সফল হতে চাইলে করণীয়

মানবকণ্ঠ
ছবি - সংগৃহীত।

poisha bazar

  • মানবকণ্ঠ ডেস্ক
  • ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ১৩:১০

‘সাফল্য’ শব্দটা ছোট হলেও এর ব্যাপ্তি অনেক বেশি। সফলতা একদিনে ধরা দেয় না। দিনের পর দিন কাজ করতে করতে এক সময় সফল হতে হয়। শুধু কাজ করলেই কি সফল হওয়া যায়? এর পেছনেও থাকে কিছু অভ্যাস যা কাজকে গতিময়তা দান করে। চলুন জেনে নিই কী সেই অভ্যাস, যা থাকলে সাফল্য আসবেই।

দিনের শুরুটাই যেন হয় উদ্দেশ্য নিয়ে : প্রতিদিনই এক প্রকার আশীর্বাদ স্বরূপ। তাই দিনকেও কাজে লাগাতে হবে সঠিকভাবে। দিনের শুরুতে সব কাজের জন্য অবশ্যই একটা লক্ষ্য থাকতে হবে আর সেসঙ্গে সেই কাজ করার জন্য আগ্রহ। বেশিরভাগ সফল মানুষের পেছনের গল্পই পরিশ্রম আর একাগ্রতার। এর জন্য প্রয়োজন একটি সঠিক উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের। সবার আগে নিজের মনের কথা জানুন। ভেবে দেখুন তো যা আপনি করতে চাচ্ছেন সেই বিষয়টা সম্পর্কে নিজস্ব জ্ঞান কতটুকু। সে কাজটি সফল করতে পারবেন কিনা। এরপর সে কাজটি পূরণের উদ্দেশ্য নিয়েই প্রতিদিনের সকাল শুরু করুন।

সঠিক অভ্যাসগুলো চিহ্নিত করুন : বেশিরভাগ মানুষেরই সব সময় একটা সাধারণ প্রশ্ন থাকে। ‘আমি এখান থেকে সেখানে কীভাবে যাব?’ কিন্তু কখনো আমরা ভেবে দেখি, যদি আমরা সেই পর্যন্ত যাই তবে কী করব? যদি আমরা বড় কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকি তবে তখন কীভাবে আমাদের সময় কাটবে? কী ধরনের বিশ্বাস, চিন্তা, আবেগ আর কাজ তখন করব আমরা? যদি সঠিক চিন্তা এখনই বাছাই না করতে পারেন তবে অভ্যাস কী করে গোছানো হবে? কাজেই একটু থামুন! ভাবুন! এখন ভাবুন কীভাবে আপনি প্রতিদিনকে দেখছেন! কোন সময় রোজ ঘুম থেকে ওঠেন? কাদের সঙ্গে সময় কাটান? কী ধরনের রুটিন মেনে চলেন রোজ? প্রতিটা বিষয় খাতায় খুব সুন্দর করে লিখুন। এরপর সেগুলো নিয়ে ভাবুন। এই অভ্যাসের তালিকাগুলোই বলবে আপনি সঠিকভাবে অভ্যাস আয়ত্ত করেছেন কিনা। সেই অনুযায়ী কাজ করছেন কিনা। পরবর্তীতে এই অভ্যাসগুলো নিয়েই কতদূর যাবেন তাও জানাবে এই তালিকা।

নিজের প্রতিটি পদক্ষেপের ওপর লক্ষ্য রাখুন সমানভাবে : সেই মানুষ হতে হবে যে নিজের ছোট থেকে বড় সব কাজ সমানভাবে খেয়াল রাখে। জীবনে প্রতিটি পদক্ষেপ নেয়ার সময়ই ভাবুন, আজ আমি যেখানে এরপরের পদক্ষেপ কী হবে। আমি কি ঠিক সময় ঘুমাচ্ছি? আমি কি সঠিকভাবে নিজের যত্ন নিচ্ছি? নিজে নিজেকে সবচেয়ে ভালো জানেন। জানেন কীভাবে সুস্থ থাকতে হবে, কীভাবে কাজ করতে হবে। অন্য কেউ এগিয়ে এসে সহায়তা করবে না। এটা শুধুমাত্র একটু সাহসের ব্যাপার নিজের কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে এসে নিজেকে শুধরে নেয়ার।

