ইরফানকে বাঁচানোর চেষ্টায় সহযোগীরা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ২৯ অক্টোবর ২০২০, ১৭:৩৪

সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমকে বাঁচাতে নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার দায় নিজেদের ঘাড়ে নিতে চেষ্টা করছেন তারা সহযোগীরা। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে, পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সহযোগীরা বলেছেন- ইরফানের কোনও নির্দেশনা ছাড়াই তারা গাড়ি থেকে নামে এবং মারধর করে।

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার ঘটনায় সংসদ সদস্য হাজি সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিমের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় দায়ের হওয়া মামলাটি তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবি। তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদের উদ্দেশ্যে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ধানমন্ডি মডেল থানার হাজতখানা থেকে মিন্টো রোডে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ কার্যালয়ে নেওয়া হয় ইরফান ও তার সহযোগীদের। ইরফান সেলিম, তার দেহরক্ষী জাহিদ ও হাজি সেলিমের একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এ বি সিদ্দিক ওরফে দীপুর বিরুদ্ধে তিন দিনের যে রিমান্ড আদেশ হয়েছে, এই সময় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে ডিবির তেজগাঁও গোয়েন্দা বিভাগ। বুধবার রাতেই ধানমন্ডি মডেল থানায় তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে থানা পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ সূত্র বলছে, আসামিদের মুখোমুখি বসিয়ে সেদিনের ঘটনা জানতে চাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা বলে, ইরফানের কোনও নির্দেশনা ছাড়াই তারা গাড়ি থেকে নামে এবং মারধর করে।

এর আগে গতকাল বুধবার রাতে (২৮ অক্টোবর) মামলাটি ডিবিতে হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি মডেল থানার ওসি ইকরাম আলী মিয়া। তিনি জানান, ‘মামলাটির তদন্তভার ডিবির তেজগাঁও বিভাগে হস্তান্তর করার আদেশ হয়েছে। মামলার নথিপত্র যা আমাদের কাছে আছে, তা এখনও হস্তান্তর করিনি। সেটা নিয়েই কাজ করছি। সকালের দিকে আসামিদের হস্তান্তর করবো।’

অন্যদিকে র‌্যাবের দায়ের করা অস্ত্র ও মাদক আইনের মামলায়ও ইরফান ও জাহিদের সাত দিন করে রিমান্ডের আবেদন করা হবে বলেও জানা গেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে হাজি সেলিমের ছেলে ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে ধানমন্ডি থানায় হত্যাচেষ্টার মামলা করেন নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট ওয়াসিফ আহমদ খান। মামলার আসামিরা হলেন, এরফান সেলিম, তার বডিগার্ড মোহাম্মদ জাহিদ, হাজি সেলিমের মদিনা গ্রুপের প্রটোকল অফিসার এবি সিদ্দিক দিপু এবং গাড়িচালক মিজানুর রহমানসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জন।

গত রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে কলাবাগানের ট্রাফিক সিগন্যালে হাজি সেলিমের একটি গাড়ি থেকে দুই-তিন ব্যক্তি নেমে ওয়াসিম আহমেদ খানকে ফুটপাতে ফেলে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। পরে ট্রাফিক পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করেন। পথচারীরা এই দৃশ্য ভিডিও করেন, যা মুহূর্তেই ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে যায়। ধানমন্ডি থানা পুলিশ এসে ঘটনাস্থল থেকে গাড়িটি থানায় নিয়ে যায়।

ওয়াসিফ আহমেদ এজাহারে অভিযোগ করেন, তিনি নীলক্ষেত থেকে বই কিনে মোটরসাইকেলে মোহাম্মদপুরের বাসায় ফিরছিলেন। তার স্ত্রীও সঙ্গে ছিলেন। ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে তার মোটরসাইকেলটিকে পেছন থেকে একটি গাড়ি ধাক্কা দেয়। ওয়াসিম আহমেদ মোটরসাইকেল থামিয়ে গাড়িটির গ্লাসে নক করে নিজের পরিচয় দিয়ে ধাক্কা দেওয়ার কারণ জানতে চান। তখন এক ব্যক্তি বের হয়ে তাকে গালিগালাজ করে গাড়িটি চালিয়ে কলাবাগানের দিকে চলে আসে। মোটরসাইকেল নিয়ে ওয়াসিফ আহমেদও তাদের পেছনে পেছনে আসেন। কলাবাগান বাসস্ট্যান্ডে গাড়িটি থামলে ওয়াসিফ তার মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়ির সামনে দাঁড়ান। তখন তিন-চার জন লোক গাড়ি থেকে নেমে বলতে থাকে, ‘তোর নৌবাহিনী/সেনাবাহিনী বাইর করতেছি, তোর লেফটেন্যান্ট/ক্যাপ্টেন বাইর করতেছি। তোকে আজ মেরেই ফেলবো’। এই বলে তাকে কিলঘুষি দিতে থাকে। এরপর তারা পালিয়ে যায়।

সোমবার করা মামলায় ওইদিন দুপুরে র‌্যাব পুরান ঢাকার চকবাজারে হাজি সেলিমের বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ইরফান সেলিম ও জাহিদকে র‌্যাব তাদের হেফাজতে নেয়। বাসায় অবৈধভাবে মদ ও ওয়াকিটকি রাখার দায়ে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত তাদের দুই জনকে দেড় বছর করে কারাদণ্ড দেন। র‌্যাব তাদের দুই জনের বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে দুটি করে চারটি মামলা দায়ের করেছে।






ads