জরিপে আমাদের শিক্ষা, শিক্ষকসহ শিক্ষাব্যবস্থার দুর্দশাই ইঙ্গিত করছে

রিন্টু আনোয়ার
রিন্টু আনোয়ার - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • ১২ নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৫৯,  আপডেট: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৬:৫০

দেশের বেশিরভাগ শিক্ষাঙ্গন ক্রমেই এক নোংরা বদ্ধ জলাশয়ে রূপ নিতে বসেছে। এতে ডুব-সাঁতারে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষাগুরুরাও এর কাদাপানিতে একাকার। জাহাঙ্গীরনগরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান পরিস্থিতিকে খণ্ডচিত্র বলা যাচ্ছে না। সারাদেশে চিত্র প্রায় অভিন্ন। এর মাঝে রাজশাহীতে ঘটল কিঞ্চিৎ ভিন্ন ঘটনা।

কথামতো কাজ না করায় রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. ফরিদ উদ্দিন আহম্মেদকে ক্যাম্পাসের পুকুরে ঢিলের মতো ছুড়ে ফেলেছে ছাত্রলীগ নামের ছাত্ররা। নিয়মমতো ক্লাসে উপস্থিত না থাকা এবং মধ্য পর্ব পরীক্ষায় অংশ না নেয়ায় দু’জন শিক্ষার্থীকে সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ না দেয়ায় তাকে এমন শিক্ষা দিয়েছে তারা। তবে সাঁতার জানা থাকায় কোনো মতে কিনারায় উঠে আসতে সক্ষম হয়েছেন অধ্যক্ষ। ব্যক্তিগতভাবে তার জান বাঁচলেও শিক্ষা, শিক্ষক, শিক্ষার্থীর মর্যাদা কি বাঁচল? মোটা দাগের প্রশ্ন হয়েই থাকল।

এ অবস্থায় প্রমাণ চাইলে দেয়া কঠিন। হয় প্রসঙ্গ পাল্টাতে হবে, নয় তওবা করা ছাড়া পথ একটাইÑনির্ঘাত নিপীড়নে পড়া। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলামের বাসভবনের সামনের যে দৃশ্য দেখা গেছে সেটার প্রমাণ দেয়াও কঠিন। ভিডিও ফুটেছে দেখা যাচ্ছে, তার নিরাপত্তায় পুলিশ পাহারা বসানো হয়েছে।

ভেতরে তিনি অবস্থান করছেন। আন্দোলনকারীদের পিটিয়ে হটিয়েছে ছাত্রলীগ। ভিসির ভাষায়, এটা গণঅভ্যুত্থান। গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্য কি এমন হয় কখনো? আগের দিন তার বাসভবনের সামনে থেকে অবরোধকারীদের পিটিয়ে সরানো হলে তিনি বাইরে এসে ঘোষণা দিয়েছিলেন যে গণ-অভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। অনৈতিক আন্দোলনকারীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে। তাহলে গণঅভ্যুত্থান কে করল? কারা করল? গণঅভ্যুত্থানকারীরা কোথায় চলে গেল ভিসিকে ফেলে? তারপরও হুমকি।

ভিসিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের প্রমাণ দিতে না পারলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কড়া হুঁশিয়ারি। এ হুমকি মাথায় নিয়ে অভিযোগ প্রমাণের সাধ্য ক’জনের হবে? কে যাবে এ বিপদে? জাহাঙ্গীরনগরের ভিসি বলছেন, তিনি ছাত্রলীগকে ডেকে এনেছেন। দর্শকরা টিভিতে দেখেছে তারা অস্ত্রসহ শিক্ষক ছাত্রীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ছে।

তাহলে অর্থ কী দাঁড়াল? এখানে প্রমাণের কী আছে? আবার প্রমাণের বাকিই বা কী থাকছে? এরপরও প্রচ্ছন্ন হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বলছেন তারা উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের ব্যাপারে তাদের সংগ্রহ করা তথ্য-উপাত্ত সংকলন করেছেন। তারপরও ভিসিকে স্বপদে বহাল রেখে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ তদন্ত করে সঠিক অভিযোগ প্রমাণ করা কি সম্ভব?

