চাকরি নয়, ফুল চাষে ভাগ্য ফেরালেন ছাত্রলীগ নেতা লিয়াকত

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২১ জানুয়ারি ২০২০, ১১:৩৪

চাকরির পেছনে ছুটে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে ফুল চাষ শুরু করেন ফরিদপুর সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি লিয়াকত হোসেন। ফুলচাষে সাফল্য পাওয়ায় চাকরি না পাওয়ার কষ্ট ভুলে মুখে হাসি ফুটেছে তাঁর।

২০১৮ সালের শেষের দিকে ৫২ শতাংশ জমির উপর বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের সহযোগিতায় ইউনিয়নের খুশির বাজার এলাকায় জারবেরা ফুলের চাষ শুরু করেন লিয়াকত। ২০১৯ সালে এসে ব্যবসা ভালো হওয়ায় আরো ৭৫ শতাংশ জমি নিয়ে এখন মোট ১২৭ শতাংশ জমিতে ফুলের চাষ করছেন তিনি।

লিয়াকত হোসেন জানান, জারবেরা ছাড়াও চন্দ্রমল্লিকা ও জিপসি ফুলের চাষ করছেন তিনি। নতুন করে গোলাপ চাষের জন্য জমি প্রস্তুত করছেন। তার দেখাদেখি অনেকেই এখন ফুল চাষের দিকে ঝুঁকছেন। ফেব্রুয়ারি মাসকে ঘিরে এখানকার ফুলচাষিদের টার্গেট। এই মাসে ফুলের চাহিদা বেশি থাকে। কারণ এই এক মাসেই পহেলা ফাল্গুন, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও মহান একুশে ফেব্রুয়ারি।

এক সময়ে লিয়াকত অনার্স ও এলএলবি শেষ করে চাকরির জন্য অনেক চেষ্টা করেন। কিন্তু চাকরি জোটেনি তার ভাগ্যে। এ কারণে হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তিনি। পরে বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় ঢাকার সাভারে গিয়ে ফুলচাষের কাজ শিখে আসেন। এরপর যশোর ও ভারত থেকে সাত হাজার জারবেরা ফুলের চারা সংগ্রহ করে ফরিদপুরে চাষাবাদ শুরু করেন তিনি। এখন তার বাগানে নয় হাজারেরও বেশি শুধু জারবেরাই রয়েছে।

২৫ লাখ টাকা দিয়ে ব্যবসা শুরু হলেও এখন লিয়াকতের বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪০ লাখ টাকা। যা তার গত দেড় বছরের লভ্যাংশ। তার বাগানের ফুল ফরিদপুর ও আশেপাশের জেলা ছাড়াও নিয়ে যাচ্ছেন ঢাকা ও চট্টগ্রামের পাইকাররা ।

ফুলের বাগান দেখতে আসা রেজাউল করিম বিপুল বলেন, ‘আমার মতো অনেকেই বিকেলে এ এলাকায় ফুল দেখতে আসেন। অনেকে ফুল কিনে নিয়ে যান তাদের পরিবারের জন্য ।’

ফরিদপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কার্তিক চন্দ্র চক্রবর্তী জানান, কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় জেলায় কয়েকটি স্থানে ফুলের চাষ হচ্ছে। তবে যারা কৃষি বিভাগের সঙ্গে ঠিকমতো যোগাযোগ রাখছেন না তাদের সবসময় সহযোগিতা করা সম্ভব হয় না। যাদের সমস্যা রয়েছে যোগাযোগ করলে তাদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads






Loading...