ডেঙ্গু নির্মূল: চীন পারলে আমরা পারব না কেন?

ড. এম এ মাননান

ড. এম এ মাননান

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ আগস্ট ২০১৯, ১৮:১৭

দেশজুড়ে চলছে একটা অস্বস্তিকর অবস্থা। এটি এখন ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’। ঘরে ঘরে সন্ত্রস্ত অবস্থা। আগলে রাখছে প্রিয় বাচ্চাটিকে কিংবা অন্য কোনো প্রিয়জনকে। না জানি কখন এডিস মশা কামড় দিয়ে বসে। আতঙ্ক সৃষ্টি এমনিতে হয়নি। এডিস মশা শুধু কামড় দিচ্ছে না, সঙ্গে সঙ্গে কামড়ের কারণে সৃষ্ট ডেঙ্গুজ্বর নামক রোগটির মতিগতিও বদলে দিচ্ছে। গতবারের তুলনায় ডেঙ্গুর রূপ অনেকটা বদলে যাওয়ার কারণে ডাক্তাররাও হিমশিম খাচ্ছেন। ডেঙ্গুর বর্ণচোরা ভাবটা টেনশনে ফেলে দিয়েছে সবাইকে।

কোনো কোনো ডাক্তারের মতে, চার প্রকারের ডেঙ্গু ভাইরাস রয়েছে। বর্ণচোরা হওয়ার কারণে ল্যাবটেস্টে অনেক সময় ধরা যাচ্ছে না ঠিকমতো। ডেঙ্গুর লক্ষণ, ক্ষমতা, আক্রমণ কৌশল আর আক্রমণস্থল সবই পাল্টে গেছে। ডাক্তার ইকবাল আনোয়ারের একটি প্রবন্ধ থেকে জানা গেল, শুধু ডেঙ্গু নয়, যে কোনো ভাইরাসেরই এ রকম চরিত্র পরিবর্তন হয়। সত্যিকার অর্থে, ভাইরাসের কাছে মানুষ আজো অসহায়, যদিও অনেক সরল প্রকৃতির ভাইরাসের টিকা বানাতে পেরেছে মানুষ। তার মতে, বেশিরভাগ ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে কোনো টিকা বা ওষুধ নেই। ডেঙ্গুর এ রকম বিচিত্র স্বভাবের কারণে ডেঙ্গুর চিকিৎসা জানা সত্তে¡ও একাধিক চিকিৎসকও ইতোমধ্যে করুণ পরিণতির শিকার হয়েছেন। তবে আতঙ্কের কিছু নেই। আতঙ্ক মানুষকে অনিবার্য ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। মানুষ চিরকাল প্রকৃতির বিরূপ আচরণের সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলার জন্য যুদ্ধ করেছে, কখনো হেরেছে আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জয়ী হয়েছে। যেমনটা ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কিছুটা জয়ী হয়েছে চীনের গুয়াংজু প্রদেশ। এ বিষয়ে পরে আসছি।

ডেঙ্গু এ গ্রহে নতুন নয়। গত চার দশকে একমাত্র বরফের রাজ্য এন্টার্কটিকা আর সুমেরু বৃত্তের গ্রিনল্যান্ড ছাড়া সব মহাদেশে এডিস মশা ছড়িয়ে পড়েছে। আকারে ক্ষুদ্র এসব মশা মানবদেহে ভয়ঙ্কর রোগের সংক্রমণ ঘটাচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই বিশ্বের প্রায় ১১০টি দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব লক্ষ্য করা যায়, প্রধানত এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায়। একটি তথ্যসূত্র মতে, ১৭৭৯ সালে প্রথম ডেঙ্গুর সন্ধান পাওয়া যায়। এশিয়ার অনেক দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে। ফিলিপিন্সের মতো দেশ তো একেবারে নাজেহাল অবস্থায়। ভারতেও ডেঙ্গুর মাতম চলছে। থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনামসহ পূর্ব-দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশেই হচ্ছে এডিস মশার আক্রমণ।

