যানজটের কারণ ও সমাধানের উপায়

মো. রেজাউল করিম সোহাগ, ব্যাংকার।
মো. রেজাউল করিম সোহাগ, ব্যাংকার। - - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৮:৩০

রাস্তার স্বল্পতা, প্রতিদিন অসংখ্য যানবাহন ও জনগণের চলাচল। অপরিকল্পিত পার্কিং ব্যবস্থা। ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকীকরণের অভাব। হকার ব্যবস্থাপনার শৃঙ্খলা আনয়নের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের অভাব। শহর এলাকার অভ্যন্তরে আন্তঃজেলা বাসের প্রবেশ ও বহির্গমন। প্রধান কারণ, একটি নির্দিষ্ট সময়ে (অফিস সময়) সীমিত রাস্তায় প্রচুর গাড়ির চলাচল। সারাদিন বিরামহীনভাবে প্রচুর লোকজনের চলাচল। (অফিসযাত্রী, ছাত্রছাত্রী, দিনমজুরসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লোক)।

উপরোক্ত সমস্যাবলির স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের প্রক্রিয়া সরকারের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান আছে। কিন্তু বিষয়টি যেহেতু সময়সাপেক্ষ, সেহেতু নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে আপাতত যানজটের বিড়ম্বনা থেকে উত্তরণ সম্ভব।

মূল পরিকল্পনা: অফিস বা বাণিজ্যিক কার্যাবলির সময়সূচি দুই শিফটে চালু।

প্রথম শিফট- সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা। প্রথম শিফটে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়সহ সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি ও আধাসরকারি প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ইত্যাদি। দ্বিতীয় শিফট- বেলা ১১টা হতে সন্ধ্যা ৭টা, দ্বিতীয় শিফটে বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক বীমা মার্কেট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রমজান মাসে প্রথম শিফট সকাল ৮টা থেকে বেলা ২টা এবং দ্বিতীয় শিফট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত খোলা থাকবে, রমজান মাসে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

মূল পরিকল্পনা বাস্তবায়নে নিম্নবর্ণিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে: অফিস টাইম কড়াকড়িভাবে পালন করার নিমিত্তে কোনো ওভারটাইমের সুযোগ থাকবে না। এ ক্ষেত্রে সব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুত সংযোগ ৪টা এবং ৭টার পর বন্ধ করা যেতে পারে।

প্রত্যেক এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল এবং ট্রাফিক নিয়ম পালন করার ক্ষেত্রে যথাযথ শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। (যেটা এখন অনেক এলাকায় বিদ্যমান আছে)।

আন্তঃজেলা বাসস্টেশন কাঁচপুর, টঙ্গী এবং অন্যটি বুড়িগঙ্গার ওপারে অবস্থিত হবে। শহর এলাকায় কোনো আন্তঃজেলা বাস প্রবেশ ও বের হতে পারবে না। দূরের জেলার যাত্রীরা টঙ্গী, কাঁচপুর এবং বুড়িগঙ্গার ওপার থেকে সিটি বাস, উবার, ব্যক্তিগত গাড়ি, ট্যাক্সি, সিএনজি, বিআরটিসি ইত্যাদির মাধ্যমে শহর এলাকা থেকে বহির্গমন ও প্রবেশ করবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, যা ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে তা বিদ্যমান থাকবে। ভ‚-গর্ভস্থ পার্কিং ব্যবস্থা শহরের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। (নগর পরিকল্পনাবিদ ও প্রকৌশলীদের উপদেশ অনুযায়ী)।

হকারদের জন্য বিভিন্ন স্কুল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় মাঠে ছুটির দিনে বা প্রতিদিন সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বসার ব্যবস্থা করার অনুমতি দেয়া যেতে পারে, তবে কোনোভাবে ফুটপাথে নয়।

দুটি শিফটের কারণে ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে রাস্তায় গাড়ির পরিমাণ বর্তমানের চেয়ে অর্ধেকের বেশি কমে যাবে। একই সঙ্গে জনগণের চলাচল ব্যাপকভাবে সীমিত হয়ে আসবে। অর্থাৎ ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে যানজট পরিস্থিতিকে বিভাজিত করবে।
মানুষ নিত্যদিনের অফিসের কাজ ব্যতীত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজ করার ক্ষেত্রে সময় পাবে। যেমন- সকালের শিফটের মানুষ বিকেলের

যাবতীয় কাজ করার সুযোগ পাবে এবং বিকেলের শিফটের মানুষ সকালে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কাজ সম্পন্ন করে অফিস যেতে পারবে। অতিরিক্ত সময় অফিসে ব্যয় না করার কারণে (ওভারটাইম নিষিদ্ধ) বিদ্যুতের খরচ কম হবে। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ সম্পন্ন করার তাগিদে কর্মদক্ষতা ও শৃঙ্খলাবোধ উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।

পারিবারিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত কর্মস্থলে শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ বিদ্যমান থাকবে। পরিবার যেহেতু সব কর্মপ্রেরণার উৎস সেই কারণে মানুষ এই প্রক্রিয়ায় পরিবারকে বেশি সময় দিতে পারবে। হাজার হাজার শ্রমঘণ্টা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি তেলও সাশ্রয় হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে হিমশিম খাওয়ার অবস্থা তা অনেকাংশে লাঘব হবে দুই শিফটের কারণে। স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অনেক সৃষ্টিশীল কাজে নিয়োগ করতে পারবে। দূরবর্তী জেলার যাত্রীদের কিছুটা সমস্যা হবে কিন্তু বৃহত্তর স্বার্থে এবং শহর এলাকায় কিছু বিআরটিসি ও অন্যান্য বিলাসবহুল বাস চালু করলে এ অবস্থা সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে।

লেখক: ব্যাংকার

মানবকণ্ঠ/এএম




Loading...
ads




Loading...