সৌদি আরবে বাংলাদেশি শ্রমিকদের মৃত্যু ও করণীয়

রুমী সাঈদ

মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১০:৪২

সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকরা নানা কারণে মৃত্যুবরণ করে থাকেন। মৃত্যুর কারণগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হল সড়ক দুর্ঘটনা, ব্রেন স্ট্রোক ও হার্ট অ্যাটাক। অনেক সময় বাংলাদেশি শ্রমিক নিজেই গাড়ি চালানোর সময় দুর্ঘটনায় পতিত হন। সে দুর্ঘটনা গাড়ির যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও হয়। আবার চালকের অসতর্কতার কারণেও হতে পারে। অবশ্য সৌদি আরবে ট্রাফিক আইন অত্যন্ত কঠোর ও তা বাস্তবায়ন থাকায় সব চালকই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালনা করেন।

এছাড়াও একটি বিশেষ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেতে হয় ফলে অদক্ষ চালকরা লাইসেন্স পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে না বললেই চলে। প্রত্যক চালককেই নির্ধারিত ড্রাইভিং স্কুলে নির্দিষ্ট সময় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হয়। এখানে চালককে ট্রাফিক পুলিশের কাছে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। সৌদি আরবে দীর্ঘদিন কর্মরত চিকিৎসক ডা. মো. সালামত আলীর মতে, ব্রেন ও হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম কারণ হলো মানষিক চাপ, খাদ্যাভাস, হাইপো, ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতা। চাকরিগত সমস্যা ও পারিবারিক অশান্তির কারণেই প্রবাসীরা বেশিরভাগ মানসিক চাপে থাকেন। পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশ বিভুইয়ে একাকিত্বময় জীবনযাপনও চাপের অন্যতম কারণ।

ইতিপূর্বে সৌদি আরবে কেউ মৃত্যুবরণ করলে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নিতে একটা দীর্ঘ ও কঠিন প্রক্রিয়া অবলম্বন করতে হতো। তাছাড়াও মরদেহ দেশে নিতে বিমান ভাড়া নিয়েও সমস্যা হত। বর্তমানে আর সে অবস্থা বিদ্যমান নেই। সংশ্লিষ্টদের জেনে রাখা ভালো যে, পৃথিবীর যে কোনো প্রান্তে কোনো প্রবাসী বাংলাদেশি মৃত্যুবরণ করলে যদি তার পরিবার স্বজনের মরদেহ দেশে আনতে চায় তা হলে ওয়েজ অর্নাস কল্যাণ বোর্ড মরদেহ দেশে আনতে প্রয়োজনীয় খরচ বহন করে থাকে। এছাড়াও মরদেহ দেশে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নগদ অর্থ সহায়তা প্রদানসহ মৃতের পরিবারকে এককালীন অর্থ সহায়তা দেয়া হয়।

এখানে মরদেহ দেশে আনতে প্রধানতম সমস্যা হলো মৃত ব্যক্তির পক্ষে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সৌদি আরবের সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে সংগ্রহ করা। এ ক্ষেত্রে যেসব কাগজপত্র দরকার হয় সেগুলো হল, নিয়োগ কর্তা বা স্পনসর কর্তৃক ওই শ্রমিকের কোনো পাওনাদি থাকলে তা পরিশোধের নিষ্পত্তিপত্র, হাসপাতাল কর্তৃক মৃত্যু সনদ, সংশ্লিষ্ট পুলিশ স্টেশন কর্তৃক প্রদত্ত পুলিশ ক্লিয়ারেন্স ও মৃত ব্যক্তির দেশে অবস্থানরত ওয়ারিশদের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে নেয়ার আবেদন।

তবে যদি কারো পরিবার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করতে চান তবে সৌদি আরবে দাফনের জন্য সম্মতিপত্র পাঠাতে হয়। এ ছাড়াও মৃত ব্যক্তির পক্ষে সৌদি আরবের বিভিন্ন দফতরে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য একজন প্রতিনিধি নিয়োগ করতে হয়। সৌদি আরবে কোনো বাংলাদেশি শ্রমিক মৃত্যু বরণ করলে মৃতের স্বজনদের বিচলিত না হয়ে যেখানে ওই ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেছেন সে এলাকার নিকটস্থ কনস্যুলেট বা দূতাবাসে যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের সহায়তায় সহজ প্রক্রিয়ায় মরদেহ দেশে নেয়ার পরামর্শ রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ব্যাপারে চব্বিশ ঘণ্টাই কাজ করেন দূতাবাস ও কনস্যুলেট।

লেখক - রুমী সাঈদ : সৌদি আরব প্রবাসী একজন গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব।




Loading...
ads





Loading...