প্রাণবন্ত প্রধানমন্ত্রী: নেই ভয় নেই সংশয়, শুধু শুদ্ধির প্রত্যয়

শহীদুল হক খান
শহীদুল হক খান - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:০৩,  আপডেট: ০৬ নভেম্বর ২০১৯, ১০:০৭

একটি গানের কলি দিয়ে শুরু করি- এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি, সকল দেশের রানী সে যে আমার জন্মভূমি। এই গানের কথার সাথে শব্দ মিলিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে- এমন প্রধানমন্ত্রী কোথাও তুমি খুঁজে পাবে না, সে যে আমাদের প্রাণের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সবাই বলে জাতির জনকের কন্যা। আমার বলতে ইচ্ছে করছে তিনি জাতির জনকের মাতা।

তিনি তার মাতৃস্নেহ, বোনের আদর, নেতৃত্বের শাসন দিয়ে প্রমাণ করেছেন তিনি দেশের যোগ্য প্রধানমন্ত্রী। তিনি যেমন জনগণকে ভালোবাসতে জানেন তেমনি জনগণের প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারেন। জনগণ যখন সত্যিকারের সৎ জনগণ হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলে তখন তিনি শুধু কঠিন নন, কতটা কঠিন হতে পারেন তা জনগণ দেখেছে। দেখছে এবং আগামীতেও দেখবে।

আমি আজ সেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা বলব। যিনি যখন কোনো সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হন তখন দেখা যায় শত শত সাংবাদিকের সামনে ব্যাট হাতে ছক্কা হাঁকাচ্ছেন। জবাবে কোথাও কোনো জড়তা নেই। বিবিধ প্রশ্নের সম্মুখে তিনি যেন একাই এক লাখ। এতটা প্রাণবন্ত অবস্থায় তাকে ছাড়া কোনো প্রধানমন্ত্রী, কোনো রাষ্ট্রপতিকে এর আগে দেখেছি বলে মনে হয় না। তিনি হাসতে পারেন, তিনি হাসাতে পারেন।

তিনি কটাক্ষ গ্রহণ করতে পারেন আবার কটাক্ষ ছুড়ে দিতে পারেন। নিজের অবস্থান থেকে নিজেকে, নিজের প্রশাসনকে, নিজের দলকে, নিজের পক্ষের কোনো কিছুকেই লুকিয়ে রাখতে চান না। তিনি মনে করেন সাংবাদিক কিংবা দেশবাসীর সকল কিছু জানার অধিকার রয়েছে। কোনো বিষয় তিনি এড়িয়ে যান না। বরং তিনি নিজে যেচে বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে আনেন এবং তার জবাব দেন। ক্যাসিনো থেকে পেঁয়াজের দাম, সাকিব আল হাসান থেকে রাশেদ খান মেনন- সব কিছু নিয়েই তিনি খোলামেলা কথা বলেন।

তিনি বলেন- কেউ যদি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাহলে তার নির্বাচিত হওয়াটাও তো প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায়। বিএনপি প্রসঙ্গে বলেন- বিএনপি একটা দুর্নীতির খনি। এই খনিও খুঁড়ে দেখা হবে। খনির ভেতরে কি পাওয়া যাবে কি রাখা যাবে কি ফেলে দেওয়া হবে তা সময় বলে দেবে। এক পত্রিকার সম্পাদকের বিরুদ্ধে একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যানকে ফোন করে টাকা চাওয়ার হুমকি প্রসঙ্গে বলেন- সবার সব তথ্য আমার কাছে আছে। আমি একবার যখন শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছি এর শেষ দেখে ছাড়ব। যারা অন্যায় করে, যারা অপরাধী তারা শাস্তি পাবে।

