বসুন্ধরার ‘বালু’র কৌশলে জমির মালিকের সর্বনাশ


  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৮ মে ২০২১, ১০:৩৬

বসুন্ধরা গ্রুপের রাতের আঁধারে ‘বালু ভরাট’ কৌশলের কাছে সর্বস্বান্ত হয়েছেন অনেক জমির মালিক। প্লট ব্যবসা করতে গিয়ে এমন কৌশল নিয়েছে ভূমিখেকো বসুন্ধরা গ্রুপ। সরকারি জমিকে টার্গেট করে পরে ব্যক্তি মালিকানার জমিও ভরাট করে গ্রুপটি। স্বল্প পরিমাণের জমির মালিকেরা এই গ্রুপের পোষ্য সন্ত্রাসীদের কারণে কোনো প্রতিবাদও করতে পারছেন না। বরং এই গ্রুপের পক্ষ থেকে যদি কিছু দেয়া হয় তা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়। না দিলে কোনো কথা বলার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, বসুন্ধরা গ্রুপ রাজধানীর প্রায় এক ডজন খাল গিলে ফেলেছে। এই খালগুলো বন্ধ থাকায় রাজধানীর পানি নিষ্কাশনের পথও বন্ধ রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই পানির নিচে তলিয়ে যায় রাজধানীর কিছু কিছু এলাকা। এছাড়া সরকারি খাল ভরাট করে প্লট তৈরি করে বিক্রি করেছে বসুন্ধরা গ্রুপ। এসব খালের নাম মানুষের মুখে থাকলেও বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।

এই খালগুলো এখন পুরাতন মানচিত্রে দেখা গেলেও বর্তমানে আর দেখা যায় না। সেখানে বালু আর বালু দেখা যায়। উল্লেখিত খালগুলো হলো- রশিদখালী খাল, ভাটেরা খাল, জোয়ারশারা খাল, বোয়ালীয়া খাল, কাঁঠালদিয়া খাল, সাতারকুল খাল, ডুমনী খাল ও বেরাদিয়া খাল। এই খালগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থাও করছে না প্রশাসন ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।

ডুমনী, নূরপাড়া ও পাতিরা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নব্বই দশকের দিকে এই তিন এলাকার খালগুলোয় মাছ ও পানি ছিল। কিন্তু বসুন্ধরা এসে এসব এলাকার সব খাল বালু দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। যার ফলে স্থানীয়রা পড়েছেন বিপাকে। আগে এই খালগুলো দিয়ে রাজধানীসহ আশপাশে এলাকার বৃষ্টির পানি বালু নদীতে গিয়ে পড়ত। কিন্তু তা এখন বন্ধ হয়ে গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী বলেন, আমাদের হাত-পা বাঁধা রয়েছে। এলাকার প্রভাবশালীরা বসুন্ধরার লোক। আমরা কিছু বললেই এখানে আর থাকতে পারবো না। বাপ-দাদার জমিও রাখতে পারিনি। আর কথা বললে তো মারবে।

তিনি আরো বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ সরকারের কিছু ব্যক্তিকে জিম্মি করে রেখেছে। কাউকে জমি দিয়ে, কাউকে নগদ অর্থ দিয়ে। তাই প্রশাসন এই হারিয়ে যাওয়া খালগুলো উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে না। কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বসুন্ধরা গ্রুপের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেখানে সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীকে ধমক দিতে দেখা যায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমদ আকবর সোবহানকে। তিনি তার ক্ষমতা দেখিয়েছেন। এই ভিডিওতে বোঝা যায় কীভাবে সরকারকে জিম্মি করে রেখেছে বসুন্ধরা গ্রুপ- এমনটাও বলছেন সেই ভুক্তভোগী।

সরেজমিনে দেখা যায়, বসুন্ধরা গ্রুপের জমির সীমানা এখন বালু নদীর তীরে গিয়ে ঠেকেছে। এর আশপাশের সকল জমিই রাতের আঁধারে বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখে বসুন্ধরার পেটে তাদের জমি - এমনটাও জানিয়েছেন এক ভুক্তভোগী।

বসুন্ধরা গ্রুপের এমন কর্মকাণ্ড শুধু রাজধানীর ভেতরের চিত্র নয়, বর্তমানে এটা নারায়ণগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের অনেক জেলার চিত্র। বসুন্ধরা শুধু ঢাকায় তাদের অপকর্ম সীমাবদ্ধ রয়েছে তা নয়, বিভিন্ন জেলাতেও বালু ভরাটের কৌশলে জমি দখল করছে।

 



poisha bazar

ads
ads