• বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারি ২০২২
  • ই-পেপার

৫০তম মৈত্রী দিবস

দেশ জুড়ে 'ওয়ান বাংলাদেশ' এর কার্যক্রম


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৭ ডিসেম্বর ২০২১, ১২:০৬

মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় ৬ ডিসেম্বর। স্বাধীনতা ও বিজয়ের ৫০তম বছর উপলক্ষে দেশের ২৩ জেলায় বাংলাদেশ-ভারতের 'মৈত্রী দিবস' পালন করছে পেশাজীবীদের সংগঠন ওয়ান বাংলাদেশ। দুই হাজারের বেশি সদস্যকে নিয়ে রাজধানীসহ জেলা শহর ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নিয়ে মৈত্রী দিবস উদযাপন করা হয়। ১৯৭১ এ মিত্রবাহিনী তথা বাংলাদেশের বিজয় এবং ভারত সরকার কর্তৃক বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের ৫০তম বছরকে স্মরণীয় করে রাখতে 'ওয়ান বাংলাদেশ' একযোগে দেশের ২৫টি জেলায় ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অবস্থান নেয়।

সোমবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরের সামনে দিবসটিকে স্মরণ করে অবস্থান গ্রহণ করে ওয়ান বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি। বৈরি আবহাওয়ার কারণে র‍্যালী না করলেও এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করেন উপস্থিত আলোচকেরা।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে ওয়ান বাংলাদেশের সভাপতি অধ্যাপক মো. রশীদুল হাসান বলেন, দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত এই স্বাধীনতায় বাংলাদেশের মানুষকে সরাসরি সহায়তা করা দেশটির নাম ভারত। ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয় ভারত এ সময় যেই ত্যাগ স্বীকার করেছে তা ভোলার মত নয়। বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ প্রদানের পাশাপাশি সীমান্তে ভারত তার সীমান্তে আশ্রয় প্রদান করেছিলো আমার দেশের সেই মানুষদের যাদের জীবনের সবকিছু কেড়ে নিয়েছিলো পাকিস্তান সেনাবাহিনী। বিশ্ববাসীর কাছে পাকিস্তানের মুখোশ উন্মোচন করে। বাংলাদেশের মানুষের রক্তে ইয়াহিয়া-ভুট্টদের রক্তমাখা হাত দেখে চমকে যায় বিশ্ব। ৬ ডিসেম্বর ভারত যখন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, তখন এ সিদ্ধান্ত নেয়া খুবই কঠিন ছিলো। কিন্তু আন্তর্জাতিক সকল চাপ উপেক্ষা করে সেদিন বাংলাদেশের পাশে দাঁড়িয়েছিলো ভারত।

ওয়ান বাংলাদেশের সিলেট জেলার সভাপতি অধ্যাপক ড. নির্মল চন্দ্র রায় বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে অসামান্য অবদান রেখেছে ভারত। বাংলাদেশে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানের পর যখন সবকিছুই ছিলো অনিশ্চিত, এমন এক পরিস্থিতিতে ভারতের মাটিতে অস্থায়ী মুজিবনগর সরকার গঠন করতে দেয় ভারত। এই মুজিব নগর সরকারের মাধ্যমে যুদ্ধের পরবর্তী পরিকল্পনা, আন্তর্জাতিকভাবে সম্পর্ক গড়ে তোলা, বাংলাদেশের পক্ষ জনমত গড়ে তোলার মত কাজগুলো হয়েছিলো। স্বাধীনতার ৫০ তম বছরে এসে আজও অটুট রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের সেই সম্পর্ক। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এভাবেই সামনে এগিয়ে যেতে চাই আমরা।

৫০ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্রে হয়ে যাওয়া 'কনসার্ট ফর বাংলাদেশ'-কে স্মরণ করে সংগঠনটির জয়পুরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক শরিফুল আনোয়ার সুমন বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশ ফুটবল দলের খেলা ও এর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ আয়োজন করে তার মাধ্যমে বাংলাদেশের জন্য অর্থ সংগ্রহ, কূটনৈতিকভাবে বাংলাদেশের পক্ষে অবস্থান নেয়া সহ অসংখ্য ক্ষেত্রে রয়েছে ভারতের অবদান। দেশটির সর্বোচ্চ অবদান বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। আজ সেই ঐতিহাসিক দিন, যখন বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ভারত। তৎকালীন সময়ে ভারত স্বীকৃতি প্রদানের পরই রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ সরাসরি বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ায়। বাংলাদেশের অকৃত্রিম এক বন্ধু হিসেবে ভারতের ভূমিকার কথা স্মরণ করছি বাংলাদেশ-ভারত ৫০তম মৈত্রী দিবসের মাধ্যমে।

৫০তম মৈত্রী দিবসকে স্মরণ করে দেশ জুড়ে ওয়ান বাংলাদেশ 'মৈত্রী দিবস ২০২১' উদযাপন করে। দিনটিকে স্মরণ করে ওয়ান বাংলাদেশ কুষ্টিয়া পৌরসভা চত্বর, মেহেরপুর নিলকুঠি চত্বর, মাগুরায় বীর মুক্তিযোদ্ধা আসাদুজ্জামান স্টেডিয়াম, ঝিনাইদহে পায়রা চত্বর, চাঁদপুর প্রেস ক্লাব, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু চত্বর, রাঙ্গামাটি ডিসি অফিসের সামনে, কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, শেরপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় লাইব্রেরি, ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, দিনাজপুর, রংপুর বঙ্গবন্ধু চত্বর, জয়পুরহাট কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে, গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি সামনে, পাবনায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের পাদদেশে, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান করে। এ সময় বক্তারা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দৃঢ় সম্পর্কের বিষয়ে আলোকপাত করে।


poisha bazar

ads
ads