অনাসক্তির রাজনীতি ও অর্থনীতির কূটনীতি

ফনিন্দ্র সরকার :
ফনিন্দ্র সরকার : - ছবি : সংগৃহীত

poisha bazar

  • ০৪ নভেম্বর ২০১৯, ১০:১৫

আসক্তি হচ্ছে একটি দর্শন। আমিত্বের প্রতি অসীম দুর্বলতা। কেবল চাই আর চাই, খাই খাই ভাব। এই স্বভাবের ভাবে আবেগাপ্লুত রাজনীতির দিন এখন শেষ। শেখ হাসিনা সেবা ও ত্যাগের স্লোগান দিয়ে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশকে। রাজনৈতিক সংগঠনে একটি পদ-পদবি বাগিয়ে নিয়ে কিংবা মন্ত্রী, এমপি হয়ে ধরাকে সরা জ্ঞানে লম্ফঝম্ফ করার দিনও সমাপ্তির পথে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রসিকতা করে বলেছিলেন, ‘মুই কী হনু রে’- রসিকতা হলেও এর তাৎপর্য অপরিসীম। যারা নগণ্য থেকে গণ্যমান্যের কাতারে নাম লিখিয়েন এমন ভাব দেখান, যেন তার বাপ-দাদা চৌদ্দপুরুষ অন্য এক উচ্চমার্গীয় বশংবদ। তাদের চলনে-বলনেও ভাবটা এমন যে, ‘মুই কী হনু রে’। এই দাম্ভিক শ্রেণির রাজনীতিবিদ এবং আমলা-কামলা সাহেবদের উদ্দেশেই শেখ হাসিনা ওই উক্তিটি করেছিলেন।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ এক বক্তৃতায় বলেছিলেন, রাজনীতিকদের আমিত্বের ভাব থাকতে নেই। আমিত্বে অহংকারের জš§ দেয়, মস্তিষ্কের জ্ঞানকোষকে অকেজো করে ফেলে। কাজেই আমিত্বকে জয় করতে হবে। আমাদের ব্যবসায়ী শিল্পপতি, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ আমলা অনেকের মধ্যেই আমিত্বের ভাব রয়েছে। এ ভাব তাকে অন্ধকারের গুহায় ঠেলে দেবে তাতে সন্দেহ নেই।

ইতিহাসে এমন অনেক তথ্য-প্রমাণাদি রয়েছে। আসক্তির কারণে কীভাবে রোমান সাম্রাজ্যের পতন হয়ে গিয়েছিল সেটা প্রায় সবাই জানেন। কাজেই অনাসক্তির রাজনীতি ছাড়া জাতীয় কল্যাণ সম্ভব নয়। এই উপমহাদেশে ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন তাদের মধ্যে কোনো আসক্তি ছিল না। তাদের মধ্যে ভয়হীনতা ও হৃদয়বেত্তার মতো দুটি গুণের সংহতি ছিল।

বাংলাদেশে বাঙালি জাতি ও মুক্তিসংগ্রামে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বও ছিল অনুরূপ। তিনি মানবোচিত উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছিলেন সমগ্র বাঙালি জাতির মধ্যে। মানবিক গুণ ও সদ্ভাবের ধারণা তৈরি করেছিলেন রাজনীতিতে। বহুকাল পরে আবার অনাসক্তির রাজনীতি দিয়ে অর্থনীতির ক‚টনীতিকে ধারালো করার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে চলছেন শেখ হাসিনা।

মানব জাতির সামগ্রিক উন্নতি ও কল্যাণের ক্ষেত্রে যে সমস্যা মোকাবিলা করতে হচ্ছে তা নিরসন করেই রাজনীতিকে এগিয়ে নিতে হবে। মানুষের উন্নতি ও পূর্ণতা সাধন ছাড়া রাজনীতির পূর্ণতা আসে না। দেখুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিটলার ও তার রাজনৈতিক দর্শনে জাতি-বৈষম্যমূলক আদর্শের সম্পূর্ণ পরাজয় ঘটেছিল এটা ভুল ছিল তা কেউ বলবে না।