বাংলাদেশে কয়েক বছর থেকেই ডেঙ্গুর উপদ্রব চলছে, যদিও এবারের মতো এতটা তীব্রতা কখনো ছিল না। তবে কথা হলো, বর্ষা মৌসুমে যে ডেঙ্গু ছড়াতে পারে এ বিষয়টা সরকারি সংস্থাগুলো জানতো না নাকি? বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখি, কর্তাব্যক্তিরা প্রোঅ্যাক্টিভ না হয়ে হচ্ছেন রিঅ্যাক্টিভ। এতে তারা জনগণের কাছে হারান ‘ইজ্জত’ আর জনগণ হারায় অঙ্গ কিংবা প্রাণ। প্রায় সময় আমরা দেখি, বেশ হৈ-হুল্লোড় করে, ব্যানার টাঙিয়ে, ঢোল-শহরত করে, টিভি ক্যামেরা সামনে নিয়ে মহা-উল্লাসে মশার ওষুধ ছিটানো হয়। তবে তা অধিকাংশ ক্ষেত্রে মশার লার্ভায় নয়, ছোড়া হয় আকাশের পানে যেখানে মশা উড়তে গিয়ে গোত্তা খেয়ে মাটিতে পড়ে ঘাসের তলায় লুকিয়ে পড়ে আর সোৎসাহে আল্লাহর শোকরিয়া আদায় করে। কর্তাব্যক্তিরা লার্ভা চেনেন না, লার্ভার জš§স্থল চেনেন না, লার্ভা ধ্বংস করলে মশার চৌদ্দগোষ্ঠী উজাড় হয়ে যাবে সে সম্পর্কে কিছুই বোঝেন না, তা চিন্তা করতে গেলেও গোলকধাঁধায় পড়ে যাই। আসলে গোলকধাঁধার দোষ কী? আমরা তো হরহামেশা এমনতরো ধাঁধার মধ্যেই বসবাস করি। কর্তাব্যক্তিরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে বসে বসে ভাবেন, মশা মারতে দরকার হলে কামান আমদানি করা হবে, কোন দেশ থেকে আনলে বেশি সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে, কে আনবে, কোনো বন্দর দিয়ে আনা হবে নাকি লোকসানি বিমানের কর্তাব্যক্তিদের মুনাফা করার সুযোগ দেয়ার মহান লক্ষ্যে বিমানে করে আনবে, এসব চিন্তাতেই সময় কাটে। মনে হয় তারা জানেনই না, মশা মারা বেশি কার্যকর নাকি মশার প্রজনন রোধ করা বেশি জরুরি। প্রজনন রোধ করতে হলে তো লার্ভাই ‘মারতে’ হবে, মশা নয়। একবার লার্ভা নির্মূল হলে আর মশা মারার কথা ওঠারই তো সুযোগ নেই। আর লার্ভা নির্মূলের জন্য ওষুধ ছিটাতে হয় আকাশে না মাটিতে তা নিশ্চয় কর্তাব্যক্তিরা জানেন। এটা জানেন না বলার মধ্যে অনেক লজ্জার ব্যাপার জড়িত। আসলে প্রয়োজন চেয়ারসর্বস্ব জনসেবার প্রবণতা থেকে দূরে সরে এসে প্র্যাকটিক্যাল হওয়া, বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড়ানো।

