• শুক্রবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
  • ই-পেপার
12 12 12 12
দিন ঘন্টা  মিনিট  সেকেন্ড 

গাইবান্ধায় লাভজনক ফুলের চাষ

এ বি এম ছাত্তার

মানবকণ্ঠ
ছবি - প্রতিবেদক।

poisha bazar

  • প্রতিনিধি, দৈনিক মানবকণ্ঠ
  • ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৪৯,  আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ১৫:৫৯

সব্জিসহ অন্য যে কোন ফসলের চেয়ে ফুল চাষে লাভ অনেক বেশি হওয়ায় গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরের কৃষকরা ফুল চাষের দিকে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। বিগত ২০১৪ সালে মাত্র ২২ শতক জমিতে শুরু হওয়া ফুল এখন উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে।

উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের তাজনগর গ্রামের কৃষক মোখলেছুর রহমান বিপ্লব। বিগত ২০১৪ সালের মার্চ মাসের শেষের দিকে উপজেলা কৃষি বিভাগের পরামর্শে মাত্র ৯০ হাজার টাকা ব্যয়ে যশোর থেকে ২৫ হাজার গোলাপ চারা সংগ্রহ করেন। পরে সেই চারা ২২ শতক জমিতে রোপন করেন। এতে তার খরচ হয় ১০ হাজার টাকা। এর পাঁচ মাস পর আগস্ট মাস থেকে থেকে প্রতিদিন ২ হাজার টাকা করে গোলাপ ফুল বিক্রি শুরু করেন। তারপর আর তাকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বিপ্লব এখন তিন বিঘে জমিতে চাষ করছেন গোলাপ ফুল। প্রতি মাসে তিনি এখন দেড় লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেন। সব খরচ বাদে তার এখন মাসিক আয় ৮৫ হাজার টাকা।

মোখলেছুর রহমান বিপ্লব জানান, প্রথমে ফুল বিক্রি করতে বেশ বেগ পেতে হতো। গাইবান্ধা শহরের কয়েকটি ফুলের দোকানদার ছিল তার একমাত্র ক্রেতা। কিন্তু এখন তার ফুল রংপুর, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী, বগুড়াসহ উত্তরের প্রায় জেলা শহরে চলে যায় যাত্রীবাহী বাসের ছাদে।

তিনি আরও বলেন, বাগান থেকে ফুল উঠানোর পর গোছা বেঁধে তাতে ঠিকানা ও ফোন নম্বর লিখে পলাশবাড়ী থেকে বাসে উঠিয়ে দিলেই যথাস্থানে চলে যায়। টাকা চলে আসে মোবাইল ফোনে। ফলে ফুল বিক্রি নিয়ে আর কোন ঝামেলা নাই।

এরপর বিপ্লবের ফুল চাষে অনুপ্রাণিত হয়ে তার গ্রামের আনিছুর রহমান, পাশের চকনদী গ্রামের মোস্তাফিজার মিয়া ও সবুজ মিয়া, রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম, মহিপুর গ্রামের আমিনুর রহমান ও গোবিন্দ্ররায় দেবত্তর গ্রামের শাহিন মিয়া ফুল চাষ শুরু করেন। ওই ইউনিয়নে এখন প্রায় ২৫ বিঘা জমিতে চাষ হচ্ছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গাঁদা ও গ্লাডিওলাস ফুল।

রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, ধান, পাট, সব্জি ও বিভিন্ন রবি ফসল চাষের চেয়ে ফুুল চাষ লাভজনক। পরিশ্রম কম ও বিনিয়োগও কম করতে হয়। একবার গোলাপ চারা লাগালে টানা দশ বছর ধরে ফুল পাওয়া যায়।

ফুল চাষী গোবিন্দরায় দেবত্তর গ্রামের শাহিন মিয়া জানান, অন্য ফসলের মতো ফুল চাষে তেমন ঝুট ঝামেলা নেই। তাই অল্প পুঁজি আর স্বল্প পরিশ্রমে অনেক বেশি লাভের জন্য রাঘবেন্দ্রপুর গ্রামের আশরাফুল ইসলামের মতো অন্যরাও ফুলচাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। আর এজন্য কৃষি বিভাগের সহায়তা চান তারা।

চকনদী গ্রামের মোস্তাফিজার মিয়া তিন বিঘা জমিতে গোলাপ, রজনী গন্ধা, গ্লাওিলাস ও গাঁদা ফুলের চাষ করেন। তিনি বলেন, এক বিঘে জমিতে মাত্র ২০ হাজার টাকা খরচ করে রজনীগন্ধা চাষ করেছেন। তা থেকে গত এক বছরে এক লক্ষ টাকার ফুল বিক্রি করেছেন। আরও দুই বছর একই পরিমাণ টাকা পাওয়া যাবে। এছাড়া দুই হাজার টাকা খরচ করে ১৫ শতক জমিতে গ্লাডিওলাস চাষ করে মাত্র তিন মাসে ৩০ হাজার টাকা বিক্রি করেছেন।

গাইবান্ধা শহরের ফুল ব্যবসায়ী নয়ন মিয়া বলেন, আগে যশোর থেকে ফুল নিয়ে আসতে হত। এতে খরচ বেশি হত এবং অনেক ফুল নষ্ট হয়ে যেত। কিন্তু এখন আমরা যে ফুল পাই তা অনেক দিন তাজা থাকে এবং আমাদের ক্ষতিও কম হয়।

সাদুল্লাপুর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তানজিমুল হাসান বলেন, ফুল চাষে পরিচর্চা ও মাঝে মাঝে সামান্য সার প্রয়োগ করতে হয়। কিন্তু প্রতিদিন নগদ টাকা চলে আসে কৃষকের হাতে। ফলে দিন দিন ফুল চাষের দিকে এই উপজেলার কৃষকরা আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. খাজানুর রহমান জানান, বিগত ২০১৪ সালে মাত্র ২২ শতক জমিতে শুরু হওয়া ফুল এখন উপজেলায় প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে। এরমধ্যে ইদিলপুরে ২৫ বিঘা, রসুলপুরে ২ বিঘা ২০ শতক ও বনগ্রাম ইউনিয়নে ২ বিঘে ১০ শতক। মোট চাষী ৩৫ জন। তারমধ্যে গোলাপ- ৫৯০ শতক, গ্লাডিওলাস- ২০৫ শতক, রজনীগন্ধা ৯০ শতক ও গাঁদা ফুল ১০০ শতক জমিতে চাষ হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...