প্রধানমন্ত্রী হাসতে হাসতে যে কথা বলেন সবাই হাসতে হাসতে সে কথা শোনেন। কিন্তু সেই হাসির ভেতরে কি কঠোর বার্তা লুকিয়ে থাকে তা শুধু প্রধানমন্ত্রীই জানেন। শুদ্ধি অভিযান আইওয়াশ কিনা সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন- অভিযানে আপন পর কিছু দেখা হয়নি। অপরাধ জগতের সাথে যারা জড়িত তাদেরই ধরা হচ্ছে। সাংবাদিক প্রশ্ন করেছিলেন- একটি রাজনৈতিক দল বলছে আওয়ামী লীগকে একা করা হবে। প্রধানমন্ত্রীকে ভয় দেখানো হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী ভীত কি না? এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন- ছোটবেলা থেকে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম। আমার বাবাকে দেখেছি কিভাবে তিনি সাহসের সঙ্গে রাজনীতি করে এই বাংলাদেশ স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। কাজেই ভয় শব্দটা আমার ডিকশনারিতে নেই। ছোট থেকেই নেই। আর ভয় পাওয়ারও কোনো কারণ নেই। ভয় পেলে এই অভিযানে আমি নামতাম না।

ক্যাসিনো প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন- বাংলাদেশে যেখানে এক হাজারের বেশি সংবাদপত্র প্রকাশিত হয়, বত্রিশটির বেশি বেসরকারি টেলিভিশন চলছে বাংলাদেশে, এভাবে ক্যাসিনো বসিয়ে জুয়ার আসর চলার খবর কেন কেউ আগে প্রকাশ করল না। সাংবাদিকদের সামনে প্রশ্ন রাখেন- আপনারা এত খবর রাখেন এ রকম আধুনিক আধুনিক সমস্ত যন্ত্রপাতি এসে গেল, এত কিছু হলো আপনারা খবর রাখলেন না? কেউ আমাকে খবরটা দিলেন না!

নুসরাত জাহান রাফির হত্যার বিস্তারিত তথ্য বের করে আনায় সাংবাদিকদের তিনি ধন্যবাদ দেন। তিনি বলেন- মৃত্যুর আগে নুসরাত যদি নিজের জবানবন্দি এত সুন্দর করে না দিত তাহলে এত দ্রুত বিচার করা সম্ভব হতো না। প্রধানমন্ত্রী শুধু মাত্র সরকার, দেশ ও প্রশাসন চালাচ্ছেন না। একই সঙ্গে তিনি সকল খবরাখবর রাখছেন। তার অজ্ঞাতসারে দেশের কোথাও কোনো ঘটনা ঘটছে কিংবা তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে থাকবেন এমনটি ভাবার কোনো কারণ নেই।

ভবনের, দফতরের কিংবা কল-কারখানার নিরাপত্তার জন্য যেমন সিসি ক্যামেরা বসানো হয়, তেমনি সারা বাংলাদেশে নিরাপত্তার জন্য একটি সিসি ক্যামেরা বসানো আছে। গণভবনে বসানো সেই সিসি ক্যামেরাটির নাম শেখ হাসিনা। এই ক্যামেরায় ধারণকৃত কোনো দৃশ্য ইরেজ হয় না, পাল্টানো যায় না। অনেকে বলতে চেয়েছেন শুদ্ধি অভিযান প্রধানমন্ত্রী শুরু করেছেন, কঠিনভাবে এবং নিজের ঘর থেকে।

তাহলে এত দেরিতে কেন? আমার ক্ষুদ্র বুদ্ধিতে অনেককে জবাব দিয়েছি- জ্বাল দেয়া দুধ দধির পাতিলে পাতলেই দই হয় না। দই হওয়ার জন্য কিছুটা সময় দিতে হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুধু যে যুবলীগ দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন এটা ভাবার কোনো কারণ নেই, তিনি সবেমাত্র আদর্শ লিপি হাতে নিয়ে বসেছেন। অ, আ শেষ করে নিশ্চয়ই তিনি চন্দ্রবিন্দু পর্যন্ত পৌঁছবেন। এখন দেখা যাচ্ছে সম্রাট, আরমান, জি কে শামীম, খালেদ, আনিস, এনু, রুপন, লোকমান, ফিরোজ, ডিআইজি রশিদ, কাউন্সিলর হাবিব, সাঈদ, রাজিবসহ প্রথম তালিকায় পঞ্চাশ জন। দ্বিতীয় তালিকায় আছেন পাঁচ এমপিসহ একুশ জন।

