বাড়ি দখলের চেষ্টা : এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালাল বরুয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুল্লাহ


poisha bazar

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ৩১ মে ২০২০, ২৩:১৪,  আপডেট: ৩১ মে ২০২০, ২৩:১৭

রাজধানীর খিলক্ষেত বরুয়া এলাকার সন্ত্রাসীদের গডফাদার ও চাঁদাবাজ আজিজুল্লাহকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী। রোববার বরুয়া এলাকার একটি তালাবদ্ধ বাড়ি দখল করতে গেলে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে পালিয়ে যান আজিজুল্লাহ।

স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বরুয়া এলাকার সাইফুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি তার বাড়িতে স্বেচ্ছায় তালা মেরে রাখেন। তালাবদ্ধ বাড়িটিকে নিজের বলে দাবি করে দখলে নেয়ার চেষ্টা করে স্থানীয় সন্ত্রাসী আজিজুল্লাহসহ তার সাঙ্গোপাঙ্গরা। সেখানে গিয়ে তারা বাড়ির মালিক সাইফুল ইসলামের কাছে মোটা অংকের চাঁদাও দাবি করে সে। এ খবর স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছে পৌঁছে যাওয়ার পর সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ধর্ষক ও আপন ভাইদের সম্পত্তি দখলবাজ আজিজুল্লাহকে আটকের চেষ্টা করে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। কিন্তু অবস্থা বেগতিক দেখে মুহূর্তেই আতংক ছড়িয়ে সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে পালিয়ে যায় আজিজুল্লাহ। এ ঘটনার পরপরই এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে খুঁজতে থাকে আজিজুল্লাহকে। তারা এলাকায় মাইকিং করে আজিজুল্লাহকে দেখামাত্র আটক করে পুলিশে দেয়ারও আহ্বান জানায়।

এদিকে সন্ত্রাসী আজিজুল্লাহকে গ্রেফতার করতে মাঠে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও। পুলিশের উচ্চ পর্যায় থেকেও বলা হয়েছে বরুয়া এলাকার সন্ত্রাসের এ গডফাদারকে গ্রেফতার করতে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ আজিজুল্লাহ ও তার ছেলে আল আমিন এলাকায় একটি বাহিনী তৈরি করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসা, জমি দখল ও সুন্দরী নারীদের নিয়ে অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে তারা। দীর্ঘদিন ভয়ে চুপ থাকলেও আজিজুল্লাহর বিরুদ্ধে এবার সোচ্চার হয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসী।

তারা জানান, জাল দলিলের মাধ্যমে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আপন ভাই শরিফ শিকদার, বোরহান শিকদার ও শহীদুল্লাহ শিকদারের সম্পত্তি দখল করেছে আজিজুল্লাহ। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ভাইদের প্রাণনাশের হুমকি দিলেও কেউ প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করতে পারেননি। কিন্তু শেষমেশ রোববার সাইফুল ইসলামের বাড়ি দখল করে তার কাছে চাঁদাবাজি করতে গেলে এলাকাবাসীর ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যায় আজিজুল্লাহ।

এলাকাবাসী জানান, আজিজুল্লাহর বিরুদ্ধে গোটা বরুয়াবাসী এক হয়েছে। তার আর রক্ষা নেই। বরুয়া এলাকাকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য বানিয়েছে এ আজিজুল্লাহ ও তার ছেলে আল আমিন। দীর্ঘদিন তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।

এলাকাবাসী আরো জানান, তারা এসব অপকর্মের বিরুদ্ধে এক হয়েছেন। আজিজুল্লাহকে আটক করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করা হবে। দেশে লকডাউন পরিস্থিতি না থাকলে মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হতো তার বিরুদ্ধে।

অপরদিকে আজিজুল্লাহর বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ, উঠতি বয়সের সুন্দরী মেয়েদের ইভটিজিং ও ধর্ষণের। অনেক অভিভাবক সামাজিক আত্মমর্যাদা ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ভয়ে মুখ খোলেন না। তবে এবার তাদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেছে। সবাই স্বোচ্চার হয়ে প্রকাশ্যে বিচার দাবি করছে আজিজুল্লাহর। তারা বলেন, ‘আজিজুল্লাহ ও তার ছেলে আল আমিনের অপকর্মের বিরুদ্ধে আমরা এখন মাঠে আছি। তাকে আটকের পর শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরব না।’

ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বাড়িতে আমি তালা মেরেছি, সন্ত্রাসী আজিজুল্লাহ এই সুযোগে আমার বাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে। আমি তাকে কেন চাঁদা দেব! জায়গা ও বাড়ি আমার। সন্ত্রাসের গডফাদার বরুয়া এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী আজিজুল্লাহর বিচার চাই। এলাকাবাসীকে ধন্যবাদ, তারাও এখন আজিজুল্লাহর আইনি বিচারের দাবিতে মাঠে নেমেছে।’

অন্যদিকে এলাকাবাসীও জানায়, সন্ত্রাসী আজিজুল্লাহকে গ্রেফতার করে শিগগিরই আইনের আওতায় না আনলে এলাকার লোকজন আরো ফুঁসে উঠবে।

 




Loading...
ads






Loading...