দুদকের লজ্জা ও জনতার ভাবনা

ফনিন্দ্র সরকার
ফনিন্দ্র সরকার - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:২২,  আপডেট: ০৬ জানুয়ারি ২০২০, ০০:৫০

প্রত্যেকটি রাজনৈতিক নেতৃত্বের মধ্যে একটি মৌলিক ভাবনা থাকা উচিত। সে ভাবনাটি হচ্ছে, কীভাবে মানবীয় ক্রমবিকাশ সাধন করা যায়। এরকম সত্তাভাবাপন্ন একজন নেতা অসামান্য মানুষ। সে জন্য তার ভাবনায় অসামান্য কিছু অর্জনের সম্ভাবনা তৈরি হয়। যিনি এ রকম ভাবনা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন তিনি সমাজে তার মতো ভাবনার মানুষ সৃষ্টিতে মনোযোগী হবেন।

 

 

 

 

 

 

এতে অনেক কঠিন পথ অতিক্রম করতে হবে। তবে চেষ্টা অব্যাহত থাকলে এক সময় সফল হবেনই। আধুনিক চিন্তায় যাকে সমাজতত্ত্ব বলা হয়, আসলে এটা সামাজিক একটা পরিসংখ্যান মাত্র। সমাজ উন্নয়নে কেবল এই পরিসংখ্যানকে ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করলে মূল লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। সমাজ বিদ্যার মধ্যে মানুষের সামনে একটা সামাজিক লক্ষ্য স্থাপন করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সে লক্ষ্যটি হচ্ছে মানব জাতিকে অবশ্যই মানবীয় ক্রমবিকাশের দিকে এগিয়ে যাওয়া। আধুনিক কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনে নেতাকে হতে হবে চিরপ্রেমময় তবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে চিরক্রিয়াশীল।

আধুনিক জীব বিদ্যা বলছে, ক্রমবিকাশের রঙ্গমঞ্চে মানুষের আবির্ভাবের সঙ্গে সঙ্গে জৈব ক্রমবিকাশের সব প্রাসঙ্গিকতা শেষ হয়ে গেছে। মানুষের সমৃদ্ধ মস্তিষ্ক অসাধ্য সাধন করতে পারে; উচ্চতর স্তরে যে ক্রমবিকাশ প্রক্রিয়া ক্রিয়াশীল রয়েছে, তারই অনুসন্ধান করতে হবে আমাদের। স্যার জুলিয়ান হাক্সলি একে বলেছেন মনো-সামাজিক বা psycho-social ক্রমবিকাশ। আসলে মানবীয় ক্রমবিকাশের লক্ষ্য যে কী, জীববিদ্যা নিজেই এখন পর্যন্ত তা খুঁজে পায়নি।

তবে জীববিদ্যা একটি সিদ্ধান্ত করেছে যে, সে লক্ষ্যটি নিয়ন্ত্রিত হবে গুণের দ্বারা, পরিমাণের দ্বারা নয়। জীববিদ্যার এই সিদ্ধান্তের ওপর ভর করেই বাংলাদেশ এগোচ্ছে বলে মনে করতে পারি। যে অগ্রগতিটা আমরা লক্ষ্য করছি তার সুনির্দিষ্ট একটি পথরেখায় বার বার ছেদ পড়ছে। এই ছেদ পড়ার বিষয়ে সাধারণ মানুষ নানাভাবে ভাবছে বলে মনে হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একটা লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছেন কিন্তু লক্ষ্যটির অভিমুখে যে অসংখ্য কাঁটা ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তা দেখে তিনি নিজেও কখনো কখনো বিস্মিত হয়ে যান। তার সরকারের অভ্যন্তরে একটি কুচক্রী মহল মহৎ কর্মযজ্ঞকেও প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, সরকার দুর্নীতির ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্সের নীতি অনুসরণের বার্তা দিচ্ছে সব মহলে কিন্তু বিস্ময়করভাবে দুর্নীতি দমন কমিশনের গালে থাপ্পড়ও মারা হচ্ছে কখনো কখনো। এতে দুদকের লজ্জায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন ভাবনা তৈরি হচ্ছে। ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ টেলিভিশনের ব্রেকিং নিউজে দেখলাম ‘গণপূর্ত বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী জনাব আশরাফুল আলম ও তার স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ অর্জনের খোঁজে দুদক।