যে দর্শন শক্তি ও নম্রতার সমন্বয়ে কথা বলে, সেই দর্শনই মানুষের সু-উন্নত চারিত্রিক বিকাশের পক্ষে সহায়ক হয়। এমন রাজনীতির চর্চা আমাদের রাজনীতিকদের করতে হবে যেন চরিত্রটা সু-উন্নত হয়। সেটা শীর্ষ রাজনীতিকদেরই শুরু করতে হবে। রাজনীতির সুস্থতা সবলতায় দেশের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। এমন পরিবেশ থাকলে দেশে অর্থনৈতিক উন্নতির বিকাশ ঘটে।

আধুনিক বিজ্ঞান সভ্যতার যুগেও এ কথা সত্য যে, মনঃশক্তির উন্নতি ছাড়া সার্বিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন হচ্ছে মানব সম্পদের উন্নয়ন। প্রধানমন্ত্রী সে দিকটায় নজর দিয়েছেন। গত ৩০ অক্টোবর ২০১৯ ‘৩য় বাংলাদেশ লেদার ফুটওয়্যার অ্যান্ড লেদার গুডস্ ইন্টারন্যাশনাল সোর্সিং শো-২০১৯-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি ‘ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি’র ওপর জোর দিয়ে বক্তব্য রাখেন।

কেন না আধুনিক উন্নত বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে অর্থনীতির ক‚টনীতিকে গুরুত্ব দিতে হবে। সে ক্ষেত্রে রফতানি আয় যত বৃদ্ধি পাবে অর্থনীতির ক‚টনীতি ততটাই গতিশীল হবে। প্রধানমন্ত্রী উল্লেখিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিদেশি ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীদের দেশের বিভিন্ন শিল্প খাতে বিশেষ করে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের শিল্পে বিনিয়োগের উদার আহ্বান জানিয়েছেন।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ যে কোনো দেশের চাইতে বেশি লাভবান হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় উল্লেখ করেন, ‘তার সরকার চামড়াজাত দ্রব্য ও পাদুকা রফতানিকারকদের সঙ্গে বিশ্বের আমদানিকারকদের যোগাযোগ ঘটানোর জন্য ‘ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসি’র ওপর জোর দিয়েছেন। ইকোনমিক ডিপ্লোম্যাসির সফলতায় চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকাশিল্প গত এক দশকে পাট ও পাটজাত পণ্যকে রফতানি আয়ে ছাড়িয়ে দ্বিতীয় বৃহত্তর রফতানি আয়ের খাত হিসেবে পরিণত হয়েছে। তৈরি পোশাক শিল্পের পরই এর অবস্থান।

গত অর্থবছরে চামড়া খাতে আয় হয়েছে প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের মধ্যে এই খাত থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। উল্লেখ্য, ১৯৯৬, ১২ জুনের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হয়ে দীর্ঘ ২১ বছর পর ক্ষমতাসীন হয়। শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হন। তার নেতৃত্বে ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশকে এগিয়ে নিতে নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তার মধ্যে অর্থনীতির ক‚টনীতি ছিল অন্যতম।

সমৃদ্ধ দেশ গড়তে হলে অর্থনৈতিক মুক্তি অনিবার্য। আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বাঙালি জাতির অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বনির্ভরতার যে স্বপ্ন দেখেছিলেন তা বাস্তবায়নের জন্যই শেখ হাসিনা কাজ করে যাচ্ছেন। বাংলাদেশের অন্যতম দুটি প্রধান বিষয় হচ্ছে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও ভ‚মি সংস্কার। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রচুর ভূমিসম্পদ দখলদার বাহিনীর হাতে রয়েছে। সেগুলো উদ্ধারে সাম্প্রতিক সাঁড়াশি অভিযান চলছে। সম্পূর্ণরূপে এগুলো উদ্ধার হয়ে গেলে নানা প্রকল্পের জায়গা সৃষ্টি হবে। পরিকল্পনামাফিক সুদূরপ্রসারী কর্মসূচি হাতে নিয়ে কাজ করলে যানজট নিরসনও সম্ভব হবে।

এদিকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানব সমাজের উন্নয়নে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশ ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার নিয়ে শেখ হাসিনার সরকার কাজ করে যাচ্ছে। শেখ হাসিনা ২০০৮ থেকে টানা তৃতীয়বারের মতো সরকারপ্রধান হয়ে গত ১১ বছরে দেশকে উন্নয়নের রোলমডেলে দাঁড় করিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যেখানে রফতানি আয় ১০ দশমিক পাঁচ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল তা ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চার গুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে ৪৬ দশমিক ৮৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল আইএমএফ সর্বশেষ জিডিপি ব্যাংকিং অনুযায়ী বাংলাদেশ পিপিপির ভিত্তিতে বিশ্বের ২৯তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট (এডিবি) ব্যাংকের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুসারে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি অর্জনকারী দেশ।

বাংলাদেশে এখন মাথাপিছু আয় ১৯০৯ মার্কিন ডলার। বিস্ময়কর উন্নয়নের দেশ হিসেবে বাংলাদেশ বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে। এখানে ১০০টি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। রফতানি বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশের অভ্যন্তরে ও আঞ্চলিক পর্যায়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারণে নানা পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে যা বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। আঞ্চলিক যোগাযোগ অবকাঠামোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে যুক্ত থেকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগের প্রাণকেন্দ হিসেবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। বহুত্ববাদের ভিত্তিতে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে যা যা করা দরকার, দেশ সে পথেই অগ্রসর হচ্ছে।

বিশ্ব আজ বদলে গেছে। বদলে যাওয়া বিশ্বে অর্থনীতির ক‚টনীতিকে অগ্রাধিকার দেয়া ছাড়া উপায় নেই। অর্থনৈতিকভাবে যে দেশ যত সমৃদ্ধ, সে দেশ তত মর্যাদাসম্পন্ন। ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে কারো কাছে হাত পাতা নয়, আমরা স্বনির্ভর হয়ে আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠালাভ করে এগিয়ে যেতে চাই। সে ক্ষেত্রে অর্থনীতির ক‚টনীতিই বিদেশ নীতির অন্যতম প্রধান নীতি হওয়া বাঞ্ছনীয়।

অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ না হলে একটা জাতি রুগ্ণ, দুঃখে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। রুগ্ণ, দুঃখ উদ্বিগ্ন মন দিয়ে কেউ নিজেকে ঠিক ঠিক বিচার করতে পারে না। বিচারশক্তি হারিয়ে ফেলে। তবে অবৈধভাবে নয়, সৎ, আদর্শ কর্মপ্রক্রিয়ায় নিয়োজিত থেকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করতে হবে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে একটি ‘শক্তিমান গুণধর্ম, থাকতে হবে। শেক্সপিয়ারের ভাষায়, ‘গুণধর্ম শক্তিমান’, কঠিন উপাদান দিয়ে তৈরি।

অর্থনৈতিক দুর্বলতায় মানসিক বিপর্যয় ঘটে। বিপর্যস্ত জীবন নিয়ে কভু দেশ ও জাতির উন্নয়ন তো দূরের কথা নিজের উন্নয়নই সম্ভব নয়। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশংসা করেছে ডব্লিউআইইএফ ও এসইএসিও। ডব্লিউআইইএফ হচ্ছে, ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম। এসইএসিও হচ্ছে, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়-কো-অপারেশন। এ দুটো সংগঠনের নেতারা বিগত এক দশকে বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

গত ৩০ অক্টোবর বিকেলে শেখ হাসিনার বাসভবন গণভবনে ডবিøউআইইএফের সেক্রেটারি জেনারেল আহম্মদ ফুজি আব্দুল রাজ্জাকের নেতৃত্বে সাত সদস্যের প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে অর্থনীতি বিকাশে বাংলাদেশের অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে। উল্লেখ্য, ওই সংগঠন দুটো যৌথভাবে ২৯ অক্টোবর ঢাকায় একটি গোলটেবিলের আয়োজন করে।