অনুসন্ধানে একুশ জনের বিরুদ্ধে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ চলছে। পাশাপাশি দুদক, রাজউক, গণপূর্ত, মাদক নিয়ন্ত্রণ সবাই মাঠে নেমেছে। পুলিশ আর র‌্যাব তো ইতিহাস সৃষ্টি করে চলেছে। প্রতিদিন গ্রেফতার হচ্ছে নতুন নুতন অপরাধী। ক্রোক হচ্ছে অবৈধ সম্পদ। বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কর্মকর্তা থেকে অপরাধী, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, অর্থখেকোর তালিকা বাড়ছে। জেল হাজত ভরাট হচ্ছে। অপরাধীদের অপরাধ কিন্তু কমছে না।

প্রতিদিন খবরের কাগজ খুললেই দেখা যায় অপরাধ আর অপরাধের খবর যেন পত্রিকার পাতা ছাড়ছেই না। যুবলীগের আনিস এবং তার স্ত্রী সুমি রহমানের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে আনিসুর রহমান বিরুদ্ধে ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেছে। ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে নিজ নামে ও বেনামে অর্জিত ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকার স্থাবর সম্পদ এবং ১ কোটি ৭২ লাখ ৩৬ হাজার ৮২১ টাকার অস্থাবর সম্পদ।

এর মধ্যে ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে মাল্টি প্ল্যান সেন্টারে লেভেল ১ ফ্ল্যাট জমির মূল্য ২৮ লাখ ৭০ হাজার। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার রসুলপুরে ২৪.৫০ শতাংশ জমি যার মূল্য ১ লাখ ৩৮ হাজার ছয়শ’ টাকা। ঢাকার আর কে মিশন রোডে আমিন ভবনের ৫ম তলায় ১৩শ’ বর্গফুটের ফ্ল্যাটসহ কার পার্কিং-এর মূল্য ৩২ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ঢাকার শামিবাগ রোডে ৮২০ বর্গফুটের ফ্ল্যাটের মূল্য ১৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা। ধানমণ্ডি রোড নং-৭, এ একটি ফ্ল্যাট। ঢাকার শুক্রাবাদের শেরে বাংলা নগর ৭৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট। ধানমণ্ডি ১৫ নং রোডের ১টি ফ্ল্যাটসহ সর্বমোট ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬০০ টাকার স্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

গাজীপুরে কমিউনিটি পুলিশিং ডে উপলক্ষে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজ্জাম্মেল হক এমপি বলেন- যারা দুর্নীতি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের কাউকে ক্ষমা করবেন না। এমনকি ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের যারা অপকর্মের সঙ্গে জড়িত তিনি তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করছেন না। এটা যেমন নিজের দলের প্রতি মেসেজ তেমনি অন্যদের জন্যও কঠিন মেসেজ।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন- জননেত্রী শেখ হাসিনার দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়ে গেছে। দলের ও বাইরের দুর্নীতিবাজরা সাবধান। এই অভিযান থেকে দুর্নীতিবাজ কেউ রক্ষা পাবে না। সেতুমন্ত্রী বলেন- জননেত্রী শেখ হাসিনার সৎ সাহস আছে বিধায় নিজ ঘর থেকে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু হয়েছে এবং একে একে সব রাঘব বোয়ালদের ধরা শুরু হবে। এই শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত থাকবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এক কঠিন পরীক্ষায় নেমেছেন। সবাই মনে করছেন সব সময় যেমন অভিযান শুরু হয় মাঝখানে থেমে যায়। সাগর-রুনি হত্যা মামলা থেকে শুরু করে ১ নভেম্বর শুরু হওয়া সড়ক আইনের প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। আমাদের আশা সাগর-রুনিসহ সকল মামলার সফল নিষ্পত্তি হবে। সড়ক আইনের কঠিন বাস্তবায়ন জনগণ তো বটেই, আইন রক্ষাকারী পুলিশরাও আইন মেনে চলবেন।

হেলমেটবিহীন পুলিশের ছবি ছাপা হলে আমাদের দেখতে ভালো লাগে না। এটা দেখার দায়িত্ব পুলিশ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। সব সমস্যা সব সংশোধন শুধু প্রধানমন্ত্রীই করবেন এটা আমরা ভাবতে যাব কেন? ধন্যবাদ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনি দীর্ঘজীবী হোন। আপনার শুরু করা সব কাজ যেন আপনি শেষ করে যেতে পারেন, আমরা সেই অপেক্ষায় রইলাম।
- লেখক : সাংবাদিক, পরিচালক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads





Loading...