মুনিয়ার মৃত্যু ধামাচাপা দিতে নানা কৌশলে অপপ্রচার


  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ০৮ মে ২০২১, ১০:৪২

আগাম জামিন না হলেও আনভীর কি দেশে আছেন, না বিদেশে পালিয়ে গেছেন তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। ঘটনার পর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক তৎপরতা দেখা গেলেও এখন তা অনেকটা স্তিমিত বলে অভিযোগ রয়েছে।

আলোচিত যে কোনো হত্যাকাণ্ডে ময়নাতদন্তের পর ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা রকম বক্তব্য দিলেও কলেজছাত্রী মোসারাত জাহান মুনিয়ার ময়নাতদন্তের পর তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি।

এদিকে মুনিয়ার মৃত্যুতে প্ররোচনাকারী হিসেবে বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে একমাত্র আসামি করে মামলা করেন মুনিয়ার বড়বোন নুসরাত জাহান। প্রায় দুই বছর যাবত স্বামী-স্ত্রীর মতো বসবাসকারী আনভীর-মুনিয়ার অসম প্রেম-পরিণতি নিয়ে সকল গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড় হলেও শুক্রবার পর্যন্ত আনভীর বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পায়নি গণমাধ্যম।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলেছে, দেশের সবচেয়ে প্রভাবশালী ও শীর্ষ ব্যবসায়ী গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এই মৃত্যুর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ ওঠায় তাদেরকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এক পা নড়তে পারছেন না।

এদিকে ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে নানা রকম তৎপরতা শুরু করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি ভিন্ন দিকে ফেরাতে সামাজিক প্রচার মাধ্যমসহ নিজেদের নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন গণমাধ্যমে উদ্ভট কল্পকাহিনী সাজিয়ে নানা লোকজনকে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। মুনিয়ার পরিবার, বিশেষ করে বোনকে নিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রশ্ন তোলা হচ্ছে মুনিয়ার চরিত্র নিয়েও।

পারিবারিক বিরোধের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মুনিয়ার ভাইকে কুমিল্লা থেকে ঢাকা এনে আদালতে মামলা করা হয়েছে। বোন নুসরাতকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হচ্ছে। সব মিলে চরম আতঙ্কের মধ্যে বাস করছে মুনিয়ার পরিবার-পরিজন।

তদন্ত সূত্র মতে, বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সায়েম সোবহান আনভীরের (৪২) সঙ্গে দুই বছর ধরে অনৈতিক প্রেমের সম্পর্কের পর মনোমালিন্যের জেরেই মুনিয়ার (২১) মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। উদ্ধার করা মুনিয়ার লেখা ৬টি ডায়েরি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের চ্যাটিং, ফোন কললিস্ট ও বেডরুমের দেয়ালে টাঙানো স্বামী-স্ত্রীর মতো ছবিসহ সংগৃহীত নানা আলামতে ওই কলেজছাত্রীর ‘আত্মহত্যায়’ আনভীরের বড় প্ররোচনার প্রমাণও মিলছে। আত্মহত্যার নাটক সাজাতে হত্যার পর ফ্যানের সঙ্গে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে কি না তাও গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্ত, ডিএনএ ও ভিসেরা প্রতিবেদনসহ ফরেনসিক পরীক্ষায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ওপর এ মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

আসামি বসুন্ধরার এমডি আনভীর যেন দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেদিকে বেশি নজর দিচ্ছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া মুনিয়ার ৬টি ডায়েরিতে সরাসরি সুইসাইড নোট না থাকলেও আসামির সঙ্গে মুনিয়ার সম্পর্কের টানাপড়েন ও সম্পর্কের স্বীকৃতি আদায় নিয়ে নানা বর্ণনা আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এই মামলার আসামি বসুন্ধরার এমডি যেন দেশত্যাগ করতে না পারে সে বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়ে ডিএমপির গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেন, আত্মহত্যার প্ররোচনায় আর কেউ জড়িত কিনা তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, দুটি পাসপোর্টধারী এই ব্যক্তি ২৬-২৭ ধারা অনুযায়ী দেশ ত্যাগ করেনি। আমরা ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের এই বক্তব্যকে প্রধান হিসেবে নিচ্ছি।

এদিকে মুনিয়ার মৃত্যুর পর একাধিক গণমাধ্যমের খবরে জানা যায়, আনভীরের এই অবৈধ ঘর-সংসার নিয়ে সবই জানতেন তার মাসহ পরিবারের সদস্যরাও। মা একাধিকবার মুনিয়াকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে ঢাকা থেকে কুমিল্লা পাঠিয়েছেন। আনভীর আবার তাকে নিয়ে এসেছে ঢাকায়।

কথিত পিয়াসাসহ পারিবারিক আরো অনেক মেয়ে বন্ধু এই ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা উঠেছে। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত তদন্তকারী কর্মকর্তারা আনভীরের মা কিংবা আনভীরের পরিবারের কোনো সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের কথা শোনা যায়নি। আনভীরের স্ত্রী পুরো ঘটনা জানলেও তাকে জিজ্ঞাসাবাদ না করে নির্বিঘ্নে বিদেশে যেতে দেয়া হয়েছে।

 

 



poisha bazar

ads
ads