আলোচনার মূল বিষয় ছিল, ‘আঞ্চলিক সহযোগিতা: রূপান্তরিত অর্থনীতি।’ এ বিষয়টি নিয়ে নেতারা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করেন। ২০২০ সালে কাতারে এসইএসিওর পরবর্তী সম্মেলনে যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানান। ২০২১ সালে ডবিøউআইএফ এবং এসইওর সম্মেলনের জন্য স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের নাম প্রস্তাব করা হয়।

অর্থনীতির কূটনীতিতে অনন্য সাফল্যের কারণেই আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরামগুলো বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্যও আগ্রহশীল হয়ে উঠছে। জ্বালানি খাতে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে কাতার। সম্প্রতি কাতারের জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশ সফরকালে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে এ আগ্রহের কথা প্রকাশ করেন। কাতার যদি জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করে তবে পাওয়ার সেক্টরের অভ‚তপূর্ব সাফল্য আসবে। গোটা বাংলাদেশই হয়ে উঠবে আলোয় উদ্ভাসিত।

আজকে আমাদের প্রিয় মাতৃভ‚মি আন্তর্জাতিকভাবে যে উচ্চতায় পৌঁছেছে তা অর্থনীতির ক‚টনীতিকে গুরুত্ব দেয়ার কারণেই সম্ভব হয়েছে। এক সময় ক‚টনীতি ছিল পারস্পরিক দেশের সঙ্গে রাজনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের অনুষজ্ঞ। কৌশলগত একটা সুবিধা আদান-প্রদানের বিষয়। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সাংঘর্ষিক বিবাদ মেটাতে কূটনৈতিক তৎপরতা ছিল ডাল-ভাতের মতো।

এমনকি প্রতিপক্ষ দমাতে ক‚টনীতিকে ব্যবহার করা হতো। সেটা ছিল একটা দুর্বল কূটনৈতিক সংস্কৃতি। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সঙ্কটকালে বৈদেশিক ক‚টনৈতিক কর্মকর্তাগণের কাছে ধন্না দেয়া যেন নিয়মে পরিণত হয়েছিল। ফলে বিদেশি ক‚টনীতিকরা আমাদের ওপর খবরদারি করার অবারিত সুযোগ পেয়ে গিয়েছিল। এখন আর সে অবস্থা নেই। ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব অনুধাবন করে আমাদের প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির কূটনীতি দিয়ে সমৃদ্ধি অর্জনের পথগুলো প্রশ্বস্ত করেছেন।

পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এমন একটি জায়গায় যা কিনা সারাবিশ্বের কাছে আকর্ষণের বিষয়। এখানকার পরিবেশ, নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু, উর্বর ভূমি এবং ঋতুবৈচিত্র্যের এ দেশটি বিশ্ব অর্থনীতির রিসোর্ট হিসেবে দেদীপ্যমান। আমাদের নদীবন্দর, সামুদ্রিকবন্দরগুলোর সদ্ব্যবহারে আমরা সোনালি অর্থনীতি ছুঁয়ে ফেলতে সক্ষম হব।

বাংলাদেশের বনজ, মৎস্য ও পশু সম্পদের যে বিশাল ভাণ্ডার রয়েছে অর্থনীতির ক‚টনীতির আওতায় এসব সম্পদ বিশ্ববাসীর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দেবে। সে লক্ষ্যেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী কাজ করে যাচ্ছেন-২০৪১ সালকে সামনে রেখে, যেদিন বাংলাদেশের নাগরিক ধনী দেশের নাগরিক হিসেবে অধিক গৌরবের অধিকারী হবে। আমেরিকা, জাপান, সুইজারল্যান্ড নয়, বাংলাদেশ হবে পৃথিবীর মানুষের কাছে ভূ-স্বর্গ। আমাদের ভাষা, সংস্কৃতিও চলে যাবে আন্তর্জাতিক প্রথম কাতারে। বাংলাদেশের টাকা শাসন করবে বিশ্ব মুদ্রা বাজারকে।
- লেখক: আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট

মানবকণ্ঠ/এফএইচ




Loading...
ads





Loading...