পরদিন পত্রিকার পাতায় দেখা গেল যে, জনাব আশরাফুল আলমকে প্রমোশন দিয়ে প্রধান প্রকৌশলী করা হয়েছে। পূর্বের প্রধান প্রকৌশলী জনাব সাহাদাৎ হোসেনের অবসর ছুটির তারিখ ৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, তার অবসরের সঙ্গে সঙ্গেই সিনিয়র অতিরিক্ত প্রকৌশলী হিসেবে জনাব আশরাফুল আলমই প্রধান প্রকৌশলী হবেন নিয়মমাফিক কিন্তু তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে সুনির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে অবৈধ সম্পদ অর্জনের। আর সে জন্যই দুদক তার সম্পদের খোঁজ করছে।

তিনি দুর্নীতি করছেন কী করেননি সেটি প্রমাণসাপেক্ষ। তবে এ অবস্থায় আশরাফুল আলমের প্রমোশন নৈতিকতার প্রশ্নে ন্যায্যতার দাবি রাখে না। পৃথিবীর যে কোনো দেশেই কোনো রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনজনক অভিযোগ থাকলে কিংবা সন্দেহ হলেও তাকে কর্ম থেকে বিরত রাখা হয়। আশরাফুল আলমের প্রমোশন সংবাদে জনগণের মাঝে দুর্নীতি বিষয়ে প্রশ্ন তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। আমি বলছি না আশরাফুল আলম দুর্নীতিবাজ।

পাঠক আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে পদ্মা সেতুতে দুর্নীতি সন্দেহে তদানীন্তন যোগাযোগমন্ত্রী জনাব আবুল হোসেনকে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে দিতে হয়েছে। পরবর্তীতে দুর্নীতির কোনো প্রমাণ মেলেনি কিন্তু জনাব আবুল হোসেন তিনি তার পদ ফিরে পাননি। তিনি এখন অনেকটাই পর্দার আড়ালে। জনাব আশরাফুল আলম নির্দোষ প্রমাণিত হবেন-এ প্রত্যাশাই করি। এখানে উল্লেখ করতে হচ্ছে যে, যেহেতু দুদকের কাছে কিছু তথ্য রয়েছে তার বিরুদ্ধে, সে হিসেবে তাকে প্রমোশন দেয়ার কোনো যৌক্তিকতা আছে বলে কেউ মনে করেন না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দিয়ে এসব কাজ কারা, কী স্বার্থে করাচ্ছেন-এ প্রশ্ন দেশবাসীর কাছে ঘুরপাক খাচ্ছে। এ রকম ঘটনায় সরকারের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও মনোভাব পাল্টে যাবে। আশরাফুল আলমের বিষয়ে এই নিবন্ধকার দুর্নীতি দমন কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, ‘এটি সরকারের ব্যাপার।’ দুর্নীতি সন্দেহে যে কর্মকর্তার সম্পদ অনুসন্ধান চলমান রয়েছে তাকে প্রমোশন দেয়াটা তো দুদকের গালে একটা জোরে চপটেঘাতের শামিল-এমন প্রশ্নের উত্তরে উক্ত কর্মকর্তা নীরব থাকেন। দুর্নীতি দমন কমিশনকে গণপূর্ত মন্ত্রণালয় একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। শক্তিশালী দুদক সত্যিকারে শক্তির পরিচয় দিতে কতটা সক্ষম হবে সেটা এখন দেখার বিষয়।

বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান জনাব ইকবাল মাহমুদ নববর্ষের প্রথম দিনে দুর্নীতি দমনে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, কর্মশালয় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন ‘স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার ক্ষেত্রে প্রধান অন্তরায় দুর্নীতি, দুর্নীতির মাত্রা যতটা কমিয়ে আনা যায়, সেটাই হবে মুজিব বর্ষের সবচেয়ে উত্তম কাজ (ইত্তেফাক) তার বক্তব্যে দুর্নীতি হচ্ছে, এমন সাক্ষ্যই বহন করে। ভয়ানক দুর্নীতি প্রতিরোধে জনাব ইকবাল মাহমুদ সব সময় সোচ্চার।