একটি কাজ যা অবশ্যই প্রতিদিন করবেন : প্রতিদিনের জীবনে যে কোনো একটি কাজ নিয়মিত করা উচিত। সেটা হতে পারে নিজের পছন্দের কাজ অথবা বিজনেসের কাজ। খুব সাধারণ হলেও সেটা করা উচিত। এখানে কোনো ধরনের অজুহাত একদম দেয়া চলবে না। আপনি লিখতে ভালোবাসেন। কাজ হচ্ছে প্রতিদিন খুব অল্প সময় হলেও লেখার জন্য রাখা। এমন নয় যে, সব সময় উৎসাহ নিয়েই লিখতে হবে। নিয়মিত লিখতে লিখতে এক সময় এটাই সবচেয়ে আগ্রহের জায়গা হয়ে দাঁড়াবে। এটা কিন্তু কোনো কাজের অংশ হিসেবে নয়, মনের খোরাকের জন্যই লিখবেন।

বড় কাজের জন্য ছোট ছোট পরিকল্পনা : আজ থেকে এক বছর পর আপনি আপনার কাজকে ঠিক কোন জায়গায় দেখতে চান তা নিয়ে নিশ্চয়ই আপনার একটা পরিকল্পনা আছে। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী সকল কাজকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। এরপর সেগুলোকে সপ্তাহ, মাস, বছর আঙ্গিকে সাজিয়ে ফেলুন। প্রতিটা দিন সৎভাবে কাটানোর চেষ্টা করুন। আর একদিনে তিনটার বেশি জরুরি কাজ না রাখাই ভালো। পরিকল্পনা অনুসারে এরপর কাজ শুরু করুন।

আবেগ যেন কাজের গতি না থামায় : আপনি কিন্তু কাজের জায়গায় এসে বলতে পারবেন না আপনার ভালো লাগছে না। আপনি কাজ করতে চান না। তাহলে সে কাজ তো থামবেই, আশপাশের মানুষের কাছেও হয়ত আপনি খুব ভালোভাবে উপস্থাপিত নাও হতে পারেন। অন্য কেউ একজন এসে মোটিভেট করবে এরপর কাজের জন্য প্রস্তুত হবেন তা কিন্তু কখনোই নয়! কাজের ভার নিতে হবে আপনাকেই। ঠিক কোথা থেকে শুরু করতে হবে তাও যদি আপনি না জানেন তবুও এই দায়ভার আপনারই। আবেগের বশে যে কাজ করলেন না তা যেন কখনোই সারা জীবনের আফসোস হয়ে না দাঁড়ায়।

পুরস্কার দিন নিজেকে : বেশ কিছুদিন কাজ করার পর কোনো কাজে সফল হয়েছেন? পরবর্তী কাজে যোগ দেয়ার আগে নিজেকে পুরস্কৃত করুন। অবাক লাগছে শুনে? অন্যকে পুরস্কৃত করা যায়। কিন্তু তাই বলে নিজেকে? হ্যাঁ অবশ্যই। যে কোনো কাজে সফলতা কিন্তু নিজের চেষ্টাতেই আসে। তাই সে কাজ পূরণ হলে নিজের জন্য পছন্দসই কিছু একটা কিনে ফেলুন। হতে পারে সেটা বই, ঘড়ি, কোথাও ঘুরতে যাওয়া, পছন্দের কোনো রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া। নিজেকে পুরস্কার দিলে কাজের প্রতি আগ্রহ আরো বৃদ্ধি পায়।

জরুরি অভ্যাস সব সময়ই জরুরি : ছোটবেলায় পড়া খরগোশ আর কচ্ছপের গল্প আমরা সবাই জানি। যেখানে খরগোশ নিজের অতিরিক্ত কনফিডেন্সের কারণে ধীরগতির কচ্ছপের কাছে প্রতিযোগিতায় হেরে যায়। জীবনটাও এমনই। আপনি যে কাজে যত দ্রুত এগোতে চাইবেন ধীরে ধীরে পদক্ষেপ ততই ধীর হয়ে আসবে।

শূণ্য থেকে শুরু করলে এক লাফে কখনোই একশতে পৌঁছানো যায় না। নিজের কাজের উপর, অভ্যাসের উপর ভরসা রাখুন। আপনি যত প্র্যাকটিস করে আগাবেন ততই সফলতা আপনার হাতের মুঠোয় ধরা দেবে। আত্মবিশ্বাস বাড়বে আপনার মাঝে। কাজ শুরুর আগে জানতে হবে বাস্তবতা। এরপর সেটিকে পরিপূর্ণ কীভাবে করবেন সেই নিয়ে থাকতে হবে চেষ্টা। কাজ শুরুর পর মোটিভেশন আপনাকে আরো সামনে এগিয়ে দেয়। আপনার লক্ষ্যকে বাস্তবতায় পরিণত করে এমন কাজ করার চেষ্টা করুন সব সময় তা যতই ছোট হোক বা বড়। আপনি প্রতিদিন নিয়ম মেনে কাজ করতে থাকুন, দেখবেন মোটিভেশন আপনার দুয়ারে চলে এসেছে।

মানবকণ্ঠ/জেএস




Loading...
ads





Loading...