করোনা ভেবে বৃদ্ধা মাকে রাস্তায় ফেলে গেল সন্তানেরা


poisha bazar

  • অনলাইন ডেস্ক
  • ০৬ জুন ২০২০, ২৩:২২

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে এক মাকে রাস্তায় ফেলে পালিয়েছে তার সন্তানেরা। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে তিনদিন পড়ে থাকার পর হতভাগ্য মা মনোয়ারাকে (৫৫) উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলের ক্যাম্প পুলিশ। এ ঘটনায় উদ্বেগ জানিয়ে চিকিৎসকরা বলছেন কারো শ্বাসকষ্ট হলেই কোভিড আক্রান্ত ভেবে নেয়া ঠিক নয়।

শনিবার (০৬ জুন) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের পাশের রাস্তা থেকে ৫০ বছর বয়সী মনোয়ারা বেগমকে উদ্ধার করেন মেডিকেল ক্যাম্প পুলিশ। ভর্তি করা হয়েছে করোনা ইউনিটে।

ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া বলেন, করোনা আক্রান্ত সন্দেহে স্বজনরা তাকে হাসপাতালের নতুন ভবনের সামনে ফেলে গিয়েছিল। খবর পেয়ে দুপুরে তাকে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। তিনি করোনা আক্রান্ত কি না পরীক্ষার পর তা জানা যাবে। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো নয়।

ঢামেক সূত্র জানায়, মিরপুর কমার্স কলেজের পাশের বস্তিতে আবদুস সালাম নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন ঘরে পরিবারের সঙ্গে থাকেন মনোয়ারা। তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার জয়রামপুর এলাকায়। সম্প্রতি শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়ায় ঘরের মালিক তাকে বস্তিতে রাখা ঠিক হবে না বলে জানিয়ে দেন। তাকে অন্য কোথাও রেখে আসার কথাও বলেন। এরপর মনোয়ারার ছেলে মোজাম্মেল ও ঘরের মালিক সালাম তাকে হাসপাতালের সামনে ফেলে যান।

এ ঘটনাটি দু’দিন আগের বলে জানান মনোয়ারা। তবে অসুস্থ থাকায় তিনি তারিখটি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে পারেননি। ফেলে যাওয়ার পর হতভম্ব অবস্থায় কী করবেন বুঝতে পারছিলেন না তিনি। শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় কাউকে ডেকে কিছু বলতেও পারেননি। আবার ফুটপাতে প্রায় সবসময়ই কিছু ভবঘুরে মানুষ থাকেন বলে তার বিষয়টি প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি। শেষে শনিবার তার অসুস্থতা নজরে আসে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের। এরপর তারা পুলিশকে জানান। দুপুর দেড়টার দিকে তাকে উদ্ধার করে করোনা ইউনিটে ভর্তি করে পুলিশ।

অধ্যাপক ডা. সৈয়দ সহিদুল বলেন, শ্বাসকষ্ট হয়েছে বলেই কাউকে করোনা শনাক্ত করে রাস্তায় ফেলে দেয়া যাবে না। এ ধরনের অমানবিক ঘটনার ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ। বস্তিতে রাখার ক্ষেত্রে সমস্যা হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে দিতে পারতেন স্বজনরা। তা না করে এমনভাবে রাস্তায় ফেলে যাওয়া গর্হিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। এ বিষয়ে জনসচেতনতা জরুরি।




Loading...
ads






Loading...