চীন সরকার ডেঙ্গুকে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্যসমস্যা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। ডেঙ্গু বিতাড়নের জন্য এডিস মশা নির্মূলের লক্ষ্যে চীনের গুয়াংজু প্রদেশে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছিল? ‘দ্য নেচার’ নামক একটি প্রকৃতিবিষয়ক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা প্রবন্ধের উদ্ধৃতি দিয়ে একটি দৈনিক পত্রিকা এডিস নির্মূলের বিষয়টি তুলে ধরেছে। মূলত সেখানে যা করা হয়েছিল তা হলো এমন কিছু পদক্ষেপ যা এডিস মশার বংশ বৃদ্ধি রোধ করতে পারে এবং মশার রোগ ছড়ানোর ক্ষমতা হ্রাস পায়। তারা এডিস মশাকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে কাজটি করেছে মূলত এ কারণে যে, এডিস অ্যালবোপিক্টাস প্রজাতির মশাই ডেঙ্গু, জিকা আর চিকুনগুনিয়ার সংক্রমণ ঘটাচ্ছে সারা দুনিয়াতে। চীনের বিজ্ঞানীরা দুই বছর সাধনা করে দুটি বিদ্যমান পদ্ধতির সমন্বয় করে গুয়াংজুর দুটি দ্বীপপুঞ্জ থেকে এ মশার পরিমাণ চুরানব্বই শতাংশ কমিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক পিটার আর্মব্রাস্টার তাদের উদ্ভাবিত দুই স্তরের পদ্ধতিতে মশা নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চালিয়ে সফল হয়েছেন বলেও খবরটিতে প্রকাশ পেয়েছে। একটি স্তর হলো বিকিরণের মাধ্যমে মশাকে নির্গত করা এবং আরেকটি স্তর হলো ওলবাখিয়া প্রজাতির ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেনের মাধ্যমে ডিম থেকে মশার উৎপাদন রোধ করা। আমাদের সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো গবেষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী কৌশল উদ্ভাবন করতে পারেন কিনা ভেবে দেখতে পারেন। ইতোমধ্যে সারাদেশের সব জেলায় ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু যাতে মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে সে লক্ষ্যে আশু পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।

নিতে হবে স্বল্পমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। আগস্টের প্রথম দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে এ মুহূর্তে প্রয়োজন স্বল্পমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে ঝটপট মাঠে নেমে যাওয়া। মাঠে নামবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, সঙ্গে থাকবে সিটি কর্পোরেশন আর পৌরসভাগুলো। জনগণ তো থাকবেনই, যেমনটি ছিল ১৯৫৮ সালের দিকে যখন মিলিটারিরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে বনজঙ্গলের পাশের বাড়ির মালিকদের ধরে ধরে দুই হাতের বাহুতে পেটাত এই বলে যে, বাড়ির পাশের বনে-বাদাড়ে জঙ্গল কেন এবং তা নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না কেন। ঠেলার নাম বাবাজী। সবাই মিলিটারি আসার আগেই বাড়ির আশপাশ পরিচ্ছন্ন করে রাখত। তাৎক্ষণিক উদ্যাগ না নিলে মহামারী লেগে যাওয়ার সম্ভাবনা, যেরূপটি লেগেছিল ১৩৪৮ খ্রিস্টাব্দে সারা ইংল্যান্ডে এবং ফলে সারা ব্রিটেন ইঁদুরজনিত প্ল্যাগের মহামারীতে প্রায় ৬০ শতাংশ নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছিল যা বø্যাক ডেথ নামে ইতিহাসে সুপ্রসিদ্ধ (১৩৬১-৬২তে আবারো একই মহামারীর কারণে বিশ শতাংশ লোক মারা যায়)। ডেঙ্গু মহামারীর রূপ নেয়ার আগেই সতর্ক হওয়া জরুরি। অবশ্য যাদের সতর্ক হওয়া সর্বাগ্রে জরুরি তারা তো সতর্কবাণী শুনলেও জেগে জেগে ঘুমায়। না হলে, যেখানে সাত বছর আগে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কবার্তা দিয়ে তাদের বৈশ্বিক কৌশলপত্রে (২০১২-২০২০ সাল পর্যন্ত সময়ে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্পর্কিত) ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলেছিল সেখানে বাংলাদেশ কি কান দিয়েছিল? সংস্থাটি ডেঙ্গু-ঝুঁকি মানচিত্রে উল্লেখ করেছিল, ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা ঘরে-বাইরে দিনেরাতে কামড়াতে পারে এবং সারা দক্ষিণ এশিয়াসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, ডেঙ্গু এখন অপ্রতিরোধ্য গতিতে ছড়াচ্ছে অনেক দেশে-ভারত, নেপাল, মালয়েশিয়া, ফিলিপিন্স, থাইল্যান্ড, চীন, সিঙ্গাপুর, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, অস্ট্রেলিয়া, মিয়ানমার, ব্রাজিল ইত্যাদি। নেপাল, শ্রীলঙ্কাসহ বাংলাদেশে বড় আকারে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছিল জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা দফতরও (সূত্র: কালের কণ্ঠ, ৩১ জুলাই ২০১৯ পৃ: ১,২)।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাবে তা বুঝেও দিনে ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে কাজের সময় শেষ করে দিয়ে রাতে সজাগ থাকার দিন শেষ। বিলম্ব না করে আরো কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে। নগদ ব্যবস্থা নিতে হবে অনেক রকমের।

