জীবন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

সাজ্জাক হোসেন শিহাব

মানবকণ্ঠ
সাজ্জাক হোসেন শিহাব - মানবকণ্ঠ

poisha bazar

  • ১৬ জুন ২০২০, ১২:৩২

কোভিড-উনিশের তাণ্ডবে সারা জামানা টালমাটাল। এরই মধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অনেক অফিস। তালা ঝুলছে হাজারো কারখানায়। প্রতিনিয়ত মানুষ চাকরি হারাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে জীবন। মানুষের ভাগ্যে লেখা হচ্ছে নতুন নতুন ট্র্যাজেডির গল্প। মানুষ মারা যাচ্ছে। আয় কমেছে। চাকরি হারিয়েছে লাখো মানুষ। যাদের চাকরি টিকে আছে, তাদেরও চলতে হচ্ছে নিয়ম মেনে। হিসাব কষে। একদিকে মানুষের মনে করোনারভীতি। অন্যদিকে পরিবারের মুখে অন্ন তুলে দেয়ার দায়। তাই পরিস্থিতি যতই নাজুক হোক না কেনো, আয় করতে হবে। অন্ন তুলে দিতে হবে প্রিয়জনদের মুখে। যাদের কর্ম নাই, তাদেরও দীর্ঘদিন ঘরে থাকলে চলবে না। সামনে আগাতে হবে। কাজ নাই বললে, জীবন চলবে না। করোনা হয়েছে বললে পরিবারের মুখে খাবার জুটবে না। বাঁচতে হলে কাজ করতে হবে। আগেও আপনি কাজ করেছেন। এখনো করবেন। কিন্তু এখন কাজ করার ধরন বদলে গেছে। ফুরফুরে মেজাজে আপনি চাইলে সব করতে পারেন না। আমাদের জীবনে এমন দৃশ্য দেখতে হবে আগে কেউ ভাবেনি। আমিও না। আপনিও না।

মনে করে দেখুন, যখন এটা চায়নাতে প্রথম হলো, বিষয়টাকে আমরা এতটা গুরুত্বের সঙ্গে নিইনি। সারা পৃথিবীর মানুষ এটাকে পাত্তা দেয়নি। চীন বুঝে গিয়েছিল। কী ভয়ঙ্কর এই করোনা ভাইরাস। কিভাবে হরহামেশা কেড়ে নিতে পারে জীবন! তারা কিন্তু প্রথমে উপলব্ধি করেছিল। তাই দ্রæত পরিস্থিতি সামলে নিল। আটকে গেলাম আমরা। যারা বিষয়টাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখিনি, গুরুত্ব দিইনি, তারাই জীবনের বিনিময়ে এর গুরুত্ব বুঝল। তাবত দুনিয়া প্রথমে বিষয়টাকে পাত্তা দেয়নি। আপনার মনে আছে, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতে এসে কিভাবে খোলা মাঠে বক্তব্য দিল! পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টও হয়তো করোনার ভয়ঙ্কর রূপ আন্দাজ করতে পারেনি। এর ফল আমেরিকানরা হাতে হাতে পেয়ে গেছে। চায়না ভাইরাস বলে আক্রমণ করলেও রক্ষা হয়নি। ইতালি তো আরো এক ধাপ এগিয়ে। করোনাকে হাল্কাভাবে নিলে কী হতে পারে, সেটা চায়নার পরেই ইতালির মানুষজন টের পেয়েছে। যখন তারা বুঝতে পারল এর ভয়ঙ্কর রূপ, ততক্ষণে থামানো যায়নি করোনার লাগামহীন বিস্তার। করোনা ধীরে ধীরে সীমানা পেরিয়ে পৃথিবী জয় করল। পৃথিবীর মানুষ ঢুকে পড়ল ঘরে। যারা বাইরে প্রয়োজনে চলাফেরা করতে লাগল, তাদের মুখে মুখে শোভা পেল মুখোশ। মুখোশে ভরে গেল চারপাশ। আমরা শিখে গেলাম নতুন নিয়ম। নতুনভাবে চলা। একটা নতুন পৃথিবী দেখল সবাই। করোনার এই জায়গা থেকেই শেখার আছে অনেক।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যাবে। আপনাকেও বদলাতে হবে। কিন্তু কিভাবে সঠিক পথে হাঁটবেন আপনি? এটা একটা বড় প্রশ্ন। করোনার সময় বাদ দিলেও, পৃথিবীতে এসে আপনার সবচেয়ে সেরা আবিষ্কার হবে, আপনার নিজেকে নতুন করে চেনা। নিজেকে জানা। আপনি কে? আপনার শক্তি কী? নিজের দুর্বলতা কোথায়? নিজেকে প্রশ্ন করুন। উত্তর পাচ্ছেন? বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উত্তর খুঁজে পাওয়া মুশকিল হবে। এটাই স্বাভাবিক। আমরা এসব নিয়ে ভাবিনা। এই দীর্ঘ সময়ে নিজেকে জানুন। চলুন, আমরা একত্রে সেই কাজটাকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। এবার ধরুন, একটা অজানা আগামীর সামনে আপনি। কিছুই জানেন না। যেমনটি জানতেন না, করোনা আসবে। ধরুন, এমন একটি আগামী। কিন্তু সত্যি যদি আপনি তা কিছুটা বুঝতে পারতেন, তাহলে কী হতো! কেমন লাগত আপনার? আগামীকে জানার কোনো ক্ষমতা আল্লাহ আমাদের দেয়নি। কিন্তু আগামী নির্মাণের পথ কিন্তু বলে দিয়েছেন। আপনার কাজ, আপনার ভবিষ্যৎ। কিন্তু কী সেই কাজ, আর কিভাবে করবেন সেটা।