দুর্নীতি দমনে তিনি সর্বস্তরের জনগণের কাছে সহযোগিতা চেয়ে আসছেন দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে, দুর্নীতি ও অপরাধকে প্রশ্রয় দেন না সেটার প্রমাণও তিনি দিয়ে আসছেন। নিজ দলের লোকও যদি অপরাধ করেন তা হলেও ছাড় দেবেন না এমন ঘোষণা বারবার উচ্চারণ করছেন কিন্তু খটকা অন্য জায়গায়। তিনি যাদের বিশ্বাস করেন তারা বিশ্বাস ভঙ্গ করেই যাচ্ছেন। জাতির পিতার সঙ্গে যেমন বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন কেউ কেউ ঠিক তেমনি অসংখ্য বিশ্বাসঘাতক চক্র সক্রিয় রয়েছে বর্তমানে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুঃখের সঙ্গে একবার বলেছিলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের টাকাটা কীভাবে তসরুফ করা যায় সে রকম ধান্ধাবাজের সংখ্যাও কম নয়। তিনি এও বলেছিলেন যে, দুর্নীতিবাজ কারা সেটা প্রমাণের জন্য দালিলিক কিছুর প্রয়োজন পড়ে না। তার আয়ের সঙ্গে জীবন-যাত্রার কতটুকু সামঞ্জস্য রয়েছে সেটা খেয়াল করলেই বোঝা যায় তিনি দুর্নীতিবাজ কিনা। একজন সরকারের সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং কোনো অধিদফতরের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা কত টাকা মায়না পান আর কীভাবে তা ব্যয় করেন তার চাল-চলন আচার-ব্যবহারই প্রমাণ করে দেবে তিনি কতটা সৎ।

দুর্নীতিবাজদের একটা আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকবেই। এটা প্রকৃতিরই নিয়ম। আমরা পত্র-পত্রিকায় প্রায়ই দেখি বিভিন্ন সংস্থার ছোটখাটো কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির খবর। তৃতীয়, চতুর্থ শ্রেণির রাজকর্মচারীর ঘুষ-দুর্নীতির খবর যতটা প্রচারে আসে বড় কর্মকর্তাদের খবর ততটা প্রচারে আসে না এটা একটা রহস্যজনক ঘটনাই বলতে হবে। রাজনীতিকদের দুর্নীতির খবরও ব্যাপক প্রচার পায়। দুর্নীতির কারণে সভ্যতাসমূহের অবক্ষয় প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

যখন দেখা দেয় রাষ্ট্রের এক শ্রেণির নাগরিক ও রাজ কর্মচারীদের মধ্যে অত্যাধিক কাম অর্থাৎ কামনার উদ্ভব ঘটে; ‘কাম, যখন একটি স্তরের ওপরে চলে যায় তখন সমাজে নানা দোষ দেখা দেয়। তখন বিজ্ঞান ও বিবেকের অধঃগতি শুরু হয়। সভ্যতার এ আধুনিকতায় প্রায় সব সমাজেই একটা সময় এমন অবস্থা তৈরি হয়। অতিরিক্ত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ও আরামের উন্মুক্ত নেশা রাষ্ট্র ও সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। দৃশ্যমান যে উন্নয়ন হচ্ছে এসব তখন অর্থহীন হয়ে যাবে। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মৌলিক বিষয়টি হচ্ছে ‘জীবন সংগ্রাম। জীবন সংগ্রামে যে সুখ নিহিত রয়েছে তা উপলব্ধি করতে হবে প্রেম-ভালবাসা দিয়ে। অবৈধভাবে হঠাৎ বিশাল সম্পদ অর্জনে সাময়িক তৃপ্তি আছে। এ তৃপ্তির অপর প্রান্তে রয়েছে বিষাদ। দুর্নীতিবাজদের জীবন এক সময় হয়ে উঠবে বিষণ্ণপূর্ণ।

