পান্থপথে নারী চিকিৎসকের মরদেহ পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ১২ আগস্ট ২০২২, ১৩:৪৫

রাজধানীর পান্থপথের আবাসিক হোটেলে নারী চিকিৎসকের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অভিযুক্ত রেজাউল রেজাকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত জানান, এ হত্যাকাণ্ড ছিলো পরিকল্পিত।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

তিনি বলেন, অভিযুক্তকে মামলার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। তিনি গ্রেপ্তারের পর বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য জানান।

হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত ভিকটিমের মোবাইল নিয়ে যান, যাতে কোনো প্রমাণ না থাকে যে তার সাথে ভিকটিমের যোগাযোগ ছিল।

তবে সিসিটিভি ফুটেজে র‍্যাব দেখতে পায় হত্যায় ব্যবহার করা অস্ত্র অভিযুক্ত একটি ব্যাগে বহন করে। সেই ব্যাগটিও উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার রেজাউল রেজা জানান, ২০১৯ সালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সাথে পরিচয় হয় নিহত নারী চিকিৎসক জান্নাতুল নাঈম সিদ্দীকের (২৭)। পরে ২০২০ সালের অক্টোবরে পালিয়ে বিয়ে করেন তারা। এ বিয়েতে মত ছিলো না নিহত নারীর পরিবারের।

বিয়ের পর রেজা আরো নারীর সাথে সম্পর্কে জড়ান, যা মেনে নিতে না পারায় নানান সময়েই জান্নাতুলের সাথে তার বিতণ্ডা হতো হত্যাকারীর। কিন্তু ভিকটিম নারী সব স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালিয়ে যান।

গ্রেপ্তারকৃতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘেঁটে র‍্যাব অনুধাবন করতে পারছেন রেজাউল রেজা একজন কুরুচিপূর্ণ ব্যক্তি। তিনি বিকৃত মানসিকতা ধারণ করেন।

হত্যার দিন ওই নারীকে পরিকল্পিতভাবে রেজা পান্থপথে ফ্যামিলি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট আবাসিক হোটেলে নিয়ে যান। ১২ আগস্ট (শুক্রবার) ছিলো জান্নাতুলের জন্মদিন। বর্ণাঢ্যভাবে জন্মদিন পালনের প্রলোভনে ওই নারী চিকিৎসককে তিনি হোটেলে আনেন।

অভিযুক্ত জানান, শুক্রবার রাতে তারা সুন্দরভাবে জন্মদিন উদযাপন করবেন প্রলোভনে তিনি ওই নারীকে নিয়ে আসেন। কিন্তু ১০ আগস্ট বাক-বিতণ্ডার এক পর্যায়ে অভিযুক্ত রেজা তার ব্যাগ থেকে ছুরি বের করে ওই নারীকে হত্যা করে।

রেজা স্বীকার করেছেন, বেশ কিছুদিন ধরে ওই নারী চিকিৎসককে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন।

হত্যার পর তিনি গোসল করে অন্য জামা পরিধান করে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র ও পরিধানের কাপড় নিয়ে বের হয়ে আসেন। এরপর তিনি চট্টগ্রামে গিয়ে এক নিকটাত্মীয়ের সহায়তায় একটি মেসে আশ্রয় নেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল রাজধানীর মগবাজার কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে এমবিবিএস পাস করেছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি বিষয়ের একটি কোর্সে পড়াশোনা করছিলেন।

অপরদিকে রেজাউল একটি বেসরকারি ব্যাংকে কর্মরত আছেন। 

 

মানবকণ্ঠ/পিবি


poisha bazar