ধরুন, আপনি একটা অন্ধকার কুয়ার সামনে দাঁড়িয়ে। কুয়োটা বেশ অন্ধকার। আপনাকে বলা হলো কুয়ার তলদেশে আপনার ভাগ্য লেখা আছে। আপনি কী করবেন? ভাগ্য জানার জন্য সঙ্গে সঙ্গে লাফ দেবেন? নিশ্চয় নয়। হয়তো আপনি অধীর আগ্রহ নিয়ে কুয়ার ঠিক কাছে যাবেন। এরপর আপনি তার সামনে দাঁড়াবেন। চোখ মেলে দেখবেন কুয়ার গভীরে। কিছু দেখতে পাচ্ছেন? না, পাচ্ছেন না। আপনি শুধু অন্ধকার দেখছেন। কারণ, কুয়ার ভেতরে কোনো ম্যাজিক ল্যাম্প নেই। ওখানে আলাদিনের দৈত্যও নেই। কিন্তু আপনাকে কুয়ার তলদেশের গল্পটি জানতে হবে। তলদেশ থেকে উদ্ধার করতে হবে আপনার ভাগ্যলিপিকে। কী করবেন আপনি? হু, নিশ্চয় আলো খুঁজছেন। আপনি ঠিক ভেবেছেন। আপনাকে আলোর সাহায্য নিতে হবে। আপনি হয়তো ভাবলেন, একটা দিয়াশলাইয়ের কাঠি দপ করে জ্বালিয়ে ফেলে দিই। একটা ধারণা নিই। সেটি ফেলেও দিলেন কুয়ার মধ্যে। আলোর সঙ্গে সঙ্গে আপনার চোখ যাচ্ছে সামনে। কিছুদূর গিয়ে সেটি নিভে গেল। সব শেষ। আপনার দেখা হলো না কিছুই। আহা! কুয়ার নিচে কী আছে। এটা জানার জন্য আপনার মন উথালা হয়ে উঠেছে। কী করবেন আপনি? নিশ্চয়, আরেকটা উপায় খুঁজে বের করবেন। তাই না? হু, আমিও সেটি করতাম। হয়তো আপনি টর্চ হাতে রশি বেয়ে নিচে নামতেন। নামতেন তো? মনে হয় না। আপনি হয়তো ভাবতেন, নিচে বিষাক্ত গ্যাস নাই তো! অথবা কোনো কীটপতঙ্গ! অনেক কিছুই আপনার মাথায় ঘুরপাক খাবে। আপনি এবার অনেক কিছু ভাবা শুরু করেছেন। একটা কাজ করার আগে এটাকে নিয়ে আমরা অনেক কিছু ভাবি। এটাকে প্লানিং বলে। কিন্তু যে জীবনে হাজার হাজার কাজ। শত শত দায়িত্ব, সেই জীবন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী? এই অগাধ সময়ে আপনি জীবন নিয়ে ভাবতে পারেন। নাকি পারেন না?

লেখক-সাজ্জাক হোসেন শিহাব : প্রতিষ্ঠাতা ও কো-অর্ডিনেটর, সাসটেইনেবল ফিউচার লিডারস

মানবকণ্ঠ/এইচকে





ads







Loading...