আমাদের বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রে কী প্রয়োজন, জনসাধারণের সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের ক্ষেত্রে কী কী সুবিধাদি দরকার তা সরকারপ্রধান গভীরভাবে উপলব্ধি করে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। সে অভিলাষ নিয়ে নতুন প্রজন্ম নতুন উদ্দীপনায় এগিয়ে যাবে কিন্তু নতুন প্রজন্ম যদি দুদকের লজ্জা নিয়ে ভাবতে শুরু করে তবে লক্ষ্যপূরণ সম্ভব হবে না।

বাংলাদেশ উন্নয়নে দ্রূতগতিতে এগিয়ে যাচ্ছে এটা ঠিক, পাশাপাশি অর্থনৈতিক সীমাহীন বৈষম্যও উচ্চতর পর্যায়ে ধাবিত হচ্ছে এটাও লক্ষ্য করতে হবে। ফলে মানুষের মধ্যে দুঃখবোধও তীব্রতর হচ্ছে যা রাষ্ট্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। সরকারে একজন সচিব বা তৎমর্যাদাসম্পন্ন একজন কর্মকর্তা রাষ্ট্র থেকে কী সুবিধা নিচ্ছেন এবং বিনিময়ে রাষ্ট্রকে কী দিচ্ছেন সেটার একটা হিসাব থাকা উচিত। সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিদেরই এ হিসাবটা রাখতে হবে।

স্নায়ুবিজ্ঞানের ভাষায় মানুষের ন্যূনতম দুঃখবোধ মাত্রায় মানুষে মানুষে তফাৎ হয়। কোনো কোনো লোক অনেক দুঃখ সহ্য করতে পারে আবার কেউ কেউ সামান্য দুঃখেই কাতর হয়ে পড়ে। সামাজিকভাবে অর্থনৈতিক বৈষম্যের চিত্র দেখে দুঃখবোধ জমা হচ্ছে, এই দুঃখবোধগুলো যখন বিস্ফোরিত হবে তখন গোটা রাষ্ট্রযন্ত্রই অকেজো হয়ে পড়বে।

অতএব সময় থাকতে ব্যবস্থা নিতে হবে। পৃথিবীতে দু-রকম লোক আছে। এক হচ্ছে মূর্খ, অদূরদর্শীরা ইন্দ্রিয়সর্বস্ব; আর এক হচ্ছে জ্ঞান ও সূহ্ম দৃষ্টিসম্পন্ন। দূরদর্শী বা সূহ্ম জ্ঞানসম্পন্ন লোক যে সত্য উপলব্ধি করতে পারেন মূর্খ লোকের পক্ষে তা সম্ভব নয়। মূর্খের ভেতর অবৈজ্ঞানিক শয়তানি কল্পনার সৃষ্টি হয়। এই শয়তানি কল্পনা থেকে রাষ্ট্রে, সমাজে অস্থিরতা তৈরি হয়। তখনই বিপর্যয় নেমে আসে। অতএব সাবধান!

দুর্নীতি দমন কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান একজন সূহ্ম জ্ঞানসম্পন্ন মানুষ। তিনি আসল সত্য উপলব্ধি করার ক্ষমতা রাখেন। কোনো পদ-পদবির দিকে বিচার না করে দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠিনতম পদক্ষেপ গ্রহণে সাহসী। এ সাহসী হতে পেরেছেন সরকারের নীতির কারণেই। দুদক এখন আর দন্তহীন বাঘ নয় কিন্তু তার দাঁতে যদি আঘাত আসে তবে দাঁত একসময় ভেঙে যাবে। গণপূর্তে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে অভিযুক্তকে পদোন্নতি দেয়াটা দুদকের দাঁতে আঘাতের শামিল। এ আঘাতের খবর সরকারপ্রধানের জানা আছে বলে দেশবাসী মনে করেন না। কেননা বর্তমান সরকারপ্রধানের নীতি-নিষ্ঠতা দেশ-বিদেশ সব মহলে প্রশংসিত হয়েছে।

লেখক: ফনিন্দ্র সরকার - আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

মানবকণ্ঠ/টিএইচডি





ads







Loading...