খাস জমিতে বসুন্ধরার প্লট কিনে দুশ্চিন্তায় গ্রাহকরা


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৯ মে ২০২১, ০৯:৫৪

বসুন্ধরা গ্রুপ থেকে প্লট ক্রয় করে দুশ্চিন্তার মধ্যে পড়েছেন গ্রাহকরা। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার বসুন্ধরার প্রজেক্টের অনেক জমির মালিক ইতোমধ্যে অভিযোগ করেছেন তাদের জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়া হয়েছে। মালিকানা জমি ছাড়াও সরকারি খাস জমি রাতের অন্ধকারে ভরাট করে প্লট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে বসুন্ধরা গ্রুপের বিরুদ্ধে।

আরও পড়ুন : বসুন্ধরার পেটে ডজনখানেক খাল

গ্রুপটির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই থানার যোগসাজশে ভিন্ন মামলার আসামি করে হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। রূপগঞ্জের একজন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এই এলাকায় বাস করতেছি দীর্ঘ দিন ধরে। এখানে আমার বাপ-দাদারা বাস করেছেন। কোনো দিন দেখিনি বসুন্ধরা গ্রুপকে এখানে জমি কিনতে। হঠাৎ করে শুনলাই কায়েতপাড়াসহ রূপগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় তাদের জমি আছে। অথচ ১০ বছর আগেও এখানে এমন ছিল না। আমার বাড়ির পাশে একটি খাল ছিল সেটা তারা দখল করে নিয়েছে। ওয়েলকেয়ার কনসোর্টিয়াম নামে একটি ডেভেলপমেন্ট কোম্পানীর জমিগুলোও জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে।’

আরও খবর : জমি নেই, প্লট বিক্রি করছে বসুন্ধরা

স্থানীয়রা জানান, শুধু খাল নয় আরো প্রায় সাড়ে ৩ হাজার বিঘা সরকারি এক নাম্বার খতিয়ানের খাস জমি দখল করে প্লট বিক্রি করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। কিছু কিছু প্লটে ইতোমধ্যে ঘরবাড়িও তৈরি করা হয়েছে। যার ফলে স্থানীয়রা পড়েছেন বিপাকে। আগে এই খালগুলো দিয়ে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকার সকল বৃষ্টির পানি বালু নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু সেই রাস্তাগুলো এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারি খাল দখলের ফলে এখন একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে থাকে।

আরও পড়ুন : রূপগঞ্জে বসুন্ধরা গ্রুপের জমি দখলের উৎসব!

এদিকে রূপগঞ্জ এলাকার জমি হারানো এক ভুক্তভোগী বলেন, নিজের জমি হারিয়ে আমরা এখন জিম্মি হয়ে পড়েছি। নিজের জমির দখল চাইব কার কাছে? গৃহায়ন ও গণপূর্ত দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রীদের বিষয়ে একমাত্র শেখ হাসিনা কথা বলতে পারেন। অথচ সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বরত একজন মন্ত্রীকে ধমক দিয়ে কথা বলেছিলেন বসুন্ধরার চেয়ারম্যান। বসুন্ধরার চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের এমন আচরণ আমাদের ভাবিয়ে তুলে। যেখানে মন্ত্রীই তার কাছ থেকে ধমক খেতে হয়, সেখানে আমাদের মতো ক্ষুদ্র মানুষদের অবস্থা কী? এক মাত্র প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ছাড়া বসুন্ধরার অত্যাচার থেকে কেউ রেহাই পাবে না।

আরও খবর : বসুন্ধরার ‘বালু’র কৌশলে জমির মালিকের সর্বনাশ

বসুন্ধরা গ্রুপের হয়রানির শিকার হওয়া অরেক এক যুবক বলেন, কেউ যদি প্রতিবাদ করেন তখন তাকে কিছু বলবে না। পরে তার নামে মামলা দিয়ে আটকাবে। দেয়া হবে একাধিক মামলা। আমার বিরুদ্ধে ৬টি মামলা দেয়া হয়েছে। আমি জমি নিয়ে কথা বলেছিলাম। কিন্তু পরে আমাকে চুরি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী, ধর্ষণের মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। মামলার ভয়ে মূলত কেউ মুখ খুলছেন না।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রশাসনের লোককে মোটা অংকের টাকা দিয়ে কিনে নেয় বসুন্ধরা গ্রুপ। বসুন্ধরা গ্রুপ যা বলে প্রশাসনও তাই করে। আমরা যারা স্থানীয় রয়েছি, তারা আছি বিপদে। বসুন্ধরা গ্রুপের লোকজন সরাসরি আসবে না। তাদের নিয়োগকৃত এজেন্ট দিয়ে হত্যার হুমকিও দেয়া হয়।



poisha bazar

ads
ads