মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে ট্রান্সজেন্ডার নারীকে নির্যাতন


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২৩ জানুয়ারি ২০২২, ২১:৫৯

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এক বাসায় ট্রান্সজেন্ডার নারী (রূপান্তরিত নারী) বিউটি ব্লগার সাদ বিন রাবী ওরফে সাদমুআকে নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। র্যাব বলছে, ফেসবুকে সাদমান আফিফ ওরফে রিশুর সঙ্গে পরিচয় হয় ট্রান্সজেন্ডার নারী বিউটি ব্লগার সাদমুআ’র। পরিচয় সূত্র ধরে গত ১০ জানুয়ারি রাজধানীর ভাটারায় একটি রেস্টুরেন্টে দেখা করেন তারা। এরপর সাদমুআ’কে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ফুয়াদ আমিন ইশতিয়াক ওরফে সানির ভাড়া করা ফ্ল্যাটে নিয়ে যান রিশু। সেখানে ফুয়াদ, নীরা ও রিশু ভিকটিমকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়ন করার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করেন। পরে তারা ভিকটিমের মোবাইল ফোন, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে আরো ১ লাখ টাকা দাবি করেন।

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনার মূলহোতা ইশতিয়াক আমিন ফুয়াদ ওরফে সানিসহ ৩ জনকে রাজধানীর ফার্মগেট ও মহাখালী থেকে গ্রেফতারের পর গতকাল রবিবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত তুলে ধরেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক ও মুখপাত্র কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়ার বাকি দুজন হলেন ফুয়াদের সহযোগী সাইমা শিকদার নিরা ওরফে আরজে নিরা (২৩) ও আব্দুল্লাহ আফিফ সাদমান ওরফে রিশুকে (১৯)। অভিযানে ভিকটিমের ছিনিয়ে নেয়া আইফোন উদ্ধারসহ জব্দ করা হয় প্রতারণার কাজে ব্যবহূত অবৈধ ওয়াকিটকি সেট, খেলনা পিস্তল, মোবাইল ও অন্যান্য সামগ্রী। গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র্যাবের মুখপাত্র কমান্ডার মঈন বলেন, একটি সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের সদস্য তারা। ইশতিয়াক ওরফে ফুয়াদ চক্রের মূলহোতা ও আরজে নীরা এবং সাদমান আফিফ ওরফে রিশু তার অন্যতম সহযোগী।

গ্রেফতারদের ট্রান্সজেন্ডার নারীকে হেনস্তা ও নির্যাতন সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ট্রান্সজেন্ডার বিউটি ব্লগার সাদ বিন রাবী ওরফে সাদমুআর সঙ্গে কিছুদিন পূর্বে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় রিশুর। পরিচয়ের সূত্রে ১০ জানুয়ারি ভাটারা বসুন্ধরা এলাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে রেস্টুরেন্টে ভিকটিমের সঙ্গে সাক্ষাত করে রিশু। সেখান থেকে সারপ্রাইজ দেয়ার কথা বলে কৌশলে ভিকটিমকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ইশতিয়াকের ভাড়াকৃত বাসায় নিয়ে যায়। সেখানেই ৩ জন মিলে ভিকটিমকে মারধর, শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়ন করার পাশাপাশি ভিডিও ধারণ করে। এরপর তারা ওই ট্রান্সজেন্ডারকে মেরে ফেলারও হুমকি দেয়। পরে প্রাণ ভিক্ষা চাইলে সাদমুআকে থানায় নিয়ে যাবে বলে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তায় ঘুরিয়ে রাত ৮টার দিকে রামপুরা এলাকায় একটি হাসপাতালের সামনে ফেলে যায়।

র্যাবের পরিচালক কমান্ডার আল মঈন বলেন, ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী গত শুক্রবার ভাটারা থানায় একটি মামলা (নম্বর-৩৫) দায়ের করেন। এরই ধারাবাহিকায় অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা করে র্যাবের একটি দল। তিনি বলেন, গ্রেফতার ইশতিয়াকের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় দুটি মামলা রয়েছে। ইতোপূর্বে বিভিন্ন মামলায় তিনি কারাভোগ করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতরা বিগত প্রায় ২ বছর যাবত নানাবিধ কৌশলে জিম্মি, ব্ল্যাকমেইল ও প্রতারণা করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নারী-পুরুষদের অর্থ হাতিয়ে আসছিল। তারা সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিভিন্ন জনের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে।

অতঃপর কৌশলে বিভিন্ন সময়ের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ভিকটিমকে হেনস্তা ও ব্ল্যাকমেইল করে। অপকর্মের জন্য তাদের ভাড়াকৃত বাসা ব্যবহার করে থাকে। যেখানে জোরপূর্বক আপত্তিকর ভিডিওগুলো ধারণ করে ব্ল্যাকমেইল করা হতো। এছাড়া অনলাইনেও ভিকটিমদের ফাঁদে ফেলে। এসব অপকর্ম করার ক্ষেত্রে তারা নিজেদেরকে সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে ভুয়া পরিচয় দিয়ে আসছিল।


poisha bazar


ads