‘এখানে হামলার ঘটনা হয়নি। সুশৃঙ্খলভাবে অবরোধকারীদের সরিয়ে দেয়া হয়েছে’ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ফারজানা ইসলাম অবরোধ থেকে উদ্ধারের পর ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দেয়া তার এই বক্তব্য কী প্রমাণ করে? যদিও খবরে প্রকাশ, হামলার ঘটনায় সেখানে ১৫/২০ জন আহত হয়েছে। তাহলে শিক্ষকদের এখন বাঁচা-মরা বা মানইজ্জত রক্ষা বা বিনষ্ট সব কিছুই নির্ভর করছে ছাত্রলীগের কোন কোন অংশের উপরে।

জাবির ভিসিকে উদ্ধার করতে কোনো পুলিশ প্রশাসন আসেনি। এসেছে ছাত্রলীগের সদস্যরা। তারা ভিসিকে উদ্ধারে ত্রাতার ভ‚মিকা পালন করেছে। গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্বদ্যালয়েও একই ঘটনা ঘটেছিল। ভিসি আক্তারুজ্জামানকে প্রশাসনিক ভবন থেকে উদ্ধারের জন্য ছুটে এসেছিল সোহাগ-জাকিরের নেতৃত্বাধীন ছাত্রলীগের সদস্যরা।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে, তাদেরকে সরিয়ে দিয়ে ভিসি সহাস্যে সেদিন বেরিয়ে এসেছিলেন। এ প্রক্রিয়ায় অতিসম্প্রতি যোগ হলো রাজশাহী পলিটেকনিকের অধ্যক্ষ ফরিদউদ্দিনকে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের পুকুরে ফেলে দেয়া। আর বুয়েটের আবরার হত্যকাণ্ডের ঘটনা তো সবারই জানা।

ছাত্রলীগের এক নেত্রীর ইডেন কলেজের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হোস্টেলে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীর কাছে ভাড়া দেয়া নিয়ে গণ্ডগোলেরই বা প্রমাণ দেবে কে? তার সংগঠনেরই অন্যরা জেনে গেলে ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধ লাগে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি কুপিয়ে একজনকে আহত করেন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। কেউ প্রমাণ চাইলে কী অবস্থা হবে? প্রমাণ হিসেবে কয়েকটি পত্রিকার কাটিং ছাড়া আর কিছু দেয়া যাবে না।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও তার পরিবার অনিয়মের দুর্নীতির প্রমাণই বা কি? মানুষ ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রাব্বানীর ফাঁস হওয়া ফোন শুনেছে। হিসাবে দুজনেই ফৌজদারি অপরাধ করেছেন। সরকার রাব্বানীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয়নি। নিয়েছে সাংগঠনিক ব্যবস্থা। জাহাঙ্গীরনগরসহ বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের ভিসি বা অধ্যক্ষ গ্রুপ নামে একটি সংস্কৃতি চলছে গত কয়েক বছর ধরে। ভিসি-অধ্যক্ষের মতো বড় স্যারেরা এদের ভাড়ায় খাটান। আবার ভাগে না মিললে কখনো কখনো ফণা তুলে গুরুদেরই শাসন করে তারা।

দেশে শিক্ষা বাজেট এখন ক্ষেত্র বিশেষে অফুরান। উচ্চশিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ আগের চেয়ে ঢের বেড়েছে। কিন্তু বাজেট বরাদ্দ বাড়িয়ে শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত হচ্ছে না। কিন্তু স্বায়ত্তশাসনের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য প্রতিষ্ঠানে যথেচ্ছা সময় দিচ্ছেন। প্রচুর কামাই রোজগারও করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার হাল বড় করুণ।

কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান নির্বাহী হিসেবে ভিসি শিক্ষা, গবেষণা ও স¤প্রসারণ কার্যক্রমকে গতিশীল করতে চাইলে কঠিন কোনো বাধা নেই। তাহলে করছেন না কেন? বা তিনি কী করেন? কেন ওয়ার্ল্ড র‌্যাংকিং-এ বিশ্বের এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জায়গা হচ্ছে না? বিগত দু’দশকে দেশে উচ্চ শিক্ষার জন্য অনেক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে। আবার বেসরকারি খাতেও বহু বিশ্ববিদ্যালয় সৃষ্টি হয়েছে। বেশিরভাগ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত ভিসিদের নাম আসছে তাদের পদমর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ নানা কার্যকলাপে। যাদের হাত ধরে গবেষণা দূরে থাক, শিক্ষা নিশ্চিত করাও কঠিন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অস্থিরতা এখন নিত্য খবর। ভিসি অপসারণের দাবিতে মিছিল, মানববন্ধন, পরীক্ষা বর্জন, রাস্তা অবরোধ ইত্যাদি। এর কারণ হিসেবে সামনে আসছে কর্তৃপক্ষের দুর্নীতি, নিয়োগ বাণিজ্য, টেন্ডারবাজিসহ নানা দুঃখজনক তথ্য। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের তোড়ে অন্তত পাঁচটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চলছে অচলায়তন।