১. মশা নিধনের ওষুধ কেনার সিন্ডিকেটগুলো পুরোপুরি জনস্বার্থে ভেঙে দিতে হবে শক্তহাতে।

২. সব সিটি কর্পোরেশন আর পৌরসভাগুলোতে মশানিধন কর্মীদের কাজকর্ম মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।

৩. ডেঙ্গু টেস্টের মূল্য তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে; সম্ভব হলে টেস্ট ফি’র খরচ সরকার থেকে বহন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

৪. সচেতনতা বাড়ানোর জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে শহরে, গ্রামে, গঞ্জে সর্বত্র। মসজিদের ইমাম-মোয়াজ্জিন, স্কুল-মাদ্রাসা-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধানরা এ ব্যাপারে সক্রিয় ভ‚মিকা রাখতে পারেন। এগিয়ে আসবেন দলমত নির্বিশেষে সবাই। রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীরা সংঘবদ্ধ হয়ে কাজ করবেন নিজ নিজ এলাকায়। কথা কম বলে নজর দিতে হবে কাজের দিকে। জনগণ কথাওয়ালা নেতাকর্মীদের পছন্দ করেন না, চিরকালের এ সত্য কথাটিকে ভুলে যাওয়া মানে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারা।

৫. নজর দিতে হবে এডিস মশার উৎপত্তিস্থল পরিষ্কারের দিকে। মারতে হবে লার্ভা, একই সঙ্গে ইতোমধ্যে জন্ম নেয়া মশা। এডিসের ডিম ধ্বংসের ব্যবস্থা নিতে হবে। না নিলে বিপর্যয় অনিবার্য। কারণ, এডিস মশার ডিম শুকনা পরিবেশে ৯ মাস পর্যন্ত সক্রিয় থাকে, নষ্ট হয় না। যখনই স্বচ্ছ পানির সংস্পর্শে আসে তখন তা লার্ভা হয় এবং পরিপূর্ণ মশায় রূপ নেয় (আলোকিত বাংলাদেশ, ৩০ জুলাই ২০১৯, পৃ ৩)।

৬. শহরের সব ড্রেনে ছেড়ে দিতে হবে শতে শতে কাতল-রুই মাছের পোনা যারা খেয়ে সাবাড় করবে মশার লার্ভা (মশার ওষুধের ব্যবসায়ীরা হয়তো একে হাস্যকর বলে গুজব ছড়াবে তাদের ব্যবসার অকল্যাণ হওয়ার ভয়ে)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজির একজন গবেষক এরূপ পরামর্শ দিয়েছিলেন অনেক বছর আগে। কিন্তু শুনেছি, কোনো একটি বহুজাতিক কোম্পানি এর বিরোধিতা করায় পরামর্শটি মাঠে মারা যায়।

লেখক: উপাচার্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়। 




Loading...
ads





Loading...