বার্থসিদ্ধি উদ্ধারে এই সিদ্ধান্ত। পূর্বেও রংপুরে নির্বাচনে এমন একটি তারিখ হয়েছে। নির্বাচন থেকে থাকেনি থাকবেও না কিন্তু এই একটি পরিকল্পনাবিহীন সিদ্ধান্ত যে কোনো ধর্মের মানুষের মধ্যে সরকারবিরোধী একটি মনোভাব তৈরি হতে পারে। অথবা বিরোধীপক্ষই এই সম্প্রদায়কে সেই মনোভাব তৈরিতে উৎসাহ দিতে পারে। তাই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিন সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন করে। সরকারকে আরো শুদ্ধি সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে কোনো বিভাগের যে কোনো কর্মকাণ্ডে।

লেখক: গোপাল অধিকারী - সাংবাদিক ও কলামিস্ট।

মানবকণ্ঠ/টিএইচডি




Loading...
ads






Loading...