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নেই এক মাসের ওপর। ছাত্র-শিক্ষকদের তোলপাড় করা আন্দোলনে অনিয়ম, দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ মাথায় নিয়ে রাতের আঁধারে ক্যাম্পাস ছেড়ে পালান সেখানকার ভিসি ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিন। টানা পাঁচ মাস শূন্যতার পর ভিসি পেল বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়টিতে প্রোভিসি-ট্রেজারারও নেই। নেই রেজিস্ট্রারও।

দেশের আরেক প্রাচীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ও ভিসিহীন ছিল প্রায় পাঁচমাস। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও নিয়মিত ভিসি ছিল না প্রায় দু’বছর। মাত্র রবিবার নিয়মিত ভিসি হিসেবে নিয়োগ পেলেন ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান। তিনি এতদিন ছিলেন অস্থায়ী ভিসি হিসেবে।

এর বাইরে দেশের ২৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রো-ভিসি নেই। ট্রেজারার নেই ২৮টিতে। দুটি হলের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষের পর অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-কুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েরও বিধ্বস্ত অবস্থা। ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে বুয়েটেও স্থবিরতা।

ভালো শিক্ষক ছাড়া ভালো ছাত্র তৈরি হয় না যেমন সত্য তেমনি ছাত্রের মান কখনো শিক্ষকের মানের চেয়ে বড় হতে পারে না। এক সময় মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়ার প্রতিযোগিতা ছিল। প্রতিযোগিতাটা এখনো আছে। তবে ধরন পাল্টে গেছে। সরকারি পর্যায়ের বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন বেতনসহ সুযোগ-সুবিধা অনেক বেড়েছে।

চাকরিতে অবসরের বয়সও (৬৫) বেড়েছে। রয়েছে ডেপুটেশনের ব্যবস্থাও। স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতার ভোগান্তির পেতে হয় না শিক্ষকদের। তারপরও শিক্ষার মান নিয়ে বার বার ওঠা প্রশ্নের কোনো জবাব মিলছে না। আসছে না কোনো নিষ্পত্তিও। এর কারণটাও সবার কম-বেশি জানা। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোনো ইস্যু নিয়ে যদি প্রতিদিনই আন্দোলন চলতে থাকে তাহলে পড়াশোনা হয় কখন এবং কি পরিবেশ বিরাজ করছে এই সকল উচ্চশিক্ষায়তনগুলোতে?

বিশ্বের এক হাজার বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় বুয়েট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যৌথভাবে অবস্থান করছে ৮০১তম স্থানে। ডেটা ও গবেষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতি বছরের মতো এবারও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং প্রকাশ করেছে ‘কিউএস’। এটি যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠান। এশিয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১২৭তম।

এর আগে যুক্তরাজ্যভিত্তিক আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘টাইমস হায়ার এডুকেশন’ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর একটি জরিপ প্রকাশ করে। ওই জরিপে ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো অবস্থান ছিল না। এসব জরিপ আমাদের শিক্ষা, শিক্ষকসহ শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের দুর্দশাই ইঙ্গিত করছে।

শিক্ষা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মানের এই র‌্যাংকিংয়ের ধারণায় কারো কারো বিশ্বাস কম থাকলেও স্বীকার করতে হয়, শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন, বাংলাদেশে প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান কমেছে। কেন কমেছে কিংবা এ জন্য কী করা উচিত, এটা নিয়ে অনেকেই লিখেছেন। বিভিন্ন সভা- সেমিনারে বলছেন।

তাতে একটা কথা উঠে এসেছে আর তা হচ্ছে, গবেষণায় অর্থ বরাদ্দের পরিমাণ কম। এর পেছনে সত্যতা যেমনি আছে, তেমনি আবার এটাও সত্য, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষকরাও পাঠদানে কিংবা গবেষণার ব্যাপারে সিরিয়াস ‘কমিটেড’ নন। গবেষণা বা গবেষণাধর্মী পুস্তক প্রকাশের চেয়ে তারা এখন ‘দ্বিতীয় আরেকটি চাকরি’ কিংবা গবেষণার পরিবর্তে টিভিতে সময় কাটাতেই বেশি সময় দেন।
- লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads





Loading...